মধ্যনগরে চোরাচালানের নিরাপদ রুট এখন ‘বাঙ্গালভিটা’
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সীমান্তে কোনোভাবেই থামছে না গবাদিপশু ও ভারতীয় পণ্যের অবৈধ চোরাচালান। গত ২৯ জুলাই ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দের পর, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারও সমপরিমাণ গবাদিপশু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঘন ঘন বিপুল চোরাই পণ্য আটকের ঘটনায় উঠে এসেছে, সীমান্ত চোরাচালানের জন্য এখন সবচেয়ে সক্রিয় ও নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই ‘বাঙ্গালভিটা’। রোববার (২ আগস্ট) ভোররাতে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাঙ্গালভিটা বিওপির বিজিবি সদস্যরা চেঙ্গিছড়া এলাকার সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ২৮টি ভারতীয় মাঝারি আকারের গরু উদ্ধার করেন। জব্দকৃত গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে বাঙ্গালভিটা বিজিবি ক্যাম্পের একটি দল সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বেআইনিভাবে ভারত থেকে আনা গরুগুলো জব্দ করা হলেও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এর আগে, গত ২৯ জুলাই (বুধবার) ভোররাতে সীমান্তের বাকাতলা এলাকায় একই কায়দায় অভিযান চালিয়ে একটি স্টিল বডির নৌকাসহ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সীমান্তে কোনোভাবেই থামছে না গবাদিপশু ও ভারতীয় পণ্যের অবৈধ চোরাচালান। গত ২৯ জুলাই ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দের পর, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারও সমপরিমাণ গবাদিপশু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ঘন ঘন বিপুল চোরাই পণ্য আটকের ঘটনায় উঠে এসেছে, সীমান্ত চোরাচালানের জন্য এখন সবচেয়ে সক্রিয় ও নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই ‘বাঙ্গালভিটা’।
রোববার (২ আগস্ট) ভোররাতে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাঙ্গালভিটা বিওপির বিজিবি সদস্যরা চেঙ্গিছড়া এলাকার সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ২৮টি ভারতীয় মাঝারি আকারের গরু উদ্ধার করেন। জব্দকৃত গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে বাঙ্গালভিটা বিজিবি ক্যাম্পের একটি দল সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বেআইনিভাবে ভারত থেকে আনা গরুগুলো জব্দ করা হলেও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, গত ২৯ জুলাই (বুধবার) ভোররাতে সীমান্তের বাকাতলা এলাকায় একই কায়দায় অভিযান চালিয়ে একটি স্টিল বডির নৌকাসহ ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছিল বিজিবি, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ছিল ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
সম্প্রতি এই সীমান্ত এলাকার চোরাচালান চক্রের ভয়াবহ রূপ সামনে আসে। বাঙ্গালভিটা বিওপির অদূরে রূপনগর সীমান্তে গরুভর্তি একটি ট্রলার আটকের সময় বিজিবির ১১ সদস্যের টহল দলকে ঘিরে ফেলে প্রায় শতাধিক চোরাকারবারি। তারা দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি গাদা বন্দুক থেকে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে বিজিবির নায়েক মো. আখিরুজ্জামান গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় নিখোঁজ ট্রলার মাঝি ওমর আলীর ভাসমান মরদেহ দুই দিন পর টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা ও বাকাতলা সীমান্তকে ‘সেফ রুট’ হিসেবে ব্যবহার করছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র। ভারত থেকে গবাদিপশু ছাড়াও মাদক, চিনি ও বিপুল প্রসাধন-সামগ্রী নিয়মিত দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে বিজিবির অভিযানে কিছু মালামাল জব্দ হলেও চোরাচালান স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির জানান, উদ্ধারকৃত গরুগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে (কাস্টমস) হস্তান্তর করা হবে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
What's Your Reaction?