ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন, প্রত্যাশার চাপের সঙ্গে আছে চ্যালেঞ্জও
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে ভোটগ্রহণ ঘিরে ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন’ হওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন বলছে, এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা এবার অনেক বেশি। এছাড়া ভোট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছে ইসি। দেশের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। তবে নির্ধারিত সময় শেষে লাইনে অপেক্ষমাণ ভোটার থাকলে তাদেরও ভোট নেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ইসি সানাউল্লাহ জানান, এবার
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে ভোটগ্রহণ ঘিরে ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন’ হওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন বলছে, এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা এবার অনেক বেশি। এছাড়া ভোট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছে ইসি।
দেশের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। তবে নির্ধারিত সময় শেষে লাইনে অপেক্ষমাণ ভোটার থাকলে তাদেরও ভোট নেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৮১ জন রয়েছেন নারী প্রার্থী। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ। সারাদেশে মোট ৪২,৯৫৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
ইসি জানিয়েছে, প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে সাধারণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার যোগ হয়েছে ড্রোন, বডি-ক্যাম ও সিসিটিভি। প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা রয়েছে।
ইসি জানায়, গত দুই মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮৫০টির বেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর পোস্টাল ভোটের জন্য ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৩ হাজার ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট ব্যালট সময়মতো পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে দুটি আলাদা ব্যালট। একটি সাদা ব্যালট—যেটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটটি গণভোটের। দুটি ব্যালটের ফলাফল একসঙ্গে গণনা ও প্রকাশ করা হবে, যেন জনগনের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি না হয়।
কমিশন তথ্য, এবারের নির্বাচনে ৪৫ হাজার পর্যবেক্ষক ও প্রায় ১০ হাজার সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশীয় ৪৫ হাজার ৩৩০ জন, বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৩৫০ জন ও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের ৯৭০০ জন সাংবাদিক থাকবেন। এর মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন।
কমিশন বলছে, নির্বাচনে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের কারণে এখন পর্যন্ত ৩০০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ৫০০টির বেশি তদন্ত শেষ করা হয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে প্রবেশ, লাইভ সম্প্রচার, ভোটারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ নিষিদ্ধ। ভোটারদের জন্য গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের ওপর দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশের মানুষ এবারের ভোটে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে চায়।
তবে একদিনে দুই ভোট হওয়ায় ইসির সামনে নানান চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালটে পৃথক রঙের কাগজের ব্যবস্থাপনায়ও চ্যালেঞ্জ দেখছে ইসি। এছাড়া এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে কোনো অবস্থান নেয় কি না, সেটিও কমিশনের জন্য বাড়তি চিন্তার বিষয়। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এআই ব্যবহার করে নানান প্রচার-অপপ্রচারও ভাবাচ্ছে কমিশনকে।
এমওএস/এমকেআর
What's Your Reaction?