২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮২২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে ১৪৬ কোটি ২৭ লাখ এবং উন্নয়ন খাতে ৬৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬৪৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মসিকের সাধারণ সভায় বাজেটটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সাধারণ সংস্থাপন খাতে ৩৫ কোটি ৭৪ লাখ, শিক্ষাখাতে ৪ কোটি ৬৫ লাখ, স্বাস্থ্যখাতে ৬ কোটি ৫০ লাখ, পরিচ্ছন্নতা খাতে ১৬ কোটি ৬০ লাখ, বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও সড়কবাতি খাতে ১১ কোটি, রাস্তা, ড্রেন ও হাটবাজার নির্মাণে ১০ কোটি, খাল ও ড্রেন খননে ২ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৬৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মসিকের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, আগামী অর্থবছরের মোট বাজেটের মধ্যে রাজস্ব বাজেট ১৪৬ কোটি ২৭ লাখ এবং উন্নয়ন বাজেট ৬৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ধরা হয়েছে ৬৪৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সংশোধিত ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯০ কোটি ১১ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ নগরীতে আসছেন। ফলে জনসংখ্যা ও নাগরিক সেবার চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের অভাবে স্থানীয় রাজস্ব আয় সীমিত থাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
প্রশাসক রোকন জানান, এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। তবে সম্প্রসারিত এলাকায় উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে কর নির্ধারণ করা হবে। তার আগে নতুন কর আরোপের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নগরীর উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করায় আকুয়া ও গোহাইলকান্দি খালে আবারও পানিপ্রবাহ ফিরেছে। বর্ষায় কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা হলেও আগের মতো দীর্ঘস্থায়ী পানি জমে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে সাড়ে পাঁচ শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তি উন্নয়নেও কাজ চলছে। তবে সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করার সুযোগ নেই এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভায় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ, প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক রাজীব উল হাসান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী ও এ কে এম মাহবুবুল আলম, জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিম, মহানগর নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল, সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সার, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান ছোটন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।