মন ভালো রাখতে বিজ্ঞানসম্মত ৯ উপায়

প্রতিটি দিন শুরু মানেই নতুন করে ভাবার সুযোগ। আগের দিনের দুশ্চিন্তা, চাপ আর হতাশা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকে সবারই। কিন্তু শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই যে মন ভালো থাকবে, তা নয়। ভালো খবর হলো, বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে কিছু বাস্তব ও কার্যকর উপায়, যেগুলো অনুসরণ করলে মানসিক সুস্থতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব। রাগকে কাজে লাগানো থেকে শুরু করে গান গাওয়া বা ছোট্ট ঘুম—এমনই ৯টি বিজ্ঞানসম্মত উপায় তুলে ধরা হলো, যা  আপনাকে আরও ভালো অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো।  নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা বন্ধ করুন অনেকেই মনে করেন সবকিছু নিখুঁতভাবে করা ভালো গুণ। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত পারফেকশনিস্ট হওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, নিখুঁত হওয়ার চাপ থেকে হতাশা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পারফেকশনিস্ট মানুষ নিজের জন্য অবাস্তব মানদণ্ড ঠিক করে এবং তা পূরণ না হলে নিজেকেই দোষ দেয়। এর ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। ভুল করলে নিজেকে ছোট না করে বরং বোঝার চেষ্টা করুন যে ভুল মানুষমাত্র

মন ভালো রাখতে বিজ্ঞানসম্মত ৯ উপায়

প্রতিটি দিন শুরু মানেই নতুন করে ভাবার সুযোগ। আগের দিনের দুশ্চিন্তা, চাপ আর হতাশা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকে সবারই। কিন্তু শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই যে মন ভালো থাকবে, তা নয়। ভালো খবর হলো, বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে কিছু বাস্তব ও কার্যকর উপায়, যেগুলো অনুসরণ করলে মানসিক সুস্থতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।

রাগকে কাজে লাগানো থেকে শুরু করে গান গাওয়া বা ছোট্ট ঘুম—এমনই ৯টি বিজ্ঞানসম্মত উপায় তুলে ধরা হলো, যা  আপনাকে আরও ভালো অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো। 

নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা বন্ধ করুন

অনেকেই মনে করেন সবকিছু নিখুঁতভাবে করা ভালো গুণ। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত পারফেকশনিস্ট হওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, নিখুঁত হওয়ার চাপ থেকে হতাশা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

পারফেকশনিস্ট মানুষ নিজের জন্য অবাস্তব মানদণ্ড ঠিক করে এবং তা পূরণ না হলে নিজেকেই দোষ দেয়। এর ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। ভুল করলে নিজেকে ছোট না করে বরং বোঝার চেষ্টা করুন যে ভুল মানুষমাত্রই করে। পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে ভুল করাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়।

বন্ধুত্ব আরও শক্ত করুন

ভালো বন্ধুত্ব শুধু মন ভালো রাখে না, শরীরকেও সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো বন্ধু থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং আয়ু বাড়ে।

তবে শুধু বন্ধু থাকা নয়, আপনি কেমন বন্ধু, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারও সুখের খবরে আন্তরিক আনন্দ প্রকাশ করুন, তার সাফল্য উদযাপন করুন। এতে সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং দুজনেরই মন ভালো থাকে।

সামাজিক কোনো শখ শুরু করুন

নতুন শখ শুরু করার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। ছবি আঁকা, গান শেখা, নাটক, খেলাধুলা বা কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া—এসব কাজ মানসিক চাপ কমায়।

দলগত খেলাধুলা বা গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি বিশেষভাবে উপকারী। একসঙ্গে কাজ করার ফলে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয় এবং একাকিত্ব কমে।

রাগকে ভালো কাজে লাগান

রাগ সাধারণত নেতিবাচক মনে হলেও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি শক্তিতে পরিণত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাগ চেপে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

বরং রাগ এলে তা কাজে লাগান—দৌড়ানো, ব্যায়াম, খেলাধুলা বা সৃজনশীল কাজে। তবে রাগ যেন কারও ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে একটু সময় নিন।

কৃতজ্ঞতার তালিকা লিখুন

প্রতিদিন তিনটি ভালো ঘটনার কথা লিখে রাখার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যে দারুণ প্রভাব ফেলে— এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

দিনের শেষে ছোট হলেও ভালো তিনটি বিষয় লিখুন এবং ভাবুন—কেন সেগুলো আপনাকে ভালো লাগিয়েছে। এতে ধীরে ধীরে মন ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নিতে শেখে।

ফোনকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করুন

আমাদের অনেকেরই দিনে অগণিতবার ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস আছে। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার মনোযোগ ও ঘুমের ক্ষতি করতে পারে।

তবে ফোনের ভালো ব্যবহারও আছে। নোট নেওয়া, কাজের তালিকা তৈরি করা বা রিমাইন্ডার সেট করা মস্তিষ্কের চাপ কমায়। নোটিফিকেশন একসঙ্গে পাওয়ার সেটিং ব্যবহার করলে মনোযোগ নষ্ট কম হয়। চাইলে কিছু সময় ফোন অন্য ঘরে রেখে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শীতের অন্ধকার দিনগুলোকে গ্রহণ করুন

শীতে দিনের আলো কমে যাওয়ায় অনেকের মন খারাপ থাকে। তবে গবেষণা বলছে, শীতের ভালো দিকগুলো দেখার চেষ্টা করলে মন ভালো থাকে।

শীতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘরোয়া সময়, প্রিয় সিনেমা; এসব উপভোগ করার মানসিকতা গড়ে তুলুন। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই শীতে একে অন্যের কাছাকাছি থাকতে চায়।

মন ভালো করতে গান গান

একাই হোক বা দল বেঁধে গান গাওয়া মানসিক চাপ কমায়। গান গাওয়ার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কাজ করে, যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।

গান গাওয়া হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ব্যথাও কমাতে পারে। এটি এক ধরনের হালকা ব্যায়ামও বটে। তাই বাথরুমে হোক বা রান্নাঘরে—মন চাইলে গান গাইতেই পারেন।

অল্প সময়ের ঘুম নিন

অনেক দেশে দুপুরে অল্প ঘুম নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫-১৫ মিনিটের ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ করে এবং কাজের দক্ষতা বাড়ায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে—২০ মিনিটের বেশি ঘুমালে মাথা ভার লাগতে পারে। সবচেয়ে ভালো সময় দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে।

ভালো থাকার জন্য বড় কোনো পরিবর্তন দরকার হয় না। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই পারে আমাদের মন ও শরীর সুস্থ রাখতে। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া, কৃতজ্ঞতা চর্চা করা কিংবা একটু গান গাওয়া—এসব সহজ কাজই ২০২৬ সালকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। মনে রাখবেন, ভালো থাকা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি একটি প্রয়োজন। আজ থেকেই ছোট একটি পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন।

সূত্র : BBC

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow