মাদুরো আটক: কারা এই ডেল্টা বাহিনী, কোন কাজে ব্যবহার করে পেন্টাগন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করতে যে বিশেষ বাহিনীকে ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সেটি হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’। প্রায় পাঁচ দশক আগে গঠিত এই বাহিনীকে পেন্টাগনের গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ইউনিটটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান ঘাঁটি নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থিত। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ‘২২তম স্পেশ্যাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস) রেজিমেন্ট’-এর আদলে ডেল্টা বাহিনীর কর্মপদ্ধতি গড়ে তোলা হয়। জানা যায়, মার্কিন সেনার তৎকালীন কর্নেল চার্লস বেকউইথ ব্রিটিশ এসএএস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন। ডেল্টা বাহিনীর পূর্ণ নাম ‘স্পেশ্যাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট–ডেল্টা’। এটি মার্কিন সেনার স্পেশ্যাল অপারেশনস কমান্ডের অধীন একটি ইউনিট এবং সরাসরি পেন্টাগনের জয়েন্ট স্পেশ্যাল অপারেশনস কমান্ডের কাছে জবাবদিহি করে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ করায় এই বাহিনীর অধিকাংশ অভিযানের তথ্য প্রকাশ্যে আসে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ এই ডেল্টা বাহিনী। বিশ্ব

মাদুরো আটক: কারা এই ডেল্টা বাহিনী, কোন কাজে ব্যবহার করে পেন্টাগন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করতে যে বিশেষ বাহিনীকে ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সেটি হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’। প্রায় পাঁচ দশক আগে গঠিত এই বাহিনীকে পেন্টাগনের গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মার্কিন সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ইউনিটটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান ঘাঁটি নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থিত। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ‘২২তম স্পেশ্যাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস) রেজিমেন্ট’-এর আদলে ডেল্টা বাহিনীর কর্মপদ্ধতি গড়ে তোলা হয়। জানা যায়, মার্কিন সেনার তৎকালীন কর্নেল চার্লস বেকউইথ ব্রিটিশ এসএএস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন।

ডেল্টা বাহিনীর পূর্ণ নাম ‘স্পেশ্যাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট–ডেল্টা’। এটি মার্কিন সেনার স্পেশ্যাল অপারেশনস কমান্ডের অধীন একটি ইউনিট এবং সরাসরি পেন্টাগনের জয়েন্ট স্পেশ্যাল অপারেশনস কমান্ডের কাছে জবাবদিহি করে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ করায় এই বাহিনীর অধিকাংশ অভিযানের তথ্য প্রকাশ্যে আসে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ এই ডেল্টা বাহিনী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু গোপন অভিযানে অংশ নিয়েছে তারা। ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় ‘অপারেশন প্রাইম চান্স’, ইরাক থেকে বন্দি উদ্ধার অভিযান, আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির বিরুদ্ধে অভিযান এবং সোমালিয়ার আলোচিত ‘অপারেশন গথিক সার্পেন্ট’-এ ডেল্টা বাহিনীর জড়িত থাকার কথা জানা যায়। ওসামা বিন লাদেনের সন্ধানে পরিচালিত অভিযানে ডেল্টা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন নৌবাহিনীর সিল টিম।

বন্দি উদ্ধার, সন্ত্রাসবাদ দমন, গোপন নজরদারি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ডেল্টা বাহিনী বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। স্বল্প দূরত্বে নিখুঁত নিশানা, স্নাইপার অপারেশন, বিস্ফোরক ব্যবহার এবং গোপন অনুপ্রবেশ—সব ক্ষেত্রেই এই বাহিনীকে দক্ষ হিসেবে ধরা হয়।

গঠনগতভাবে ডেল্টা বাহিনীতে মূলত চারটি স্কোয়াড্রন রয়েছে। প্রতিটি স্কোয়াড্রনে আবার তিনটি করে দল থাকে। এর মধ্যে একটি দল স্নাইপার ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকে, আর বাকি দুটি দল সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় ঢুকে মাদুরোকে আটক করার মতো উচ্চঝুঁকির অভিযানে ডেল্টা বাহিনী ব্যবহারের সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই ইউনিট কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কতটা আস্থার জায়গায় রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow