মন্ত্রীর আশ্বাসেও চাকরি হয়নি মাস্টার্স পাস প্রতিবন্ধী আরিফার
জীবনের পথ কখনো মসৃণ হয় না। কারো জন্য তা আরও কঠিন হয়ে ওঠে শারীরিক সীমাবদ্ধতায়। তবুও কিছু মানুষ আছে যারা প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলে। লালমনিরহাটের তরুণী আরিফা আক্তার সেই লড়াকু মানুষেরই একজন, যিনি প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছেন মানুষের মনোবলই তার আসল শক্তি। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যাকে হার মানাতে পারেনি, অভাব তাকে প্রতিনিয়ত ফেলছে চ্যালেঞ্জের মুখে। স্নাতকোত্তর পাস আরিফার সংসার চলে টিউশনি করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আরিফার একটি সরকারি চাকরির আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। লালমনিরহাট পৌরসভার শাহী টারী এলাকার বাসিন্দা আরিফা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুই হাত স্বাভাবিক নয়। ছোটবেলা থেকেই জীবনের প্রতিটি ধাপে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। পরিবার চিকিৎসার চেষ্টা করলেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। বরং প্রতিকূলতাকেই করেছেন নিজের শক্তি। যেখানে অন্য শিক্ষার্থীরা হাত দিয়ে লেখালেখি করে, সেখানে আরিফা শিখেছেন পা দিয়ে লিখতে। পা দিয়েই বইয়ের পাতা উল্টানো, খাতায় লেখা- সবকিছুই করেছেন অবলীলায়। শুধু তাই নয়, এখন তিনি
জীবনের পথ কখনো মসৃণ হয় না। কারো জন্য তা আরও কঠিন হয়ে ওঠে শারীরিক সীমাবদ্ধতায়। তবুও কিছু মানুষ আছে যারা প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলে। লালমনিরহাটের তরুণী আরিফা আক্তার সেই লড়াকু মানুষেরই একজন, যিনি প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছেন মানুষের মনোবলই তার আসল শক্তি।
তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যাকে হার মানাতে পারেনি, অভাব তাকে প্রতিনিয়ত ফেলছে চ্যালেঞ্জের মুখে। স্নাতকোত্তর পাস আরিফার সংসার চলে টিউশনি করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আরিফার একটি সরকারি চাকরির আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
লালমনিরহাট পৌরসভার শাহী টারী এলাকার বাসিন্দা আরিফা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুই হাত স্বাভাবিক নয়। ছোটবেলা থেকেই জীবনের প্রতিটি ধাপে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। পরিবার চিকিৎসার চেষ্টা করলেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। বরং প্রতিকূলতাকেই করেছেন নিজের শক্তি।
যেখানে অন্য শিক্ষার্থীরা হাত দিয়ে লেখালেখি করে, সেখানে আরিফা শিখেছেন পা দিয়ে লিখতে। পা দিয়েই বইয়ের পাতা উল্টানো, খাতায় লেখা- সবকিছুই করেছেন অবলীলায়। শুধু তাই নয়, এখন তিনি টিউশনিও করেন। তার লেখা যেমন সুন্দর, তেমনি তার শেখানোর দক্ষতাও প্রশংসনীয়।
ছোটবেলা থেকেই আরিফার স্বপ্ন ছিল একদিন সরকারি চাকরি করবেন। সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সম্পন্ন করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের পড়াশোনা। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দেওয়াল এখন তার সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জীবনের সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে বাবার মৃত্যুর পর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে যাওয়ায় সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। বৃদ্ধ মাকে নিয়ে অল্প আয়ে সংসার চালানো এখন তার প্রতিদিনের লড়াই। টিউশনি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলছে তাদের জীবন।
আরিফা বলেন, একসময় খুব খারাপ লাগতো, অন্যদের হাত আছে, আমার নেই। পরে বুঝেছি, এটাই আমার বাস্তবতা। আমি যা পারি, সেটাকেই আমার শক্তি হিসেবে নিয়েছি। আমি নিজের মেধা ও পরিশ্রমের ওপর ভরসা রাখতে চাই। তবে সরকার যদি একটু সহানুভূতিশীল হয় তাহলে আমার মতো একজন প্রতিবন্ধীর জন্য একটি চাকরির সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
আরিফার কাছে পড়তে আসা শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার বলেন, আমরা অবাক হয়ে দেখি ফুফি পা দিয়ে লিখে, বই খোলে, আমাদের পড়ায়। তার লেখা অনেক সুন্দর। তাকে দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই।
স্থানীয় বাসিন্দা নিশাতুজ্জামান সাথী বলেন, যেখানে অনেক সুস্থ মানুষও উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারে না, সেখানে আরিফা আপা পা দিয়ে লিখে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়েছেন। তিনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সরকার যদি তাকে একটি চাকরি দেয়, তাহলে সেটি একটি সংগ্রামী জীবনের স্বীকৃতি হবে।
আরিফার মা মমতাজ বেগম বলেন, জন্মের পর থেকেই মেয়েটা এমন। অনেক চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু পুরোপুরি ভালো হয়নি। তারপরও তাকে পড়িয়েছি। এখন সে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছে। যদি একটা চাকরি পায়, তাহলে আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক তিনি বলেন, মন্ত্রীসহ আমরা তার বাসাটি পরিদর্শন করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি খুবই অসহায় জীবনযাপন করে, তাদের থাকার মতো একটা জায়গা নেই। সে যথেষ্ট শিক্ষিত, মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। তার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন আমাদের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। আমরা জেলা পরিষদ থেকে বলেছি যতদিন সে পড়ালেখা করবে জেলা পরিষদ থেকে তাকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হবে।
মহসীন ইসলাম শাওন/এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?