ভোটের প্রতিটি বিষয় চ্যালেঞ্জের, সংলাপে দলের সুপারিশ আমলে নেবে ইসি

19 hours ago 2

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত রোডম্যাপে সব কিছু সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে নতুন কিছু সংযোজন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রতিটি বিষয়ই ‘চ্যালেঞ্জের’, তবে বর্তমান কমিশনের তা সামাল দেওয়ার মতো দৃঢ়তা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব জানান, আগামী রোজার আগেই অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলের পরামর্শ থাকলে প্রয়োজনে কর্মপরিকল্পনায় তা যুক্ত করা হবে।এখনকার আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি সরকারের হলেও প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় ও সহযোগিতা নেবে ইসি।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান, প্রশিক্ষণসহ মোট ২৪টি কাজের একটি বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বলেন, আমরা কর্মপরিকল্পনা দিলাম আর সবকিছু হয়ে গেল তা তো নয়; এটা চলমান থাকবে। এর সঙ্গে সংযোজন হবে। নতুন পরিস্থিতিতে নতুন কাজ আসবে। সেগুলো সম্পূরক কাজ হিসেবে নেবো।

কর্মপরিকল্পনার ভেতরে- বাইরে কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, প্রতিটি জিনিসই চ্যালেঞ্জের। প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের প্রস্তুতি থাকতে হবে, এটাই দৃঢ়তা। এটাই আমরা চাই।

তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, চ্যালেঞ্জ আসবে, পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তার জন্য মানসিকভাবে যে দৃঢ়তা থাকা দরকার আপনার-আমাদের সবার রয়েছে।

নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রমের বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা নেওয়া হবে।

ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বা বডি ক্যাম ব্যবহারের বিষয়েও সচিব একই অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামের বিষয়টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে। এটা আমাদের ব্যাপার নয়।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি মনে করে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য সিসি ক্যামেরা প্রয়োজন, তবে ইসি তাতে সহযোগিতা করবে।

রোডম্যাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সন্তুষ্টি প্রসঙ্গে সচিব জানান, রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে যদি কোনো পরামর্শ আসে, তবে তা কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের পর কোথাও যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয়, আমরা সেভাবে অ্যাডজাস্ট করবো।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হবে, এর আগে সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে ইসি।

নির্বাচনি আইন সংস্কারে দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে ইসি উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের সুপারিশ ইসির সংলাপে আর আসবে না বলে মনে করেন সচিব। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। বাস্তবতাটা পরবের্তীতে দেখা যাবে।

ইসি সচিব জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচার, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো রোধ করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়ে আমরা এটাকে অ্যাডজাস্ট করবো। আমরা চেষ্টা করবো যাতে সবকিছু সামাল দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। সবার সহযোগিতা লাগবে।

তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি। নির্বাচনের লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়েও যোগাযোগ করা হবে বলে জানান সচিব।

এমওএস/কেএইচকে/জেআইএম

Read Entire Article