ভোটের মাঠে বাড়ছে উত্তাপ 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। বগুড়া জেলায় ৯টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূলত বিএনপি ও জামায়াত এই দুটি দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ইতোমধ্যে দল দুটির প্রার্থীরা জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বিএনপি চায়, বগুড়ার ৭টি আসন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিতে। জামায়াত বলছে, তারা সবগুলো আসনে ভালো করবে।  ১২টি উপজেলা ও ১১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বগুড়া জেলায় জাতীয় সংসদের ৭টি আসন রয়েছে। জেলায় মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন, নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪২ জন। মোট কেন্দ্র রয়েছে ৯৮৩টি।   মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হলেও বেশ কটি আসনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা শেষ সময়ে এসে একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এরই মধ্যে শিবগঞ্জ, শেরপুর বিএনপির নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে জামায়াত-বিএনপির সংর্ঘষ হয়েছে। জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা হয়েছে। বিএনপি নেতার চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় বিএন

ভোটের মাঠে বাড়ছে উত্তাপ 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। বগুড়া জেলায় ৯টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূলত বিএনপি ও জামায়াত এই দুটি দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ইতোমধ্যে দল দুটির প্রার্থীরা জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বিএনপি চায়, বগুড়ার ৭টি আসন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিতে। জামায়াত বলছে, তারা সবগুলো আসনে ভালো করবে। 

১২টি উপজেলা ও ১১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বগুড়া জেলায় জাতীয় সংসদের ৭টি আসন রয়েছে। জেলায় মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন, নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪২ জন। মোট কেন্দ্র রয়েছে ৯৮৩টি।
 
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হলেও বেশ কটি আসনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা শেষ সময়ে এসে একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এরই মধ্যে শিবগঞ্জ, শেরপুর বিএনপির নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে জামায়াত-বিএনপির সংর্ঘষ হয়েছে। জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা হয়েছে। বিএনপি নেতার চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বগুড়াকে ‘বিএনপির দুর্গ বলা হলেও শুধু তারেক রহমানের আসন ছাড়া অন্যান্য আসনে জয় পেতে বিএনপিকে অনেকটা ঘাম ঝরাতে হবে’। 
 
শেষ সময়ে এসে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন বগুড়া-২ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। তিনি এ আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে খোলা চিঠি লিখে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। নির্বাচনী এলাকায় সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ নেই। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা সবাই ঘরছাড়া। 
 
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকলেও কিছু জায়গায় আইডি কার্ডের ছবি তোলা ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের ঘটনা ঘটছে। যা ভোট কেনাবেচার সন্দেহ তৈরি করছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’ ইনশাআল্লাহ বগুড়ার জনগণ তাদের প্রিয় সন্তান তারেক রহমানকে ৭টি আসনই উপহার দেবে।

বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন মানুষ ভোট দিতে না পারায় কিছুটা শঙ্কা ছিল। এবার ভোটাররা কেন্দ্রে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিএনপির আইডি কার্ড বা মোবাইল নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব প্রতিপক্ষের অভিযোগ মাত্র। বগুড়ায় এমন কোনো ঘটনার অস্তিত্ব নেই। জামায়াত জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করে।


সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা লেনদেনের অভিযোগে জামায়াত কর্মীদের আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। উপজেলার পারশুন গ্রামে সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর বলেন, সোমবার রাতে পারশুন গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে কিছু লোকের সমাগম দেখে তারা সেখানে যান। সেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। এ সময় তারা বেলালসহ দুজনকে আটক করে স্থানীয় বুড়ইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে জামায়াতের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা মাসুদ রানা ও তার ভাইকে বেধড়ক মারধর করে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় মাসুদ রানার বাড়িসহ ৩টি বাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বগুড়া-৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহিল গালিব ভুস্কুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল। তখন ধানের শীষের একটি মিছিল থেকে গালিবকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এ নিয়ে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনার জের ধরে পারশুন গ্রামে বিএনপির লোকজন জামায়াত কর্মী ফারুক ও বেল্লালকে তুলে নিয়ে যায়। ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রেখে তাকে মারধর করে।
 
খবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দল বেঁধে মাসুদ রানার বাড়িতে যায়। সেখানে আটকে রাখা দুই কর্মীকে উদ্ধার করতে গিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি নেতা মাসুদ রানা, জামায়াত কর্মী ফারুক, বেল্লাল, আমিনুলসহ ৪-৫ জন আহত হন। আহতদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শান্তিপুর্ন ভোটের পরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানান।
  
অন্যদিকে, বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে ভোটের দিন পরিস্থিতির চরম অবনতি হবে। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মুহিত তালুকদার বলেন, জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিলি করা হচ্ছে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow