ভোলার মনপুরায় পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় টানা ৮ দিনের বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্ন আয়ের বহু পরিবারের মধ্যে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপকূল জুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘর থেকে বের হতে না পারায় দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাসহ দৈনন্দিন কাজ কর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে দিন মজুর, জেলে, রিকশা চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। কাজ করতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবারের চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। খাদ্য সংকটে পড়া পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

ভোলার মনপুরায় পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় টানা ৮ দিনের বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্ন আয়ের বহু পরিবারের মধ্যে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপকূল জুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘর থেকে বের হতে না পারায় দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাসহ দৈনন্দিন কাজ কর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে দিন মজুর, জেলে, রিকশা চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। কাজ করতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবারের চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। খাদ্য সংকটে পড়া পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতর ও উঠানে পানি জমে গেছে। কেউ কেউ ঘরের ভেতরে উঁচু মাটির চুলা তৈরি করে রান্না করছেন। আবার অনেকে প্রতিবেশীর বাড়ি বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালীর পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম ও দক্ষিণ সাকুচিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশেও পানি জমে রয়েছে। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে।

হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল ও শ্রীকৃষ্ণ; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্র দাস ও শুভ্র বলেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই চারপাশে বেড়িবাঁধের কাজ চলায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্লুইসগেট অকেজো হয়ে আছে। বিভিন্ন খাল স্থানীয়ভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে।

দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক নলকূপের আশপাশ ডুবে গেছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত জরুরি ত্রাণ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট সংস্কার, খাল দখলমুক্ত করা এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে জোয়ারের পানিতে বেড়ি বাঁধের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ার কমে গেলে সেই পানি আবার নেমে যাবে। তবে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow