হোসে মরিনহো হয়তো জীবনে এতটা খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি। কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নিলেন আর সেই ক্লাব তাকে মাত্র ৬ ম্যাচ পরই বরখাস্ত করলো- বিষয়টা কেমন দাঁড়ায়!
হ্যাঁ, এমনটাই ঘটলো সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি কোচের ক্ষেত্রে। হোসে মরিনহোকে এই মৌসুমে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলো তুর্কি ক্লাব ফেনারবাচ। মরিনহোর প্রথম দায়িত্বই ছির, ক্লাবকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে তোলা। এ জন্য তাদের সামনে বাধা ছিল শুধু পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। এই ক্লাবটির বিপক্ষেই প্লে-অফ খেলেছিল ফেনারবাচ।
কিন্তু হোসে মরিনহো ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে তুলতে ব্যর্থ হলেন। যে কারণে তাকে বরখাস্ত করেছে তুর্কি ক্লাবটি। বেনফিকার কাছে হেরে প্লে-অফ রাউন্ড থেকে বিদায়ের মাত্র দুইদিন পরিই ৬২ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচকে বিদায়ের বার্তা দিয়ে দেয় তুর্কি ক্লাবটি।
গত মৌসুমে সুপার লিগে গ্যালাতাসারাইয়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে রানার্স-আপ হয়েছিল ফেনারবাচ। নতুন মৌসুম শুরুর আগে মরিনহোকে দায়িত্বে আনা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার দায়ে চাকরি হারালেন তিনি।
এক বিবৃতিতে ফেনারবাচ বলেছে, ‘আমরা হোসে মরিনহোর সঙ্গে পথ আলাদা করে নিয়েছি। ক্লাবের হয়ে তার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাই এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে সাফল্য কামনা করি।’
মজার বিষয় হলো, হোসে মরিনহোর উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দায়িত্ব নেওয়া ওলে গানার সোলশায়েরও একই সময়ে চাকরি হারিয়েছেন। তিনি ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী তুর্কি ক্লাব বেসিকতাসে।
মরিনহো ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমা থেকে বরখাস্ত হওয়ার ছয় মাসেরও কম সময় পর ফেনারবাচে যোগ দেন। এর আগে তিনি পোর্তো, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং টটেনহ্যাম হটস্পারকে কোচিং করিয়েছেন।
তবে তুরস্কে তার মেয়াদের স্বল্প সময়টি ছিল বিতর্কে ভরা। ফেব্রুয়ারিতে গ্যালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর তার বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদী মন্তব্য’ করার অভিযোগ আনা হয়। যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন এবং পাল্টা মামলা করেন।
তুরস্কে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দেন মরিনহো। রেফারিদের সমালোচনা করায় তাকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল (পরে কমে দুই ম্যাচে নেমে আসে)। এপ্রিল মাসে তুর্কি কাপে গ্যালাতাসারাইয়ের কোচ ওকান বুরুকের নাক চেপে ধরার কারণে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হন।
অথচ সিরিয়াল উইনার হিসেবে পরিচিত মরিনহো ফেনারবাচেতে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। সুপার লিগে রানার্স-আপ, তুর্কি কাপে গ্যালাতাসারাইয়ের কাছে হার, ইউরোপা লিগের শেষ ষোলোয় রেঞ্জার্সের কাছে হেরে বিদায়- সব মিলিয়ে হতাশাজনক সময় কেটেছে তার জন্য।
নতুন মৌসুমে প্রথম দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট পেলেও বেনফিকার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে ইউরোপা লিগে নেমে যায় ফেনারবাচ। এরপরই বরখাস্ত হলেন তিনি।
আইএইচএস/