মাথার ওপর খোলা আকাশ, চারপাশে সীমান্তের কাঁটাতারই যেন তাদের নিয়তি
দিন গড়িয়ে রাত আসে। আবার রাত পেরিয়ে ভোর হয়। কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। মাথার ওপর খোলা আকাশ, চারপাশে সীমান্তের কাঁটাতার আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অপেক্ষা—এভাবেই কেটে যাচ্ছে নারী ও শিশুসহ ১২ জন মানুষের জীবন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্তসংলগ্ন একটি পাটখেতে গত শুক্রবার ভোর থেকে অবস্থান করছেন তারা। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি, আবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। ফলে কার্যত দুই দেশের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এ ঘটনায় শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশ-ইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত ১২ জনকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। জবাবে বিএসএফ জানায়, সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করতে হবে। এদিকে রোববার (১৪ জুন) ভোরেও মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের চল্লিশপ
দিন গড়িয়ে রাত আসে। আবার রাত পেরিয়ে ভোর হয়। কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। মাথার ওপর খোলা আকাশ, চারপাশে সীমান্তের কাঁটাতার আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অপেক্ষা—এভাবেই কেটে যাচ্ছে নারী ও শিশুসহ ১২ জন মানুষের জীবন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্তসংলগ্ন একটি পাটখেতে গত শুক্রবার ভোর থেকে অবস্থান করছেন তারা। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি, আবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। ফলে কার্যত দুই দেশের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এ ঘটনায় শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশ-ইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত ১২ জনকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
জবাবে বিএসএফ জানায়, সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করতে হবে।
এদিকে রোববার (১৪ জুন) ভোরেও মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া বিওপির আওতাধীন ৮৫/১৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ একজনকে সীমান্ত অতিক্রম করানোর পর পুনরায় নিজেদের কাঁটাতারের ভেতরে ফিরিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।
এদিকে শুক্রবার দিনগত রাতে দৌলতপুর সীমান্তের আরও দুটি পয়েন্ট দিয়ে নতুন করে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আটজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির টহল ও সতর্ক অবস্থানের কারণে কাউকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ঘটনার পরপরই বিজিবি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও শুক্রবার বিকেলে নির্ধারিত বৈঠকে বিএসএফ অংশ নেয়নি। পরে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ওই ১২ জন কাঁটাতারের এপারে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন। শুক্রবার ও শনিবার রাত তারা খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। রোববার দুপুরেও তাদের সীমান্তবর্তী ওই পাটখেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। নারী ও শিশুদের নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যাতে কেউ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবি কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না। ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত ১২ জন এখনও সেখানেই রয়েছে। রোববার ভোরেও পুশইনের চেষ্টা চালানো হলে তা প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতেও সীমান্তের দুটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে আবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে আমাদের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি।
আল-মামুন সাগর/কেএইচকে/এমএস
What's Your Reaction?