ভোল বদল রাজনীতির কারিগর সোহরাবের আ‘লীগ থেকে পদত্যাগ

আদর্শ নয় বরং ক্ষমতার পাল্লা ভারী দেখলেই ভোল পাল্টানোয় সিদ্ধহস্ত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সোহরাব এবার নিজের পিঠ বাঁচাতে নৌকার হাল ছাড়লেন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদীন আত্মগোপনে থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে দল ত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। ​শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত তুলে দেওয়া এই পদত্যাগ আদিতমারীর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বারবার দল বদলকারী সোহরাবের আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করে নিজের রাজনৈতিক কৌশল। ​ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহূর্তেই এলাকা ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যান এই নব্য আওয়ামী লীগার। দীর্ঘদীন আত্মগোপনে থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে এলে সম্প্রতি তিনি এলাকায় নিজ বাড়িতে ফেরেন এবং তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের নাটক সাজান। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুস সোহরাব একসময় আদিতমারী উপজেলা বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী স্তম্ভ ছিলেন। ২০০৯ সালের উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে যখন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সভাপত

ভোল বদল রাজনীতির কারিগর সোহরাবের আ‘লীগ থেকে পদত্যাগ

আদর্শ নয় বরং ক্ষমতার পাল্লা ভারী দেখলেই ভোল পাল্টানোয় সিদ্ধহস্ত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সোহরাব এবার নিজের পিঠ বাঁচাতে নৌকার হাল ছাড়লেন।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদীন আত্মগোপনে থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে দল ত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

​শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত তুলে দেওয়া এই পদত্যাগ আদিতমারীর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বারবার দল বদলকারী সোহরাবের আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করে নিজের রাজনৈতিক কৌশল। ​ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহূর্তেই এলাকা ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যান এই নব্য আওয়ামী লীগার। দীর্ঘদীন আত্মগোপনে থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে এলে সম্প্রতি তিনি এলাকায় নিজ বাড়িতে ফেরেন এবং তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের নাটক সাজান।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুস সোহরাব একসময় আদিতমারী উপজেলা বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী স্তম্ভ ছিলেন। ২০০৯ সালের উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে যখন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সভাপতি হন, তখন সোহরাবকে ১নং সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। বিএনপির দলীয় রেকর্ড বুকে তাঁর সদস্য পরিচিতি নম্বর ৩৫৩৮৮০৩। ২০১৪ সালের উত্তাল রাজনৈতিক সময়েও তিনি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে ক্ষমতার মোহে ​২০১৫ সালে রাজনৈতিক মেরুকরণে আকস্মিক ভোল পাল্টান সোহরাব। তৎকালীন লালমনিরহাট-২ সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর হাতে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার দাবি তুলে বিএনপিতে মীরজাফর উপাধি নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বিনিময়ে কোনো ত্যাগ ছাড়াই ভাগিয়ে নেন জেলা পরিষদের সদস্য পদ এবং পরবর্তী সময়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ।

​রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে তিনি জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে গত ইউপি নির্বাচনে সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১১ সালেও তিনি একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছন।

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাকে বড় করে দেখা সোহরাব এখন নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আশ্রয় নিয়েছেন। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা থেকে আওয়ামী লীগের দাপুটে ক্যাডার হয়ে এখন পরিচয়হীন হওয়ার এই চেষ্টাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আদিতমারীর মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow