ভেড়ার লোমের ঐতিহ্য রক্ষায় নীরব সংগ্রামী আব্দুল খালেক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শীতবস্ত্রের তালিকায় ভেড়ার লোমের কম্বল এক সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃত্রিম কম্বলের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে এই প্রাচীন শিল্প। তবুও সব প্রতিকূলতার মাঝেও নীরবে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন সদর উপজেলার নয়াগোলা গ্রামের প্রবীণ কারিগর আব্দুল খালেক। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবা একরামুল হকের হাত ধরে ভেড়ার লোম থেকে কম্বল তৈরির কাজ শেখেন আব্দুল খালেক। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও কাজের চাপে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বয়স সত্তরের কোঠায় পৌঁছালেও এখনো নিজ বাড়ির ছোট কর্মশালায় নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। আব্দুল খালেক জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেড়া পালনের ফলে বছরে অন্তত দুইবার ভেড়ার গায়ের লোম কেটে ফেলতে হয়। বিশেষ ধরনের কাঁচি দিয়ে এই লোম কাটেন তিনি। এই লোমই কম্বল তৈরির প্রধান কাঁচামাল। অনেক সময় বিনা পয়সায় লোম পাওয়া যায়, আবার কখনো উল্টো লোম কাটার জন্য পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। পরে লোম পরিষ্কার করে চরকার মাধ্যমে সুতা তৈরি করা হয়। সেই সুতা দিয়েই হস্তচালিত কাঠের তাঁতে বোনা হয় ভেড়ার লোমের কম্বল। এক যুগ আগেও নয়াগোলা ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৫০টি পরিব
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শীতবস্ত্রের তালিকায় ভেড়ার লোমের কম্বল এক সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃত্রিম কম্বলের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে এই প্রাচীন শিল্প। তবুও সব প্রতিকূলতার মাঝেও নীরবে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন সদর উপজেলার নয়াগোলা গ্রামের প্রবীণ কারিগর আব্দুল খালেক।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবা একরামুল হকের হাত ধরে ভেড়ার লোম থেকে কম্বল তৈরির কাজ শেখেন আব্দুল খালেক। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও কাজের চাপে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বয়স সত্তরের কোঠায় পৌঁছালেও এখনো নিজ বাড়ির ছোট কর্মশালায় নিয়মিত কাজ করছেন তিনি।
আব্দুল খালেক জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেড়া পালনের ফলে বছরে অন্তত দুইবার ভেড়ার গায়ের লোম কেটে ফেলতে হয়। বিশেষ ধরনের কাঁচি দিয়ে এই লোম কাটেন তিনি। এই লোমই কম্বল তৈরির প্রধান কাঁচামাল। অনেক সময় বিনা পয়সায় লোম পাওয়া যায়, আবার কখনো উল্টো লোম কাটার জন্য পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। পরে লোম পরিষ্কার করে চরকার মাধ্যমে সুতা তৈরি করা হয়। সেই সুতা দিয়েই হস্তচালিত কাঠের তাঁতে বোনা হয় ভেড়ার লোমের কম্বল।
এক যুগ আগেও নয়াগোলা ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৫০টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ও সরকারি সহায়তার অভাবে অধিকাংশ কারিগর পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ভেড়ার লোমভিত্তিক এই শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিসিকের ভারপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাজিদুল ইসলাম জানান, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
বর্তমানে আব্দুল খালেক ভেড়ার লোম দিয়ে কম্বল ছাড়াও জায়নামাজ, মাফলারসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র তৈরি করছেন। পণ্যের ধরন, নকশা ও তৈরিতে সময়ের ওপর নির্ভর করে এসব পণ্যের দাম ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
সোহান মাহমুদ/এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?