মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় লোমহর্ষক সেই মুহূর্ত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী ঘটনার বিভীষিকাময় বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, হঠাৎ পাশের বাসা থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গৃহকর্ত্রী শাহীনুর বেগমকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। কিছুক্ষণ পর কান্নার শব্দ থেমে গিয়ে চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। রানীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর তিনি ঘরের ভেতর একজনকে চলাফেরা করতে দেখেন। প্রথমে তিনি ধারণা করেন, শাহীনুরের ছেলে সিফাত ঘরে ফিরেছে। কিন্তু নাম ধরে ডাকলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এর কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে জানালা বন্ধ করার শব্দ শোনা যায়। পরবর্তীতে জানালার কাছে গিয়ে তিনি এক অচেনা যুবককে প্যান্ট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। জিজ্ঞাসাবাদে যুবকটি নিজেকে পাইপলাইন মেরামতের কর্মী বলে দাবি করে। তবে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রানী দ্রুত বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেন এবং আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। রানীর ডাক শুনে প্রতিবেশীরা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী ঘটনার বিভীষিকাময় বর্ণনা দিয়েছেন।
তিনি জানান, হঠাৎ পাশের বাসা থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গৃহকর্ত্রী শাহীনুর বেগমকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। কিছুক্ষণ পর কান্নার শব্দ থেমে গিয়ে চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে।
রানীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর তিনি ঘরের ভেতর একজনকে চলাফেরা করতে দেখেন। প্রথমে তিনি ধারণা করেন, শাহীনুরের ছেলে সিফাত ঘরে ফিরেছে। কিন্তু নাম ধরে ডাকলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এর কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে জানালা বন্ধ করার শব্দ শোনা যায়।
পরবর্তীতে জানালার কাছে গিয়ে তিনি এক অচেনা যুবককে প্যান্ট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। জিজ্ঞাসাবাদে যুবকটি নিজেকে পাইপলাইন মেরামতের কর্মী বলে দাবি করে। তবে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রানী দ্রুত বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেন এবং আশপাশের লোকজনকে ডাকেন।
রানীর ডাক শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহীনুর বেগম ও তার মেয়েদের মরদেহ দেখতে পান। এসময় অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে বাসার ছাদে আশ্রয় নেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানোর সময় তিনি মারা যান।
গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে এর আগে এলাকায় দেখেননি বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী রানী। তবে স্থানীয়দের মধ্যে শোনা যাচ্ছে, সে একসময় ওই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বলে জানা গেছে এবং রায়পুরে অবস্থানকালে সে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করত।
নিহত শাহীনুর বেগমের স্বামী কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে পরিবারটি আর্থিক সংকটে থাকলেও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চলছিল। পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনায় মেধাবী ছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
বড় মেয়ে সায়মা আক্তার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ছেলে সিফাত রায়পুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার মার্চেন্টস একাডেমিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নদীপাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।
What's Your Reaction?