ভেনেজুয়েলার মতো কৌশল কি ইরানের ক্ষেত্রেও খাটাবে যুক্তরাষ্ট্র?

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এই একই কৌশল কি ইরানের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারে ওয়াশিংটন? বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘বিশ্ব বদলে যাচ্ছে’। তার এ মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পাল্টে যাচ্ছে।  ভেনেজুয়েলায় তেলবাহী জাহাজ আটক, সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ ও সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অনেকেই মনে করছেন, লাতিন আমেরিকার মতো মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য অঞ্চলেও একই ‘মডেলের’ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এতদিন চালু ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে সেটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাগুলোকে তারা মার্কিনবিরোধী ও অকার্যকর বলে মনে করছে। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, তার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে ব্যক্তিগত বিচারবোধ ও বাস্তব হিসাবের ওপর নির্ভর করে। ইরান নিয়ে উদ্বেগ ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্ত

ভেনেজুয়েলার মতো কৌশল কি ইরানের ক্ষেত্রেও খাটাবে যুক্তরাষ্ট্র?

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এই একই কৌশল কি ইরানের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারে ওয়াশিংটন? বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘বিশ্ব বদলে যাচ্ছে’। তার এ মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পাল্টে যাচ্ছে। 

ভেনেজুয়েলায় তেলবাহী জাহাজ আটক, সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ ও সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অনেকেই মনে করছেন, লাতিন আমেরিকার মতো মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য অঞ্চলেও একই ‘মডেলের’ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এতদিন চালু ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে সেটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাগুলোকে তারা মার্কিনবিরোধী ও অকার্যকর বলে মনে করছে। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, তার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে ব্যক্তিগত বিচারবোধ ও বাস্তব হিসাবের ওপর নির্ভর করে।

ইরান নিয়ে উদ্বেগ

ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এতে করে ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর ইরানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

ওয়াশিংটনের বিশ্লেষক থমাস ওয়ারিক মনে করেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে একেবারে একইভাবে দেখা হচ্ছে না। ভেনেজুয়েলা বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধ নীতির অংশ, আর ইরান যুক্ত আছে পারমাণবিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর মানে এই নয় যে ইরান নিরাপদ।

তার মতে, ট্রাম্প চাইলে নৌ অবরোধের বদলে আরও কঠোর পথ বেছে নিতে পারেন—যেমন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনাও ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা’ দেখায়।

আইনি বিতর্ক

আরেক বিশ্লেষক প্যাট্রিক ক্লসন বলেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় ইরানের জাহাজ আটক করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি জটিল। তবে তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে ভুয়া পতাকা ব্যবহার করলে ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আছে।

অন্যদিকে গবেষক রাদওয়ান জিয়াদে সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সেই আইনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোও নিজেদের স্বার্থে আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলার প্রভাব ভবিষ্যতে ইরানসহ অন্য সংকটপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow