ভূরাজনীতির খেলায় প্রবল চাপে অর্থনীতি, কী করবে ভারত?

চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা বিলম্বে প্রকাশ পেতে পারে এবং এর ফলে ভারতের তারল্য সংকোচন, বৈদেশিক পুঁজি প্রবাহে বিঘ্ন এবং রুপির উপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় পার্লামেন্টে উপস্থাপিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পুঁজি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে ভারতের আগামী বছরে তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক পুঁজি সংরক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেবলকয়েনের আবির্ভাবসহ সম্ভাব্য পুঁজি পাচারও একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আগাম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং রপ্তানি আয় নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ দেশীয় উৎপাদন বাড়লেও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বাড়বে—এটি অনিবার্য। আরও পড়ুন>>নির্বাচন মানেই কি অর্থনীতির অস্থিরতা?ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায়’ ডলারের দাম ৪ বছরে সর্বনিম্নডাল আমদানিতে ভারতের ‘অন্যায্য’ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষো

ভূরাজনীতির খেলায় প্রবল চাপে অর্থনীতি, কী করবে ভারত?

চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা বিলম্বে প্রকাশ পেতে পারে এবং এর ফলে ভারতের তারল্য সংকোচন, বৈদেশিক পুঁজি প্রবাহে বিঘ্ন এবং রুপির উপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় পার্লামেন্টে উপস্থাপিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পুঁজি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে ভারতের আগামী বছরে তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক পুঁজি সংরক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেবলকয়েনের আবির্ভাবসহ সম্ভাব্য পুঁজি পাচারও একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আগাম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং রপ্তানি আয় নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ দেশীয় উৎপাদন বাড়লেও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বাড়বে—এটি অনিবার্য।

আরও পড়ুন>>
নির্বাচন মানেই কি অর্থনীতির অস্থিরতা?
ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায়’ ডলারের দাম ৪ বছরে সর্বনিম্ন
ডাল আমদানিতে ভারতের ‘অন্যায্য’ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ, ট্রাম্পকে চিঠি

‘ভূরাজনীতির শিকার’ ভারত

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভারত ভূরাজনীতির শিকার। রুপির বর্তমান মূল্যায়ন ভারতের ‘দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি’ পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না, যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে দ্বিধা তৈরি করছে।

সমীক্ষায় বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা অবমূল্যায়িত রুপি ক্ষতিকর নয়, কারণ এটি একদিকে মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব আংশিকভাবে সামাল দেয় এবং অন্যদিকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও কম। তবে এতে বিনিয়োগকারীরা থমকে যাচ্ছেন—এই অনীহা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক সংকটের তিন সম্ভাব্য দৃশ্যপট

২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক সংকটের তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট তুলে ধরে সমীক্ষায় বলা হয়েছে—সব ক্ষেত্রেই ভারতের জন্য বড় ঝুঁকি হবে পুঁজি প্রবাহে বিঘ্ন এবং তার সরাসরি প্রভাব রুপির ওপর পড়া।

প্রথম দৃশ্যপট হিসেবে ধরা হয়েছে ‘২০২৫ সালের মতোই ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে’। একে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি বলা হলেও সেটি ক্রমেই ভঙ্গুর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দৃশ্যপটের সম্ভাব্যতা ধরা হয়েছে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় দৃশ্যপটে রয়েছে ‘বিশৃঙ্খল বহুমুখী ভাঙন’, যার সম্ভাব্যতাও ৪০-৪৫ শতাংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অমীমাংসিত থাকবে, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা বাড়বে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল রাজনৈতিক চাপে পুনর্বিন্যাস হবে। এই পরিস্থিতিতে দেশগুলোর সামনে স্বায়ত্তশাসন, প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে কঠিন সমঝোতা তৈরি হবে।

তৃতীয় দৃশ্যপটের সম্ভাব্যতা ধরা হয়েছে ১০-২০ শতাংশ। এতে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক চাপ একে অপরকে শক্তিশালী করে একটি বড় মাত্রার ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে। সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে তারল্য সংকোচন, পুঁজি প্রবাহে আকস্মিক পতন এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষামূলক অর্থনৈতিক নীতি জোরদার হতে পারে। এর প্রভাব দুই হাজার আট সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিযোগিতা বাড়ছে

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ফলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে পুঁজির জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনীতি ভারতের বড় শক্তি হলেও অবকাঠামো খাতে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আসছে না।

ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে কর ছাড়, শুল্ক সুবিধা, স্বল্পসুদে ঋণ, ভিসা সুবিধা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রণোদনার কথা বলা হয়েছে।

সবশেষে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল হতে পারে এমন একটি সময়, যখন নীতি–বিশ্বাসযোগ্যতা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কেবল গুণ নয়, বরং কৌশলগত সম্পদে পরিণত হবে। ভারতের জন্য প্রয়োজন ‘রক্ষণাত্মক হতাশা’ নয়, বরং ‘কৌশলগত সংযম’।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow