মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ছাড়েননি দিলীপ, দেখেন বিশ্বকাপের স্বপ্নও

জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন হামিদ-মুন্নাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছেন হবিগঞ্জ ফুটবল অ্যাকাডেমি অ্যাকাডেমি থেকে জাতীয় দলে খেলেছে চার ফুটবলার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখেন এখনও এক সময় দেশের বিভিন্ন মাঠে তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হতো দর্শক। জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলে পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। মাঠের আক্রমণভাগে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, জিতিয়েছেন অসংখ্য ম্যাচ। প্রায় তিন দশক আগে খেলোয়াড় জীবনের ইতি টানলেও ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি কখনও। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে। তিনি হবিগঞ্জের কৃতি ফুটবলার দিলীপ চৌধুরী। শহরের মাস্টার কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা এই সাবেক ফুটবলার এখন জেলার তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার কারিগর। জেলা দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, পাশাপাশি পরিচালনা করছেন একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি। তার স্বপ্ন—একদিন হবিগঞ্জ পরিচিত হবে দেশের ‘ফুটবল নগরী’ হিসেবে। দিলীপ চৌধুরীর বিশ্বাস, বাংলাদেশের ফুটবল একদিন আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। শুধু তাই নয়, একদিন লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চেও খেলবে বাংলাদেশ। পারিবারিক জীবনে দিলীপ এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলেকেও বানিয়েছেন ফুটবলার।

মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ছাড়েননি দিলীপ, দেখেন বিশ্বকাপের স্বপ্নও
  • জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন হামিদ-মুন্নাদের সঙ্গে
  • প্রতিষ্ঠা করেছেন হবিগঞ্জ ফুটবল অ্যাকাডেমি
  • অ্যাকাডেমি থেকে জাতীয় দলে খেলেছে চার ফুটবলার
  • বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখেন এখনও

এক সময় দেশের বিভিন্ন মাঠে তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হতো দর্শক। জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলে পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। মাঠের আক্রমণভাগে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, জিতিয়েছেন অসংখ্য ম্যাচ। প্রায় তিন দশক আগে খেলোয়াড় জীবনের ইতি টানলেও ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি কখনও। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে।

তিনি হবিগঞ্জের কৃতি ফুটবলার দিলীপ চৌধুরী। শহরের মাস্টার কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা এই সাবেক ফুটবলার এখন জেলার তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার কারিগর। জেলা দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, পাশাপাশি পরিচালনা করছেন একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি। তার স্বপ্ন—একদিন হবিগঞ্জ পরিচিত হবে দেশের ‘ফুটবল নগরী’ হিসেবে।

দিলীপ চৌধুরীর বিশ্বাস, বাংলাদেশের ফুটবল একদিন আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। শুধু তাই নয়, একদিন লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চেও খেলবে বাংলাদেশ।

মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ছাড়েননি দিলীপ, দেখেন বিশ্বকাপের স্বপ্নও

পারিবারিক জীবনে দিলীপ এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলেকেও বানিয়েছেন ফুটবলার। খেলিয়েছেন জাতীয় পর্যায়ে।

সম্প্রতি দেশের ফুটবলের বর্তমান সংকট, সোনালী অতীত এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে জাগো নিউজকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেন বাফুফে তালিকাভুক্ত কোচ ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এ স্ট্রাইকার।

আলাপকালে দিলীপ চৌধুরী বলেন, ব্রাজিলকে মানুষ ফুটবলের দেশ বলে চেনে, আমি হবিগঞ্জকে ফুটবলের নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। মানুষ এক সময় এ জেলাকে ফুটবল দিয়েই চিনবে। আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমার প্রিয় মাতৃভূমিও বিশ্বকাপের আসরে খেলবে এবং সুনাম অর্জন করবে।’—দেশের ফুটবল নিয়ে এভাবেই নিজের লালিত স্বপ্নের কথা প্রকাশ করলেন আশির দশকের কৃতী এ ফুটবলার।

তিনি জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে তার প্রিয় দল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় অবস্থানে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সকেও রেখেছেন তিনি। তবুও বলছেন, এবার বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল করতে পারে এশিয়ার কোনো দেশ। এটি হতে পারে চীন বা জাপান।

পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার ও হবিগঞ্জ অ্যাকাডেমি

শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি তীব্র ঝোঁক ছিল দিলীপ চৌধুরীর। এক পর্যায়ে একেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। মাঠের আক্রমণভাগে (টপ ফিল্ড) খেলা এই ফুটবলার ঢাকা ওয়ান্ডার্স এবং চলন্তিকা ক্রীড়া চক্রের হয়ে দীর্ঘদিন জাতীয় পর্যায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। খেলেছেন জাতীয় ফুটবল দলের হয়েও। সমসাময়িক দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদ, মোনায়েম মুন্না ও সাব্বিরদের সঙ্গে সতীর্থ হিসেবে খেলার গৌরবময় অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তার নেতৃত্বেই চলন্তিকা ক্রীড়া চক্র পরপর চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখায়।

১৯৯৬ সালে বুটজোড়া তুলে রাখলেও ফুটবলকে ছাড়তে পারেননি। নিয়মিত মাঠে গিয়ে অনুজদের প্রশিক্ষণ দিতেন। এক পর্যায়ে ২০০২ সালে জেলা দলের কোচ হিসেবে যোগ দেন তিনি। একই বছর ফুটবলকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কয়েকজন মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘হবিগঞ্জ ফুটবল অ্যাকাডেমি’। শুরুতে মাত্র ১০-১৫ জন শিশু-কিশোর নিয়ে যাত্রা করলেও বর্তমানে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৩০ জন।

মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ছাড়েননি দিলীপ, দেখেন বিশ্বকাপের স্বপ্নও

শুধু হবিগঞ্জ নয়, বরিশাল ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেলেরা এখানে ফুটবল শিখতে আসছে। এ অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা ৪ জন ফুটবলার ইতোমধ্যে জাতীয় দলে খেলেছেন, যাদের মধ্যে ২ জন এখনও খেলছেন। অ্যাকাডেমির নিজস্ব জিম সেন্টারসহ সামগ্রিক খরচের বড় একটি অংশ জোগান দিচ্ছেন জেলার প্রবাসী বাংলাদেশিরা, যারা পর্দার অন্তরালে থেকেই ফুটবলের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এই ট্রেইনার।

আলাপকালে দেশের ফুটবলের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন দিলীপ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন ভালো ঘরোয়া লিগ হচ্ছে না। একেকজন সংগঠক বা প্রভাবশালী ২-৩টি করে ক্লাব দখল করে আছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের অনুশীলনের জন্য ভালো কোনো খেলার মাঠ নেই। ফলে তাদের মানসিক বিকাশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ফুটবল থেকেও কোনো ভালো আউটপুট আসছে না।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘দিন দিন মানুষ ফুটবলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। অভিভাবকরা এখন সন্তানদের ফুটবল খেলায় দিতে চান না। তারা মনে করেন ফুটবল খেললে ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে; বরং সবাই সন্তানদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান। আমাদের এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। খেলাধুলা যে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ঘটায়, তা অনুধাবন করতে হবে।’

তিনি বলেন, একসময় যে নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের কাছে ৫-৬ গোল খেত, তারা আজ সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ফুটবলে আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের দেশের কিছু আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের ছেলেরাই কেবল এখন এ খেলাটিকে টিকিয়ে রেখেছে।

প্রযুক্তির আসক্তি বনাম মাঠের সোনালী অতীত

নিজেদের খেলোয়াড়ি জীবনের স্মৃতিচারণ করে জাগো নিউজকে দিলীপ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সময় আধুনিক প্রযুক্তি বা তেমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না। তবে চারপাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ও মাঠ ছিল। আমরা স্কুল থেকে ফিরেই মাঠে ছুটে যেতাম। আর এখন প্রযুক্তি উন্নত হলেও ছেলে-মেয়েরা স্কুল থেকে এসেই মোবাইল গেম বা ইউটিউব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ছাড়েননি দিলীপ, দেখেন বিশ্বকাপের স্বপ্নও

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে এ ভার্চুয়াল আসক্তি থেকে বের করে মাঠমুখী করতে হবে। একটি সন্তান খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সে কখনো মাদকাসক্তি বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারে না।’

উত্তরণের উপায় ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত

দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন, বিশেষ করে ‘নতুন কুঁড়ি’র মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে ফুটবলকে নিয়ে যাওয়া একটি দারুণ কাজ। এ নতুন কুঁড়িকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি অ্যাকাডেমি কাপ ও বয়সভিত্তিক খেলার মান উন্নত করতে হবে। পর্যাপ্ত টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং জাতীয় পর্যায়ের লিগগুলোতে আগের মতো জৌলুস ফিরিয়ে আনলে তৃণমূল থেকেই ছেলেরা আবার ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

দেশের ফুটবলের হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন দিলীপ চৌধুরী। তার মতে, ঘরোয়া ফুটবলের মান দিন দিন কমছে এবং এর উত্তরণে প্রতিটি সমস্যাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সাক্ষাৎকারে দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে করণীয় নিয়ে এ সাবেক তারকা ফুটবলার বলেন, আমাদের সময়, অর্থাৎ ’৮০-এর দশকে ঘরোয়া ফুটবলের মান ও জৌলুস অনেক বেশি ছিল। এখন খেলার মান ক্রমান্বয়ে কমছে। ফুটবলের সেই সোনালী ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের প্রতিটি দুর্বল দিক ও পয়েন্ট চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ফুটবলের পাইপলাইন শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত, আমাদের বয়সভিত্তিক খেলার মান বাড়াতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও জাতীয় স্তরে পর্যাপ্ত পরিমাণ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা জরুরি। টুর্নামেন্ট যত বেশি হবে, নতুন নতুন প্রতিভা তত বেশি উঠে আসবে।

সবশেষ জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ও ক্লাব কাঠামোর সংস্কার দাবি করে দিলীপ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে লিগের সংখ্যা এবং ম্যাচের পরিমাণ বাড়াতে হবে। শুধু তাই নয়, আগের মতো শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খলভাবে দলগুলোকে সাজাতে হবে, যাতে প্রতিটি ম্যাচেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়। তৃণমূলের ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো প্রতিভাদের যদি সঠিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে লিগগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবেই আমাদের দেশের ফুটবলের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব।’

ইআরকে/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow