ভোটের পরিবেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জামায়াত আমিরের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যদি আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী তাদের কর্তব্যটা নিষ্ঠার সাথে পালন করে তাহলে আমরা আশা করি দিন শেষে জাতি একটা ভালো ভোট উপহার পাবে ইনশাআল্লাহ। ভালো একটা নির্বাচন পাবে এবং ভালো নির্বাচন হলেই একটা ভালো সরকার তৈরি হবে। যে সরকার এদেশের মানুষকে নিয়ে ভাববে, যে সরকার হবে জনগণের সরকার আর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে যদি কোনো সরকার গঠিত হয় তাহলে ওই সরকার জনগণের লোক দরদ বুঝবে না। জনগণের সাথে তাদের কোন সেতুবন্ধন থাকবে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে নিজের নির্বাচনী আসনের নির্বাচন পরিচালনা অফিসে সাংবাদিকদেরকে এসব কথা বলেন। এরআড়ে সকাল থেকেই জামায়াত আমির তার নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। দীর্ঘ দেড় যুগ পরে পরপর তিনটি নির্বাচনে এদেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার শুধু নয় প্রায় সকল অধিকার থেকেই তারা বঞ্চিত ছিল। অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তন এসেছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যদি আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী তাদের কর্তব্যটা নিষ্ঠার সাথে পালন করে তাহলে আমরা আশা করি দিন শেষে জাতি একটা ভালো ভোট উপহার পাবে ইনশাআল্লাহ। ভালো একটা নির্বাচন পাবে এবং ভালো নির্বাচন হলেই একটা ভালো সরকার তৈরি হবে। যে সরকার এদেশের মানুষকে নিয়ে ভাববে, যে সরকার হবে জনগণের সরকার আর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে যদি কোনো সরকার গঠিত হয় তাহলে ওই সরকার জনগণের লোক দরদ বুঝবে না। জনগণের সাথে তাদের কোন সেতুবন্ধন থাকবে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে নিজের নির্বাচনী আসনের নির্বাচন পরিচালনা অফিসে সাংবাদিকদেরকে এসব কথা বলেন। এরআড়ে সকাল থেকেই জামায়াত আমির তার নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। দীর্ঘ দেড় যুগ পরে পরপর তিনটি নির্বাচনে এদেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার শুধু নয় প্রায় সকল অধিকার থেকেই তারা বঞ্চিত ছিল। অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তন এসেছে সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই আজকে বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা আশা রাখি ইনশাআল্লাহ। আমি জুলাই আন্দোলনে এবং ফ্যাসিবাদী আমলের সাড়ে ১৫ বছরে যাদের সীমাহীন ত্যাগ-তিতীক্ষা ও আত্মত্যাগের কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিকে উপহার দিয়েছে আমি প্রথমে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদাবান শহীদ হিসেবে কবুল করুন। যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন আমি আরেকবার তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদেরকে সুস্থতার নিয়ামত দান করেন যদি তারা সেদিন বুক চিতিয়ে লড়াই না করতেন জীবন না দিতে না হতো পঙ্গুত্ববরণ না করতেন তাহলে এই ১২ তারিখ আমাদের কাছে ধরা দেওয়ার কথা ছিল না। বড় কথা হলো তিনি সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টা তার মহাপরিকল্পনা থাকে। সেই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টি পরিচালিত হয়। আমরা মানবজাতি তার বাইরে নই। এজন্য আমরা কেউ যেটা কল্পনা করতে পারিনি যে ২৪ সালে এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটবে সেটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন যখন হয় তখন আমার মতো অনেকেই বিভিন্ন দলের যারা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ জেলে ছিলেন। আমিও জেলে ছিলাম। জেলের ভিতরে আমি আমার অপরাপর রাজনৈতিক বন্ধুদের মানসিক অবস্থা আমি প্রত্যক্ষ করেছি। কেউ কল্পনাও করেননি। স্বপ্নেও দেখেননি যে মাত্র ছয়-সাত মাসের মাথায় এই ধরনের একটা অবস্থা তৈরি হবে। বরঞ্চ অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করে আল্লাহ আজকে এখানে নিয়ে এসেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই জাতি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে। যারা সম্মান করবে তারা কৃতজ্ঞ হবে। যারা সম্মান করবে না তারা স্বাভাবিকভাবেই অকৃতজ্ঞ হবে। এত বড় একটা বিপদ থেকে সংকট থেকে জাতিকে আল্লাহ তায়ালা যাদের উসিলায় বের করেছেন তারা বয়স কত? অভিজ্ঞতা কী? এটা বড় কথা না। তারা আমাদের সেনাপতি ও যোদ্ধা ছিল, বীর ছিল। সেই বীরদের প্রতি আমাদের সম্মান দেখাতেই হবে। আমরা চেষ্টা করেছি সেই বীরদেরকে বুকে শ্রদ্ধার সাথে ধারণ করে যারা শহীদ ও বেঁচে আছেন আমাদের সামগ্রিক পরিকল্পনা এবং স্বপ্নকে সাজানোর জন্য। আমরা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যেই আমাদের পলিসি পেপার রিলিজ করেছি। একটা সামিটের মাধ্যমে আবার আমরা নির্বাচনের ইশতেহারও ঘোষণা করেছি আরেকটা সামিটের মাধ্যমে। এইভাবে আমরা সমাজের সাথে সংযোগ রক্ষা করেই আমাদের এই নির্বাচনী কৌশল আমরা নির্ধারণ করেছিলাম।
তিনি বলেন, আমরা জাতিকে বলেছিলাম যে, আমরা এমন কোনো আশ্বাস দেব না যেটা আসলেই নিজেরাই বিশ্বাস করি না। শুধুমাত্র মানুষের ভোট পাওয়ার জন্য কোনো আশ্বাস দেওয়া আমরা এটাকে নৈতিক একটা স্খলন বা অপরাধ বলে মনে করি। আমরা যা পারবো সম্ভাব্য বিষয়গুলোই জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি। তিনি বলেন, আমি আজকে এই নির্বাচনের প্রথম ভাগেই আমার ভোটটি মণিপুর বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রদান করেছি। আমি তখন স্বাভাবিক অবস্থা সেখানে বিরাজমান দেখেছি। ভোটার উপস্থিতিও ছিল লক্ষণ। এরপরে আমি ক্রমান্বয়ে অনেকগুলা সেন্টার আমি দেখার চেষ্টা করেছি। আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি দুই একটা সেন্টার ছাড়া বাকি সেন্টারগুলা গোটার টার্নওভার ছিল খুবই সন্তুষ্ট। দুইটা সেন্টারে শুধু আমার কাছে মনে হয়েছে যে এখানে টার্নওভারটা কম।
তিনি আরও বলেন, যদি পরিবেশ পরিস্থিতির কথা বলেন তাহলে এই আসন দিয়ে আমরা শুরু করতে পারি। স্বাভাবিক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা গেল যে মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বালিকা শাখায় যেখানে এই আসনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক ভোট রয়েছে। ২৬ হাজারের ঊর্ধ্বে ভোট এখানে রয়েছে। সেই জায়গায় হঠাৎ করে আমাদের প্রতিদ্বন্দী দলের কিছু লোক তারা বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়েন। তারা ভোটারদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং অহেতুক তারা এখানে হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি সেখানে আমাদের ভোটার এবং সমর্থকদেরকে তারা শারীরিকভাবেও নাজেহাল করেন। আমরা বিষয়টি শোনার পরে আবার ফিরে যাই সেখানে। এর আগে আমি একবার গিয়ে এসেছি। আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম যে, সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে এই বিষয়টা তিনি হ্যান্ডেল করছেন এবং তখন পরিস্থিতি তিনি আশ্বস্ত করে বললেন যে, আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমি তখন তাকে বলেছি যে, ভোট শেষ হওয়ার পর শুধুমাত্র ভোট প্রক্রিয়ার সাথে সরকারের যে সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন আর যারা বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট আছেন তার বাইরে যেন কেউ ঢুকতে না পারে। এটা আপনারা নিশ্চিত করবেন। ভিতরের পরিবেশটা এরকম নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাইরেও অহেতুক জটলা এবং টেনশন যাতে কেউ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে আপনারা আশা করি উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন। তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন আমরাও তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। আমরা চাই ভোটটা শান্তিপূর্ণ হোক। প্রত্যেকটি মানুষ এসে তার মত করে তার পছন্দ মত ভোটটা দিয়ে যাক। ভয়ের সংস্কৃতি যেন তৈরি না হয়। এ পর্যন্ত সারাদেশের যে খবর আমরা পেয়েছি বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি দলীয় যারা ক্যান্ডিডেট তাদের কর্মী সমর্থকরা বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি করেছে।
জামায়াত আমির বলেন, কুমিল্লার বরুড়ায় বেশ কতগুলা সেন্টার দখল করে নেওয়া হয়েছে এবং আমাদের প্রার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে যা গুরুতর না। যদি কোনো প্রার্থী অথবা প্রার্থীর সমর্থক কিংবা এজেন্ট কর্মী কোনো ভুল করে থাকেন তাহলে আমি তো হাতে আইন তুলে নিতে পারি না। যথাযথ কর্তৃপক্ষ আছে তাদের আমরা সহযোগিতা চাইতে পারি। অভিযোগ দিতে পারি। কিন্তু সেখানে তাই করা হয়েছে এবং কিছু সেন্টার তাদের দখলেও তারা সাময়িকভাবে নিয়ে গিয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সেটা অবমুক্ত হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি ভোট শেষ হওয়ার পরে গণনার সময় ওই ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা যদি তৈরি হয় তাহলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না। সাড়ে ১৫ বছর জাতি তাদের ভোটের অধিকার হারিয়ে আজকে যাকেই আমি জিজ্ঞেস করেছি যে আপনার কেমন লাগছে বলে যে আমি খুব এক্সাইটেড। খুব উৎফুল্ল। মানুষের এই যে উৎসবমুখর পরিবেশটাকে যারা বাধাগ্রস্ত করবে তারা অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এটা আমরা মনে করি না। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল লোকদের দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। আমার কাজটা আমি করব। আমার কথাটা আমি বলব। অন্যের কাজটা তাকে করতে দিতে হবে। যদি এটা সংগত হয় এবং তার কথা তাকে বলতে দিতে হবে। আর মানুষের ভোটের অধিকার হচ্ছে তার নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার।
তিনি বলেন, জোরজবরদস্তি করা হলে সেই সিদ্ধান্তের উপরেই প্রকারান্তরে এটা নগ্ন হস্তক্ষেপ হয়। আমরা এই হস্তক্ষেপকে মোটেই পছন্দ করি না। ঠিক অনুরূপভাবে ঘটনা ঘটেছে লাকসামে। তারপরে ভোলার লালমোহনে। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে এই খবরগুলো আছে। আরো হয়তো থাকতে পারে। আরো খবর নিয়ে আমাদেরকে জানতে হবে। আমার বক্তব্য হচ্ছে যে, বাংলাদেশের একটা ভোট কেন্দ্রেও যদি এরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেটা অগ্রহণযোগ্য এবং আপত্তিকর। আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যে ভূমিকা দেখছি তাদেরকে আমরা অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখন পর্যন্ত তাদের ভূমিকা আমরা খুবই সন্তোষজনক পেয়েছি। যেখানেই সমস্যা হয়েছে তাদের ইনফর্ম করার সাথে সাথে তারা ফাস্ট মুভ করেছেন সব জায়গায় এবং তারা চেষ্টা করেছেন সিচুয়েশনকে নিয়ন্ত্রণ করার।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই সরকারটা হোক জনগণের; কোনো দলের বা ব্যক্তির নয়, পরিবারের নয়। দল ব্যক্তি পরিবারের গন্ডি অতিক্রম করে ১৮ কোটি মানুষের সরকার কায়েম হবে। আগামীকাল থেকে সেটাই আমরা আশা করি। এই পথে সাংবাদিক বন্ধুগণ গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে আমাদের সাথে আপনারা ছিলেন। আমরা সবসময় আপনাদের মর্যাদা হয়তো রক্ষা করতে পারিনি। চেষ্টা করেছি। কিন্তু সবকিছু পেরেছি এটা আমরা মনে করি না। আমরা আপনারা এখানে কোনো ডিভিশন নাই। আমরা সবাই ১৮ কোটি মানুষের অংশ। আমাদের প্রিয় জাতি দেশ ভালো থাকলে আমরা সবাই ভালো থাকবো।
What's Your Reaction?