ভোটের সিল তৈরি, জামায়াত নেতা পলায়নে চাঞ্চল্য সৃষ্টি

লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুত করা ভোটের ছয়টি সিল জব্দের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ ও ব্যবসায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে শরীফ ও সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে অপর আসামি জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাল ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যে জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ সিল তৈরির অর্ডার দিলে ব্যবসায়ী সোহেল রানা সেগুলো তৈরি করে তার দোকানে সংরক্ষণ করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের পুরাতন আদালত সড়কে অবস্থিত মারইয়াম প্রিন্টার্স থেকে ১৬ ঘরবিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। পরে সোহেল রানাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। আটক সোহেল রানার বরাত দিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি সৌরভ হোসেন শরীফ

ভোটের সিল তৈরি, জামায়াত নেতা পলায়নে চাঞ্চল্য সৃষ্টি

লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুত করা ভোটের ছয়টি সিল জব্দের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ ও ব্যবসায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে শরীফ ও সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে অপর আসামি জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাল ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যে জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ সিল তৈরির অর্ডার দিলে ব্যবসায়ী সোহেল রানা সেগুলো তৈরি করে তার দোকানে সংরক্ষণ করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের পুরাতন আদালত সড়কে অবস্থিত মারইয়াম প্রিন্টার্স থেকে ১৬ ঘরবিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। পরে সোহেল রানাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

আটক সোহেল রানার বরাত দিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি সৌরভ হোসেন শরীফ তার কাছ থেকে পাঁচটি নির্বাচনী সিল তৈরির অর্ডার দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভয়েস মেসেজ তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে জাল ভোটের সিল তৈরি করানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, সৌরভ হোসেন শরীফ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি এবং দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার মো. শাজাহানের ছেলে। তিনি হাসপাতাল রোডের ‘আধুনিক অফসেট অ্যান্ড ডিজিটাল সাইন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।

সিল জব্দের ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে আটক সোহেল রানাকে জামায়াত কর্মী দাবি করা হয়। পাশাপাশি সিল তৈরির অর্ডারদাতা সৌরভ হোসেন শরীফের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে জেলা শহরের গোডাউন রোড এলাকার বশির ভিলা হলরুমে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি অভিযোগ করেন, জাল ভোট ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ্যানি চৌধুরী বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কীভাবে হয়, তা প্রমাণসহ মারইয়াম প্রিন্টার্স থেকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। শুধু বোরকা নয়, বোরকার ভেতরে সিলকৃত ব্যালট থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে জামায়াত।” তিনি সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এর জবাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন একই আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেন, আটক সোহেল রানা জামায়াতের কেউ নন। সৌরভ হোসেন শরীফের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, “সিল জব্দের পরপরই আমরা সৌরভ হোসেন শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”

সদর মডেল থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, “আসামি সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখনো রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। অপর আসামি পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow