ভোট দিয়েও নির্বাচন নিয়ে যে কারণে হতাশ অভিনেতা তারিক আনাম খান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খানও ভোট দিয়েছেন বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে। ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‌‘১৯৯১ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছি। ভোট দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব। তবে ভোট নিয়ে বিশেষ কোনো আবেগ কাজ করছে না। এটা আমার দায়িত্ব, সেটাই পালন করি।’ নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, “কোনো দল তাদের ইশতেহারে সংস্কৃতি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। দেশের সংস্কৃতি কীভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেই। এটা হতাশাজনক। অথচ আমাদের সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসব বা অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক আসরে যাচ্ছে। সংস্কৃতি একটি দেশের পরিচয় বহন করে। এটাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পরিবেশ দূষণ ও রাজধানীর অব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। ‘হানাহানি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বন্ধ হোক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দরকার। ঢাকার জলাবদ্ধতা ও মশার সমস্যা সমাধান করতে হবে। শহরটি দিন দিন অপরিষ্ক

ভোট দিয়েও নির্বাচন নিয়ে যে কারণে হতাশ অভিনেতা তারিক আনাম খান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খানও ভোট দিয়েছেন বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে।

ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‌‘১৯৯১ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছি। ভোট দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব। তবে ভোট নিয়ে বিশেষ কোনো আবেগ কাজ করছে না। এটা আমার দায়িত্ব, সেটাই পালন করি।’

নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, “কোনো দল তাদের ইশতেহারে সংস্কৃতি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। দেশের সংস্কৃতি কীভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেই। এটা হতাশাজনক। অথচ আমাদের সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসব বা অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক আসরে যাচ্ছে। সংস্কৃতি একটি দেশের পরিচয় বহন করে। এটাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পরিবেশ দূষণ ও রাজধানীর অব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। ‘হানাহানি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বন্ধ হোক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দরকার। ঢাকার জলাবদ্ধতা ও মশার সমস্যা সমাধান করতে হবে। শহরটি দিন দিন অপরিষ্কার হয়ে পড়ছে, বসবাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। বিকেন্দ্রীকরণ খুব প্রয়োজন’, -মন্তব্য তারিক আনামের।

সম্প্রতি কাপ্তাইয়ে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝেও প্লাস্টিকের বোতল পড়ে থাকতে দেখেছি। দূষণ নিয়ে অনেক কথা হয়, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বুড়িগঙ্গার দিকে তাকানো যায় না। দূষণ ও দুর্গন্ধ ভয়াবহ। শুধু ক্ষমতার চেয়ারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না।’

বর্তমান কাজের পরিস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন অভিনেতা। ‘টেলিভিশন নাটক, থিয়েটার; সব জায়গায় কাজের অবস্থা ভালো না। অনেক শিল্পী-কর্মী কর্মহীন অবস্থায় আছেন। ‘সোলজার’ সিনেমার তিন-চার দিনের শুটিং বাকি, ‘ট্রাইবুনাল’-এরও কাজ শেষ হয়নি। নির্বাচনের কারণে প্রযোজকরা অপেক্ষা করছেন’, - বলেন তিনি।

তবে সব হতাশার মাঝেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী তারিক আনাম। তার প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে এবং সংস্কৃতি ও নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow