মাগুরায় স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে হত্যার দায়ে হাসান শেখ (২৭) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) মাগুরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসান শেখ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাট শ্রীকোল গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ বিকেল থেকে ওই স্কুলছাত্রী নিখোঁজ ছিল। পরদিন ১৮ মার্চ দুপুরে স্থানীয় কুমার নদের পাড়ে একটি বাঁশঝাড়ের পাশ থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর ১৯ মার্চ রাতে শ্রীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে হাসান শেখকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান শেখ ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তদন্তে ভুক্তভোগী মেয়েটির পোশাকে একটি সূক্ষ্ম লোম পাওয়া যায়, যা ডিএনএ পরীক্ষায় আসামি হাসানের বলে প্রমাণিত হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত
মাগুরায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে হত্যার দায়ে হাসান শেখ (২৭) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) মাগুরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসান শেখ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাট শ্রীকোল গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ বিকেল থেকে ওই স্কুলছাত্রী নিখোঁজ ছিল। পরদিন ১৮ মার্চ দুপুরে স্থানীয় কুমার নদের পাড়ে একটি বাঁশঝাড়ের পাশ থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর ১৯ মার্চ রাতে শ্রীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে হাসান শেখকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান শেখ ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তদন্তে ভুক্তভোগী মেয়েটির পোশাকে একটি সূক্ষ্ম লোম পাওয়া যায়, যা ডিএনএ পরীক্ষায় আসামি হাসানের বলে প্রমাণিত হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত ব্লেডে ভুক্তভোগীর রক্ত পাওয়ার বিষয়টি ফরেনসিক রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়, যা আদালতে রাষ্ট্রপক্ষকে অপরাধ প্রমাণে সবচেয়ে বড় সহায়তা করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়েটি কুমার নদের পাড়ে একটি রসুন ক্ষেত দেখতে গেলে আসামি হাসান শেখ তাকে অনুসরণ করে। একপর্যায়ে একটি বাঁশবাগানের ভেতর নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি বাধা দিলে হাসান প্রথমে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং পরবর্তীতে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্তে সরাসরি ধর্ষণের প্রমাণ না মিললেও ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে হাসান শেখকে একমাত্র আসামি করা হয়। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে বিচারক আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিহত স্কুলছাত্রীর মা বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের আশায় দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। আজ আদালত আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন, একজন মা হিসেবে আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। এখন আমার একটাই আকুল আবেদন, এই ফাঁসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।
অন্যদিকে, এই রায়কে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরিবার। আসামির বাবা ফজলু শেখ বলেন, ঘটনার দিন আমার ছেলে নসিমন গাড়ি নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে বাজারে এবং পরে শ্বশুরবাড়িতে যায়। সে অপরাধী হলে তো পালিয়ে যেত। এলাকার কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। মামলার তদন্তেও অনেক গড়মিল রয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।