‘মনে হয় না সব গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারবো’
ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনা। তবে বিক্রেতাদের দাবি, হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও সে তুলনায় ক্রেতা কম। আর যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই কম দাম বলছেন। ফলে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী। সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুরের কালশী পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় হাটজুড়ে কাদার সৃষ্টি হয়। বিক্রেতাদের কেউ কাদা পরিষ্কার করেছেন, কেউ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে গরু সরিয়ে নিয়েছেন। আবার অনেককে গরুকে হাতে তুলে খাবার খাওয়াতে দেখা যায়। রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন সাইফুল শেখ। প্রতিটি গরুর দাম হাঁকছেন ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। মিরপুরের কালশী পশুর হাটে ক্রেতাদের অপেক্ষায় বিক্রেতারা, ছবি: জাগো নিউজ সাইফুল শেখ বলেন, ‘হাটের অবস্থা দেখে মনে হয় না সব গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারবো। দাম চাইলেই ক্রেতা বলে বাজেট নাই। দাম শুনে ক্রেতা হাঁটা দেয়। অথচ গোখাদ্যের দাম অনেক বেশি। এখন ক্রেতারা গরুপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম বলছে।’ একই জেলার আরেক ব
ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনা। তবে বিক্রেতাদের দাবি, হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও সে তুলনায় ক্রেতা কম। আর যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই কম দাম বলছেন। ফলে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী।
সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুরের কালশী পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় হাটজুড়ে কাদার সৃষ্টি হয়। বিক্রেতাদের কেউ কাদা পরিষ্কার করেছেন, কেউ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে গরু সরিয়ে নিয়েছেন। আবার অনেককে গরুকে হাতে তুলে খাবার খাওয়াতে দেখা যায়।
রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন সাইফুল শেখ। প্রতিটি গরুর দাম হাঁকছেন ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
মিরপুরের কালশী পশুর হাটে ক্রেতাদের অপেক্ষায় বিক্রেতারা, ছবি: জাগো নিউজ
সাইফুল শেখ বলেন, ‘হাটের অবস্থা দেখে মনে হয় না সব গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারবো। দাম চাইলেই ক্রেতা বলে বাজেট নাই। দাম শুনে ক্রেতা হাঁটা দেয়। অথচ গোখাদ্যের দাম অনেক বেশি। এখন ক্রেতারা গরুপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম বলছে।’
একই জেলার আরেক বিক্রেতা আবদুল গফুর নয়টি গরু নিয়ে এসেছেন কালশী হাটে। এর মধ্যে দুটি গরু ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাকি গরুগুলোর দাম দেড় লাখ টাকা চাইলেও ক্রেতারা এক লাখ টাকার বেশি বলছেন না বলে অভিযোগ তার।
মিরপুরের কালশী পশুর হাট, ছবি: জাগো নিউজ
আবদুল গফুর বলেন, ‘হাতে আর দুই দিন আছে, কিন্তু হাটে ক্রেতা কম। এখন গরু না কিনলে মানুষ আর কবে কিনবে?’
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম হাকছেন। চাকরিজীবী শিবলী আহমেদ ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘হাট এখনো জমেনি। বিক্রেতারা কিছুটা বেশি দাম বলছেন। তবে আমি খুব বেশি দরদাম করিনি।’
মিরপুরের কালশী পশুর হাট, ছবি: জাগো নিউজ
বড় গরু ঘিরে ভিড়, কম ক্রেতা
হাটে বড় গরুর প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। টাঙ্গাইল থেকে ১২টি গরু এনেছেন শাহাদাত হোসেন। এর মধ্যে একটি গরুর দাম চাইছেন ৮ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, ‘শখ করে সাত বছর ধরে গরুটি লালন-পালন করেছি। প্রায় ২৬ থেকে ২৭ মণ মাংস হবে। সবাই গরুটা দেখছে, ছবি তুলছে। কিন্তু দাম বলছে কম। পাঁচ লাখ পর্যন্ত বলেছে। সাড়ে ছয় লাখ হলে বিক্রি করবো।’
সাভারের হেমায়েতপুর থেকে আসা বিক্রেতা আমির হোসেনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি ছয়টি বড় গরু এনেছেন, প্রতিটির দাম চাইছেন প্রায় আট লাখ টাকা।
আমির হোসেন বলেন, ‘মানুষ গরু দেখছে, ছবি তুলছে, কিন্তু দাম বলছে না।’
মিরপুরের কালশী পশুর হাটে ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন ক্রেতারা, ছবি: জাগো নিউজ
এদিকে রাজধানীর মাটিকাটা এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান ছেলে ও সহকর্মীদের নিয়ে গরু কিনতে এসেছিলেন কালশী হাটে। তিনি জানান, তাদের বাজেট দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু সেই বাজেটের মধ্যে পছন্দমতো গরু পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ‘যেগুলো পছন্দ হচ্ছে, সেগুলোর দাম সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা চাচ্ছে। তাই এখন গাবতলীর হাটে যাচ্ছি।’
এসএম/এমএমএআর
What's Your Reaction?