মাঝ আকাশে বিমানে এক হঠাৎ বিমানের এক যাত্রীর মৃত্যুর পর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন এক দম্পতি। গত সপ্তাহে মেলবোর্ন থেকে কাতারের রাজধানী দোহায় যাওয়ার সময় এমন অবস্থার মুখোমখি হন তারা।
সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্ন থেকে দোহা যাত্রায় একটি কাতার এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে এক দম্পতি চার ঘণ্টা ধরে একজন মৃত মহিলার দেহের পাশে বসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। ওই দম্পতির নাম মিচেল রিং এবং জেনিফার কলিন। গত সপ্তাহে তারা মেলবোর্ন থেকে কাতারের রাজধানী দোহায় যাওয়ার সময় এই ঘটনার সম্মুখীন হন।
ফ্লাইট চলাকালীন মাঝ আকাশে একজন মহিলা টয়লেট থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাদের সামনে মাটিতে পড়ে যান। পরে তার মৃত্যু হয়। দম্পতি অস্ট্রেলিয়ান নিউজ প্রোগ্রাম এ কারেন্ট অ্যাফেয়ার-কে জানান, তারা (কেবিন ক্রু) সবকিছু করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মহিলাটিকে বাঁচানো যায়নি, যা দেখতে বেশ হৃদয়বিদারক ছিল।
রিং বলেন, ফ্লাইট ক্রু তারপর ফ্লাইটের বাকি চার ঘণ্টার জন্য মহিলার দেহটি দম্পতির পাশের একটি খালি সিটে রাখে। তিনি বলেন, তারা কিছুটা হতাশ দেখাচ্ছিল, তারপর তারা আমাকে দেখল এবং দেখল যে আমার পাশে সিট খালি আছে, আমার স্ত্রী অন্য দিকে ছিলেন, আমরা চারজনের একটি সারিতে বসে ছিলাম। তারা বলল, ‘আপনি কি সরে যেতে পারেন?’ এবং আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, কোনো সমস্যা নেই।’ তারপর তারা মহিলাটির দেহটি আমার বসা সিটে রাখে।
কাতার এয়ারওয়েজ বুধবার একটি বিবৃতিতে বলে, মেলবোর্ন থেকে দোহায় যাওয়ার সময় ফ্লাইটে মারা যাওয়া যাত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমাদের সমবেদনা। মারা যাওয়া যাত্রীর পরিবারের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি এবং তাদের ক্ষতির জন্য সমবেদনা জানিয়েছি। তবে মৃত যাত্রীর পরিচয় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে এয়ারলাইনটি প্রথমে রাজি হয়নি।
দম্পতি বলেন, ফ্লাইট ক্রু তাদের বাকি ফ্লাইটের জন্য সিট পরিবর্তন করতে দেয়নি এবং অবতরণের সময় মেডিকেল স্টাফরা দেহটি নিয়ে কাজ করার সময় তাদের বসে থাকতে বলে। তারা আরও বলেন যে ঘটনার পরে কাতার এয়ারলাইনস তাদের কোনো ধরনের সহায়তা প্রদান করেনি।
রিং বলেন, গ্রাহক এবং কর্মীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত ছিল, আপনাদের কি কোনো সহায়তা দরকার, কাউন্সেলিং দরকার কিনা।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং তাদের উদ্বেগের সমাধান করার চেষ্টা করেছে।