মাছ নেই নদীতে, ভালো নেই গোমতী-মেঘনার জেলেরা
একসময় দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আর স্বচ্ছ পানির জন্য পরিচিত ছিল কুমিল্লার গোমতী ও মেঘনা নদী। নদীকেন্দ্রিক জীবিকায় সচ্ছল ছিলেন হাজারো জেলে। কিন্তু দূষণ, অবাধ মাছ নিধন, পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত নানা কারণে আজ সেই চিত্র বদলে গেছে। মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন নদী-নির্ভর জেলেরা। স্থানীয়রা জানান, আগের মতো এখন দেশীয় মাছ নদীতে নেই। স্বচ্ছ পানি থাকলেও কলকারখানার ক্যামিকেল যুক্ত পানি নদীর দূষণ বাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ময়লা আবর্জনায় নদীকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কোথাও কোথাও পলি ও চর পড়ে নদীর আকার কমেছে। ফসলি জমির কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে মিশে নদীতে পড়ছে। চায়না জালে মাছ নিধন ও নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছের উৎপাদন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। ফলে আগের মতো গোমতী ও মেঘনা নদীতে দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। এতে জেলেরাও মাছ ধরে সচ্ছল জীবন যাপন করতে পারছেন না। কেউ কেউ পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। সরকারিভাবে তেমন সহযোগিতাও পাচ্ছেন না তারা। সরেজমিনে জেলে পাড়া ঘুরে জানা গেছে, দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে জেলেদের বসবাস। নদীর পাড়ের এই গ্রামে পূর্ব
একসময় দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আর স্বচ্ছ পানির জন্য পরিচিত ছিল কুমিল্লার গোমতী ও মেঘনা নদী। নদীকেন্দ্রিক জীবিকায় সচ্ছল ছিলেন হাজারো জেলে। কিন্তু দূষণ, অবাধ মাছ নিধন, পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত নানা কারণে আজ সেই চিত্র বদলে গেছে। মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন নদী-নির্ভর জেলেরা।
স্থানীয়রা জানান, আগের মতো এখন দেশীয় মাছ নদীতে নেই। স্বচ্ছ পানি থাকলেও কলকারখানার ক্যামিকেল যুক্ত পানি নদীর দূষণ বাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ময়লা আবর্জনায় নদীকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কোথাও কোথাও পলি ও চর পড়ে নদীর আকার কমেছে। ফসলি জমির কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে মিশে নদীতে পড়ছে। চায়না জালে মাছ নিধন ও নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছের উৎপাদন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। ফলে আগের মতো গোমতী ও মেঘনা নদীতে দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। এতে জেলেরাও মাছ ধরে সচ্ছল জীবন যাপন করতে পারছেন না। কেউ কেউ পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। সরকারিভাবে তেমন সহযোগিতাও পাচ্ছেন না তারা।
সরেজমিনে জেলে পাড়া ঘুরে জানা গেছে, দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে জেলেদের বসবাস। নদীর পাড়ের এই গ্রামে পূর্বপুরুষ থেকেই বসবাস করে আসছেন তারা। মাছ ধরাই তাদের পৈতৃক পেশা। কয়েক বছর ধরে জেলে পাড়ার বাসিন্দাদের সংখ্যা কমছে। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে না তাদের। তাই, কেউ কেউ অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। বসতিও করেছেন অন্যত্রে। তাই দিন দিন এই জেলে পাড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে জেলের সংখ্য কমে যাচ্ছে।
জেলে পাড়ায় বর্তমানে ১০ থেকে ১২টা পরিবার রয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা রয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ জনের। আর এরাই তাদের পূর্বপুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন। বিশুদ্ধ পানি ও বৈদ্যুতিক লাইটের আলো থাকলেও জেলে পাড়ার বাসিন্দারা এখনও পিছিয়ে যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসায়। সেখান থেকে নদী পথে দাউদকান্দি আসতে সময় লাগে প্রায় ঘণ্টা খানেক। চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্রসহ স্কুল কলেজে পড়তে হলে এই নদী পথই তাদের ভরসা।
গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের সন্তুস বর্মন (৬৮) ও জয়দেব বর্মন (৫০) জানান, আগে নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। কলকারখানায় ময়লায় নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে এখন। মাছ পাওয়া যায় না। সন্তানদের নিয়ে কষ্টে আছেন। রাস্তা ঘাট নেই। রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ চন্দ্র বর্মন বলেন, ছোট বেলা থেকেই মাছ ধরি। নদীতে নন্দি বাইল্লা, চেউয়া, কাচকি, ট্যাংরা, বজুড়ি, পুঁটি, চেদুরী, বইচা, মলাইসহ নানান দেশীয় মাছ পেতাম। গত ১৫ বছর ধরে মাছ কমে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা গোমতীর ঘোলা পানির কারণেও মাছ কমে যাচ্ছে। বছরে তিন মাস মাছ ধরতে পারলেও বাকি ৯ মাস কৃষি কাজ করতে হয় আমাদের।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন রাতে নদীতে জাল ফেলে রাতভর যেই মাছ উঠে তা বিক্রি করে একেকজন ১ হাজার টাকা পাই। কখনো ২শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পাওয়া যায়। আবার কখনো নৌকার তেল খরচের টাকাও হয় না।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা, ডিমওয়ালা মাছ ধরে ফেলা, চায়না জাল ও জাগ দিয়ে মাছ নিধনের কারণে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে গেছে। কৃষি জমিতে ব্যবহার করা কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে নদীতে যুক্ত হচ্ছে। যার ফলে মাছের বংশ বিস্তারে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগে সরকারি বিভিন্ন প্রজেক্ট ছিল যার মাধ্যমে কার্ডধারী জেলেদের সহযোগিতা করা হতো। এখন কোন প্রজেক্ট নেই। তাই সহযোগিতাও করা যাচ্ছে না।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার বলেন, জেলে পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা চাইলে আমরা চেষ্টা করবো তাদের পাশে দাঁড়ানোর।
এনএইচআর
What's Your Reaction?