ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আঁতাত ফাঁস

চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন আঁতাতের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে।  শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ছিলেন। আলোচনায় জড়িত চারটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ডেলসি ও জর্জ রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কর্মকর্তাদের আগেই জানিয়েছিলেন যে, তারা মাদুরোর বিদায়কে স্বাগত জানাবেন। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ শুরু হয় গত শরতে। নভেম্বরের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাদুরোর গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পরও তা অব্যাহত থাকে। ওই ফোনালাপে ট্রাম্প মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার দাবি জানান, যা মাদুরো প্রত্যাখ্যান করেন। ডিসেম্বর নাগাদ ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানা

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আঁতাত ফাঁস
চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন আঁতাতের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে।  শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ছিলেন। আলোচনায় জড়িত চারটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ডেলসি ও জর্জ রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কর্মকর্তাদের আগেই জানিয়েছিলেন যে, তারা মাদুরোর বিদায়কে স্বাগত জানাবেন। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ শুরু হয় গত শরতে। নভেম্বরের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাদুরোর গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পরও তা অব্যাহত থাকে। ওই ফোনালাপে ট্রাম্প মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার দাবি জানান, যা মাদুরো প্রত্যাখ্যান করেন। ডিসেম্বর নাগাদ ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। আলোচনায় যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ডেলসি বলেছিলেন, ‘মাদুরোকে যেতে হবে। এরপর যা ঘটবে, আমি সেটার সঙ্গে কাজ করব।’ সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এই ধরনের যোগাযোগ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে পরে তিনি মনে করেন, মাদুরো বিদায়ের পর অরাজকতা এড়াতে ডেলসি রদ্রিগেজের দেওয়া আশ্বাসই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ। দুই দেশের নেতাদের গোপন সম্পর্কের এ তথ্য আগে প্রকাশ পায়নি। এর আগে অক্টোবরে মায়ামি হেরাল্ড জানিয়েছিল, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় মাদুরো পদত্যাগ করলে ডেলসি রদ্রিগেজ নিজেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোও মাদুরো অপারেশনের কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। তবে সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে, ডেলসি ও জর্জ রদ্রিগেজ সরাসরি মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেননি। তারা কেবল মাদুরোর বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার কথা বলেন। অর্থাৎ এটি কোনো পরিকল্পিত অভ্যুত্থান ছিল না। অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজেই আলোচনার বিষয়টি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে স্বীকার করেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, আমরা তার সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি। তিনি বুঝেছেন। এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এছাড়া হোয়াইট হাউসও বিস্তারিত প্রশ্নের জবাব দেয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোপন যোগাযোগের পাশাপাশি মাদুরো সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক আলোচনাও চলছিল। ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় মাদুরো তার উপদেষ্টা রিক গ্রেনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এরপর দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রে আটক ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের মুক্তি দেওয়া হয়। ডেলসি রদ্রিগেজের কাতারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে গোপন আলোচনায় ডেলসির জন্য পথ সুগম করে। অক্টোবরে ডেলসি রদ্রিগেজ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, মাদুরো নিরাপদ আশ্রয়ে অবসর নিলে তার নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল মাদুরো বিদায়ের পর ভেনেজুয়েলাকে অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে যাওয়া থেকে রক্ষা করা। এক কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া ঠেকানো। জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হেলিকপ্টার কারাকাসে প্রবেশ করার সময় ডেলসি রদ্রিগেজ প্রকাশ্যে কোথাও ছিলেন না। তখন গুজব ছড়ায় তিনি মস্কো পালিয়ে গেছেন। তবে দুটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ভেনেজুয়েলার পর্যটন এলাকা মার্গারিটা দ্বীপে অবস্থান করছিলেন।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow