ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, সতর্ক থাকুন : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, 'ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, সবাই সতর্ক থাকুন।' তিনি বলেছেন, 'দেশি ও বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে খবর এসেছে, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো ব্যালট পেপার একটি দল দখল করেছে। আগামীতে ভোট বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে। ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাই অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকবেন।' আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাত পেরিয়ে শুক্রবার রাত পৌনে ১ টায় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে শুরু করে একাধিক জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আসেন। এসময় কিশোরগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের দেখিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই পাঁচজনকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। এদের জয়যুক্ত করে আপনারা আপনাদের হিসাব বুঝে নেবেন। আপনার এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বুঝে নেবেন। আপনার সমস্যার সমাধান বুঝে নেবেন।’ বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণের একটি দায়িত্ব আছে, ভোটারদেরও দায়িত্ব আছে। সবাইকে মিলেই তো দেশ গড়তে হবে। দেশ গড়তে হল

ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, সতর্ক থাকুন : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, 'ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, সবাই সতর্ক থাকুন।'

তিনি বলেছেন, 'দেশি ও বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে খবর এসেছে, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো ব্যালট পেপার একটি দল দখল করেছে। আগামীতে ভোট বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে। ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাই অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকবেন।'

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাত পেরিয়ে শুক্রবার রাত পৌনে ১ টায় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে শুরু করে একাধিক জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আসেন।

এসময় কিশোরগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের দেখিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই পাঁচজনকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। এদের জয়যুক্ত করে আপনারা আপনাদের হিসাব বুঝে নেবেন। আপনার এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বুঝে নেবেন। আপনার সমস্যার সমাধান বুঝে নেবেন।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণের একটি দায়িত্ব আছে, ভোটারদেরও দায়িত্ব আছে। সবাইকে মিলেই তো দেশ গড়তে হবে। দেশ গড়তে হলে সবাইকে মিলেই কাজ করতে হবে। আন্দোলন তো আমরা সবাই মিলে করেছিলাম, তাই না।’

তারেক রহমান বলেন, জয়যুক্ত করতে হবে যদি খাল খনন কর্মসূচি আবার শুরু করতে হয়, যদি ঘরে ঘরে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, যদি কৃষক ভাইদের হাতে হাতে কৃষক কার্ড দিতে হয়, যদি ইমাম সাহেব-খতিব সাহেবদের সম্মানের ব্যবস্থা করতে হয়- তাহলে একমাত্র ধানের শীষে ভোট দিলেই এই কাজগুলো করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের এলাকার রাস্তাঘাট ঠিক করতে হলে, স্কুল-কলেজ ঠিক করতে হলে, হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও ডাক্তারের ব্যবস্থা করতে হলে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। আর এই যে কয়েকজন মানুষ সামনে বসে আছে, এদের জয়যুক্ত করবেন। তাহলে এদের কাছে গিয়ে বলতে পারবেন- আমাদের এই সমস্যা, তোমাদের আমরা নির্বাচিত করেছি, তোমরা আমাদের সমস্যার সমাধান করো।’

এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বলতে পারবেন না?’

তারেক রহমান বলেন, ‘এই জন্য এই পাঁচজনকে আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলাম এই পাঁচজনকে।’

এ সময় মঞ্চের সামনের সারিতে বসে থাকা পাঁচ সংসদীয় প্রার্থীকে দাঁড়াতে বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, 'গত ১৫ বছরে তথাকথিত নির্বাচনের নামে যা হয়েছে, তাতে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি। শুধু ভোট দেওয়ার অধিকারই নয়, একই সঙ্গে মানুষের কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।'

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়, এটি গত ১৫ বছর ধরে কেড়ে নেওয়া জনগণের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচন। এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দেশের বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এবার তাই যেকোনো মূল্যে ভোটের বৈতরণি পাড়ি দিতে হবে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে আগে যেটা করতে হবে, ভোট দিতে হবে। কোথায় ভোট দেবেন? ধানের শীষে। আর এবার কখন যাবেন ভোট দিতে? তাহাজ্জুত পড়ে ফজরের নামাজ কোথায় পড়বেন? ভোটকেন্দ্রে পড়তে হবে। কারণ যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে জন্য চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।’ সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের মানুষ দেশকে স্বাধীন করেছিল। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই স্বাধীনতাকে আবার রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ কাউকে ধর্ম দিয়ে বিচার করেনি-কে মুসলমান, কে হিন্দু বা কে অন্য ধর্মের মানুষ, তা দেখা হয়নি।

ঠিক একইভাবে, তিনি বলেন, যখন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আন্দোলনে নেমেছিল এবং ২০২৪ সালে রাজপথে নেমে এসেছিল, তখনও রিকশা চালক, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস শ্রমিক, নারী-শিশু সবাই একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। তখনও কেউ কারও ধর্ম-বর্ণ দেখেনি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক ঘটনার বিচার হয়নি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশের মানুষ জীবন দিয়ে স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। প্রায় হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন। এই ত্যাগকে অর্থবহ করতে হলে বাংলাদেশকে এমন একটি দেশে পরিণত করতে হবে, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এ দেশটা কার? জনগণের দেশ। কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই সমাবেশে আমার সামনে যে হাজার হাজার মানুষ বসে আছেন, আপনারাই এ দেশের মালিক। কাজেই আপনাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আপনারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে চান। আর সেই সিদ্ধান্ত ভোটের মাধ্যমে নিতে হবে।

তিনি বলেন, একটি দল স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করে অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে। সেই একই দল এখন আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে তথাকথিত ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। আপনারা তাদের বয়কট করুন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সেদিন দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। তখনই স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের ভেতরের পাশাপাশি বিদেশেও ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ভোটারদের নিয়েও গভীর চক্রান্ত চলছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

এলাকার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিএনপির ছয়জন প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে। তাহলেই এই এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন হবে।

কিশোরগঞ্জে তারেক রহমানের এই নির্বাচনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল যোগ দেয়। পুরো ভৈরব উপজেলা জুড়েই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

সভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম। এতে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা বক্তব্য দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow