ভোট-পরবর্তী বিভ্রান্তি মোকাবিলায় বিএনপির করণীয় 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অবাধ, স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক- যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। নির্বাচনে হার-জিত গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। ব্যালটের মাধ্যমে জনরায়কে সম্মান করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।  তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কিছু মহল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াচ্ছে অভিযোগ, গুজব ও অপপ্রচার। এ প্রেক্ষাপটে একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জন্য তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও কৌশলগত ভূমিকা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। প্রফেসর ড. আবু তালেব বিভ্রান্তি মোকাবিলায় বিএনপির করণীয় তুলে ধরে কিছু কৌশলগত দিক উল্লেখ করেন : ১. প্রমাণভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ : যে কোনো অভিযোগ তথ্য, পরিসংখ্যান ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে হবে। আবেগপ্রবণ বক্তব্যের পরিবর্তে লিখিত প্রতিবেদন, পর্যবেক্ষণ নথি ও আইনি কাঠামোর মধ্যে অভিযোগ উত্থাপন অধিক কার্যকর। একটি সুসংগঠিত ডকুমেন্টেশন সেল গঠন করলে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দল শক্ত ভিত্তি পাবে এবং অপপ্রচারের সুযোগ কমবে। ২

ভোট-পরবর্তী বিভ্রান্তি মোকাবিলায় বিএনপির করণীয় 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অবাধ, স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক- যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। নির্বাচনে হার-জিত গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। ব্যালটের মাধ্যমে জনরায়কে সম্মান করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। 

তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কিছু মহল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াচ্ছে অভিযোগ, গুজব ও অপপ্রচার। এ প্রেক্ষাপটে একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জন্য তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও কৌশলগত ভূমিকা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

প্রফেসর ড. আবু তালেব বিভ্রান্তি মোকাবিলায় বিএনপির করণীয় তুলে ধরে কিছু কৌশলগত দিক উল্লেখ করেন :

১. প্রমাণভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ : যে কোনো অভিযোগ তথ্য, পরিসংখ্যান ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে হবে। আবেগপ্রবণ বক্তব্যের পরিবর্তে লিখিত প্রতিবেদন, পর্যবেক্ষণ নথি ও আইনি কাঠামোর মধ্যে অভিযোগ উত্থাপন অধিক কার্যকর। একটি সুসংগঠিত ডকুমেন্টেশন সেল গঠন করলে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দল শক্ত ভিত্তি পাবে এবং অপপ্রচারের সুযোগ কমবে।

২. ডিজিটাল ফ্যাক্ট-চেক ও সচেতনতা : ডিজিটাল যুগে অপপ্রচার সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায় সামাজিক মাধ্যমে। তাই একটি দক্ষ ফ্যাক্ট-চেক টিম গঠন জরুরি, যারা ভুয়া ভিডিও, পুরোনো ছবি বা বিকৃত তথ্য শনাক্ত করে প্রমাণসহ খণ্ডন করবে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যাচাইবাছাই ছাড়া তথ্য শেয়ার না করা এবং শালীন ভাষা ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

৩. ইতিবাচক ও নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষা : অপপ্রচারের জবাবে নেতিবাচকতা নয়— উন্নয়ন পরিকল্পনা, গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার ও সুশাসনের রূপরেখা তুলে ধরা উচিত। শালীন ও নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক।

৪. গণমাধ্যমের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ : সংবাদ সম্মেলন, লিখিত বিবৃতি ও নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে দলীয় অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরলে ভুল বোঝাবুঝি কমে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের শান্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ জবাব দলীয় ভাবমূর্তি উন্নত করে। গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করাই উত্তম।

৫. আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ : উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়—সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া জনগণের আস্থা বাড়ায়।

৬. তৃণমূল ও তরুণ সম্পৃক্ততা : তৃণমূল পর্যায়ে মতবিনিময় সভা ও সরাসরি যোগাযোগ বিভ্রান্তি দূর করতে কার্যকর। পাশাপাশি তরুণদের লক্ষ্য করে তথ্যভিত্তিক ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক ও অনলাইন আলোচনার আয়োজন করলে অপপ্রচার মোকাবিলায় সচেতন প্রজন্ম তৈরি হবে।

৭. আত্মমূল্যায়ন ও পর্যালোচনা : অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগাযোগের ঘাটতি ও কৌশলগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা উচিত। আত্মসমালোচনার সাহস একটি রাজনৈতিক দলের পরিপক্বতার প্রমাণ।

অপপ্রচার রোধ করা শুধু একটি দলের সুনাম রক্ষা নয় বরং গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করা। সত্যনিষ্ঠতা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই পারে বিভ্রান্তির অন্ধকার দূর করতে। যদি প্রমাণনির্ভর বক্তব্য, স্বচ্ছ যোগাযোগ ও ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা অব্যাহত থাকে, তবে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত থাকে সত্য ও আস্থায়। তাই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সর্বোত্তম অস্ত্র হলো তথ্য, যুক্তি ও নৈতিকতা।

লেখক : অধ্যাপক ও গবেষক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow