মাদকবিরোধী সংগঠনের আড়ালে চলছে ভয়ংকর চাঁদাবাজি, ডিএনসির সতর্কতা

‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নাম ব্যবহারকারী একটি কথিত সংগঠন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে সতর্কবার্তা দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সম্প্রতি ডিএনসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনটি বিভিন্ন সময় অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে মানববন্ধন ও অপপ্রচারমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে পরে নাম বা ছবি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা করছে। ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড মূলত চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের শামিল। ডিএনসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নামে কোনো সংগঠন তাদের অনুমোদিত, নিবন্ধিত বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান নয়। সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমের আর্থিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ডিএনসির কাছ থেকে লাইসেন্স বা অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। তবে প্রয়োজনীয় শর

মাদকবিরোধী সংগঠনের আড়ালে চলছে ভয়ংকর চাঁদাবাজি, ডিএনসির সতর্কতা
‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নাম ব্যবহারকারী একটি কথিত সংগঠন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে সতর্কবার্তা দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সম্প্রতি ডিএনসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনটি বিভিন্ন সময় অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে মানববন্ধন ও অপপ্রচারমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে পরে নাম বা ছবি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা করছে। ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড মূলত চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের শামিল। ডিএনসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নামে কোনো সংগঠন তাদের অনুমোদিত, নিবন্ধিত বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান নয়। সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমের আর্থিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ডিএনসির কাছ থেকে লাইসেন্স বা অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। তবে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া এবং সংগঠনটির নেপথ্যের ব্যক্তি সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে অতীত ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধমূলক অভিযোগ থাকায় তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এছাড়া মাদকবিরোধী প্রচারণার নামে অধিদপ্তরের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়েও ব্যর্থ হয় তারা। এর জের ধরেই ডিএনসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ডিএনসি জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। এছাড়া ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে মাসিক চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায়ও তার নাম আসে বলে দাবি করেছে ডিএনসি। ডিএনসি আরও বলেছে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ‘মাদকবিরোধী সংগঠন’ কিংবা ‘সাংবাদিক’ পরিচয় ব্যবহার করে অধিদপ্তরের নাম, লোগো ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এমনকি ডিএনসির নামে মাদকবিরোধী কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের প্রতারক চক্র সম্পর্কে জনগণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ডিএনসি। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অপপ্রচার, চাঁদাবাজি কিংবা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি। ডিএনসি জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow