ভোলার চরফ্যাশন-মনপুরায় স্পিকার ও ভূমিমন্ত্রীর যৌথ সফরের ঘোষণা

দেশের চরাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিনের ‌‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান। পাশাপাশি ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া সনদে বিত্তশালীদের খাসজমি হাতিয়ে নেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এই হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি স্পিকারের নির্বাচনি এলাকার পাশেই অবস্থিত এই চরাঞ্চলের প্রকৃত চিত্র দেখতে ভূমিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে শিগগির সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় খাসজমি চিহ্নিতকরণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও পড়ুন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী / ফের চালু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, শিগগির বিনা খরচে কর্মী পাঠানো শুরু সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী খাসজমি বন্দোবস্তের বিষয়টি উত্থাপন করে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, দেশে সরকারি হিসাবে প্রায় ৩৮

ভোলার চরফ্যাশন-মনপুরায় স্পিকার ও ভূমিমন্ত্রীর যৌথ সফরের ঘোষণা

দেশের চরাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিনের ‌‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান। পাশাপাশি ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া সনদে বিত্তশালীদের খাসজমি হাতিয়ে নেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এই হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।

একই সঙ্গে তিনি স্পিকারের নির্বাচনি এলাকার পাশেই অবস্থিত এই চরাঞ্চলের প্রকৃত চিত্র দেখতে ভূমিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে শিগগির সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় খাসজমি চিহ্নিতকরণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী খাসজমি বন্দোবস্তের বিষয়টি উত্থাপন করে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, দেশে সরকারি হিসাবে প্রায় ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৪ একর খাসজমি থাকলেও তার একটি বড় অংশই প্রভাবশালীদের দখলে। বিশেষ করে তার নির্বাচনি এলাকা চরফ্যাশন ও মনপুরায় গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে নদীভাঙা বাস্তুহারা মানুষ চরম বঞ্চনার শিকার হয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অসৎ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে ভূমিহীনদের জমি দখল করে নিয়েছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকার নিশ্চিত করতে সেখানে কোনো ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা আছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

এরপর নূরুল ইসলামকে যুবসমাজের এক প্রতিবাদী ও আইকন লিডার হিসেবে আখ্যায়িত করে ভূমিমন্ত্রী তার অভিযোগ সম্পূর্ণ সঠিক বলে মেনে নেন। তিনি বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের বিধিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। চরফ্যাশন ও মনপুরা সফরের মাধ্যমে স্থানীয় সব অনিয়ম দূর করে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা জনগণকে উপহার দেওয়া হবে।

এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার খাসজমি উদ্ধারে সব সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ নূরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্পিকার বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির বিগত সরকারের আমলে ভোলা-৩ আসনে ২০ হাজার ভূমিহীন কৃষককে খাসজমি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজে তজুমুদ্দিন স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে দলিল তুলে দিয়েছিলেন। সংসদ সদস্যরা আন্তরিক হলে এই খাসজমি বিতরণ কর্মসূচি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে উল্লেখ করে স্পিকার জানান, সময় সুযোগ হলে ভূমিমন্ত্রীর এই ভোলা সফরে তিনিও অংশ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এমওএস/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow