ভ্যাকসিন না পাওয়ায় ল্যাম্পি আতঙ্কে খামারিরা

রংপুরের তারাগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে গরুর ল্যাম্পি স্ক্রিন ডিজিজ (এলএসডি)। অভিযোগ উঠেছে মজুত থাকা সত্ত্বেও পিজি বা নন পিজি গ্রুপের আওতাধীন খামারিরা পায়নি সেই এলএসডি ভ্যাকসিন। ফলে ভাইরাসজনিত এই রোগ ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি অনেকের।  জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলার সকল পিজি গ্রুপ খামারিদের মধ্যে এলএসডি ভ্যাকসিন প্রদান শেষ করার কথা ছিল; কিন্তু নভেম্বরের শেষেও তা শুরু হয়নি। উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কুর্শা, সয়ার, আলমপুর, হাড়িয়ারকুঠিসহ ইকোরচালী ইউনিয়নের প্রায় খামারির গরু ল্যাম্পি রোগে আক্রান্ত। যথাসময়ে এলএসডি ভ্যাকসিন না দেওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার পিজি ও নন পিজি গ্রুপের প্রান্তিক খামারিরা। উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের খামারি মো. আজিজুল হক বলেন, আমি একজন ডেইরি পিজি সদস্য। পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করেও ভ্যাকসিন পাইনি। আমার ১০টা গরুর মধ্যে ইতোমধ্যে একটি গরু আক্রান্ত, গরুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। সয়ার ইউনিয়নের বকশি পাড়া গ্রামের খামারি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লাইজুন বকশি বলেন, সরকার পিজি গ্রুপের সদস্যভুক্ত খামারিদের জন্য যে ভ্যাকসিন বরাদ্দ দিয়েছে, আমি এখন পর্যন্ত তা

ভ্যাকসিন না পাওয়ায় ল্যাম্পি আতঙ্কে খামারিরা
রংপুরের তারাগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে গরুর ল্যাম্পি স্ক্রিন ডিজিজ (এলএসডি)। অভিযোগ উঠেছে মজুত থাকা সত্ত্বেও পিজি বা নন পিজি গ্রুপের আওতাধীন খামারিরা পায়নি সেই এলএসডি ভ্যাকসিন। ফলে ভাইরাসজনিত এই রোগ ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি অনেকের।  জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলার সকল পিজি গ্রুপ খামারিদের মধ্যে এলএসডি ভ্যাকসিন প্রদান শেষ করার কথা ছিল; কিন্তু নভেম্বরের শেষেও তা শুরু হয়নি। উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কুর্শা, সয়ার, আলমপুর, হাড়িয়ারকুঠিসহ ইকোরচালী ইউনিয়নের প্রায় খামারির গরু ল্যাম্পি রোগে আক্রান্ত। যথাসময়ে এলএসডি ভ্যাকসিন না দেওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার পিজি ও নন পিজি গ্রুপের প্রান্তিক খামারিরা। উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের খামারি মো. আজিজুল হক বলেন, আমি একজন ডেইরি পিজি সদস্য। পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করেও ভ্যাকসিন পাইনি। আমার ১০টা গরুর মধ্যে ইতোমধ্যে একটি গরু আক্রান্ত, গরুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। সয়ার ইউনিয়নের বকশি পাড়া গ্রামের খামারি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লাইজুন বকশি বলেন, সরকার পিজি গ্রুপের সদস্যভুক্ত খামারিদের জন্য যে ভ্যাকসিন বরাদ্দ দিয়েছে, আমি এখন পর্যন্ত তা পাইনি। ইতোমধ্যে আমার খামারের একটি গরু ল্যাম্পি রোগে আক্রান্ত। পিজি গ্রুপের সদস্য হয়েও পশু হাসপাতালের সহযোগীতা না পেয়ে আমি হোমিও ট্রিটমেন্ট করাচ্ছি। উপজেলার মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা মো. আজাহারুল বলেন, পিজি গ্রুপের সদস্য সঞ্চয় পরিশোধ করলে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। কিন্তু আমার কোনো সঞ্চয় বকেয়া নাই, তবুও ভ্যাকসিন দেয়নি। পশু হাসপাতালের অবহেলার কারণে আমরা খামারিরা গরু নিয়ে ঝুঁকিতে আছি। কেউ কেউ বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছি, দেখি আল্লাহ কি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খামারি বলেন, পিজি গ্রুপের সদস্যরা এখনো এলএসডি ভ্যাকসিন পায়নি। বর্তমান তারাগঞ্জে ল্যাম্পি আক্রান্ত অনেক খামারির গরু। দ্রুত প্রতিকার করা না হলে এই উপজেলার গরু খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা এলডিডিপি প্রকল্প কর্মকর্তা (এলইও) মো. আমিনুল ইসলাম কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) ভেটেরিনারি সার্জন মোছা. ইসরাত জাহান ইমা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি না হয়ে সাফ বলে দেন, ‘তথ্য অধিকারের মাধ্যমে তথ্য নেন।’ উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ল্যাম্পি রোগের গুরুত্ব বিবেচনা ও টিকার কার্যক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে অনতিবিলম্বে টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদারকরণে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow