মাদরাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে বিক্ষোভ

পাবনার আটঘরিয়ায় একটি মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। পরে তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাদ্রাসার প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। অভিযোগ ওঠা ওই দুই শিক্ষক হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি ও শিবপুর ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শামসুল আলম মঞ্জু আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র শিক্ষকতা দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করতেন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে নারীঘটিত একাধিক অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। সরকার পতনের পরও তিনি এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি বলে দাবি করেন তারা। আরও পড়ুন গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ করে চাঁদা আদায়, গ্রেফতার ৩ অভিভাবকদের অভিযোগ, সম্প্রতি একই মাদ্রাসার

মাদরাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে বিক্ষোভ

পাবনার আটঘরিয়ায় একটি মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। পরে তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাদ্রাসার প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী।

অভিযোগ ওঠা ওই দুই শিক্ষক হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি ও শিবপুর ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শামসুল আলম মঞ্জু আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র শিক্ষকতা দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করতেন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে নারীঘটিত একাধিক অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। সরকার পতনের পরও তিনি এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি বলে দাবি করেন তারা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সম্প্রতি একই মাদ্রাসার প্রভাষক আফরোজা খাতুনের সঙ্গে শামসুল আলম মঞ্জুর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পর্কসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ওই সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরে শামসুল আলম মঞ্জুর স্ত্রী শারমিন আলম বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও তারা দাবি করেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে এবং অনেকে সন্তানদের মাদরাসায় পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘মঞ্জু মাস্টার ও আফরোজা খাতুনের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে তারা কলঙ্কজনক কাজ করছেন। অতীতেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এতে আমরা চরম লজ্জিত ও বিব্রত।’

স্থানীয় রাহিমুল ইসলামসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আফরোজা খাতুনকে ঘিরে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তার আগের স্বামী ও অন্য এক শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও এলাকায় অভিযোগ উঠেছিল।

তাদের দাবি, এসব বিষয়ে তাদের কাছে বিভিন্ন নথিপত্র রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতার প্রভাবের কারণে অভিযুক্তরা শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শামসুল আলম মঞ্জু প্রায় এক বছর মাদরাসায় উপস্থিত না হয়েও প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত বেতন তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষিকা আফরোজা খাতুনের স্বামী মহিউল আলম ২০২০ সালে আত্মহত্যা করেন। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তা গোপন রেখে মৃত স্বামীর সরকারি পেনশন উত্তোলন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার পেনশন বন্ধ হয়ে যায়।

স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে শামসুল আলম মঞ্জুর স্ত্রী শারমিন আলম বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমার স্বামীর সঙ্গে আফরোজা ম্যাডামের সম্পর্কের কারণে সংসারে চরম অশান্তি চলছে। বারবার নিষেধ করার পরও তারা থামেননি। সম্প্রতি তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ পেয়ে ঘৃণায় আমি বাসা ছেড়ে চলে এসেছি। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে এমন কাজ মেনে নেওয়া যায় না। তাদের শাস্তি চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিক্ষিকা আফরোজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গণমাধ্যমকর্মীরা মাদ্রাসায় গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে চলে যান।

অভিযোগ অস্বীকার করে শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘এলাকাবাসীকেও ভুল বোঝানো হয়েছে। আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলাম না।’

শিবপুর ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি। উপাধ্যক্ষ আব্দুল আলিম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার বা করার নেই।’

আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনো ডাক ফাইল খুলতে পারিনি। তাই লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত নই। তবে অভিযোগ পেলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসজেডএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow