মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন

কেরানীগঞ্জে মা মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম সাইফুল আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, মূলত এনজিও থেকে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন গৃহশিক্ষিকা মিম। আর সেই টাকার জামিনদার ছিল নিহত রোকেয়া বেগম। রোকেয়া বেগমের মেয়ে মিমের কাছে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকায় রোকেয়া এনজিওয়ের টাকার জামিনদার হয়েছিল। সম্প্রতি বেশ কিছু ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়ায় মিমের সাথে রোকেয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়। ২৫ ডিসেম্বর রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমা পড়তে এসে মা টাকার কথা বলেছে এমন কথা বলতেই রেগে গিয়ে মিম ও তার মেঝ বোন নুরজাহান ফাতেমার গলার ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পর মেয়ে বাসায় ফিরছে না দেখে রোকেয়া বেগম মীমের বাড়িতে গিয়ে দেখে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় সে চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে মিমের মেঝ বোন নুরজাহান তাকেও পেছন থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরে। পরবর্তীতে নুরজাহান ও মিম দুজনে মিলে শ্বাসরোধ রোকেয়া বেগমকে হত্যা করে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রা

মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন

কেরানীগঞ্জে মা মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম সাইফুল আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মূলত এনজিও থেকে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন গৃহশিক্ষিকা মিম। আর সেই টাকার জামিনদার ছিল নিহত রোকেয়া বেগম। রোকেয়া বেগমের মেয়ে মিমের কাছে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকায় রোকেয়া এনজিওয়ের টাকার জামিনদার হয়েছিল। সম্প্রতি বেশ কিছু ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়ায় মিমের সাথে রোকেয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়।

২৫ ডিসেম্বর রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমা পড়তে এসে মা টাকার কথা বলেছে এমন কথা বলতেই রেগে গিয়ে মিম ও তার মেঝ বোন নুরজাহান ফাতেমার গলার ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পর মেয়ে বাসায় ফিরছে না দেখে রোকেয়া বেগম মীমের বাড়িতে গিয়ে দেখে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় সে চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে মিমের মেঝ বোন নুরজাহান তাকেও পেছন থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরে। পরবর্তীতে নুরজাহান ও মিম দুজনে মিলে শ্বাসরোধ রোকেয়া বেগমকে হত্যা করে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে এবং আগে হত্যা করা ফাতেমার লাশ টয়লেটের ফলস ছাদে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখে।

এরপর মেঝ বোন নুরজাহান বেগম ফাতেমার পরনে থাকা জামা কাপড় খুলে সেগুলো পড়ে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে যায়। এতে করে সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় ফাতেমা পড়া শেষে বাসায় ফিরে যাচ্ছে। আসলে এটা ছিল মেজ বোন নুরজাহান। এই নুরজাহান ফাতেমার সাথে একই শ্রেণীতে পড়াশুনা করতো। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে সিসি ক্যামেরায় এক নারীকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় গৃহ শিক্ষিকা মীমের বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে এটা ছিল নুরজাহান যে ১৫ মিনিট আগে ফাতেমার জামাকাপড় পড়ে বাইরে গিয়েছিল। বোরকা পরে আসার কারণে যাতে পুলিশ কিংবা অন্য কেউ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কিছু বুঝতে না পারে। এ সময় পুরো ঘটনাটা মীমের ছোট বোন মাহি সবকিছু দেখছিল। তবে গৃহশিক্ষিকা মাহির স্বামী হুমায়ূন বাহিরে ছিল।

ওসি এম সাইফুল আলম আরো জানান, ২৫ তারিখ নিখোঁজ হলেও ২৭ তারিখ নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী হুমায়ুন মিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডাইরির সূত্র ধরে সন্দেহভাজন গৃহ শিক্ষিকার বাসায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা ও গৃহ শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হুমায়ুন মিয়া নিশ্চিত করেন তার মেয়ে ফাতেমা গৃহশিক্ষিকার বাসা থেকে পড়া শেষে বেড়িয়ে গেছে। কারণ সিসি ক্যামেরায় তার মেয়ের পরনের জামা কাপড় পরিহিত একটি মেয়েকে বের হতে দেখা যায়। এটা দেখে হুয়ায়ূন পুলিশকে নিশ্চিত করেন। এ কারণেই তদন্ত ভিন্ন খাতে চলে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক চারজনের মধ্যে মিম ও তার বোন নুরজাহানকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা দুজনে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীদের রাজি হয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে মুক্তিরবাগ এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ কোনো তল্লাশি চালায়নি। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী নিজেরাই দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে শিক্ষিকা মীমের ফ্ল্যাটে পৌঁছায়। দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে তারা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বাধ্য করে ঘটনাস্থলে আসতে। পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে মীমের শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে রোকেয়ার অর্ধগলিত লাশ এবং বাথরুমের ফলস ছাদ থেকে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য: বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীগঞ্জের কালিন্দি মুক্তিরবাগ এলাকায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ওরফে ফাতেমা (১৪) এবং তার মা রোকেয়া রহমান (৩২) এর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে মডেল থানা পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহশিক্ষিকা মীম বেগম (২২), তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮), মেজো বোন নুরজাহান বেগম (১৪) ও ছোটবোন মাহি (১১) কে আটক করে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow