মাদুরোকে বন্দি: যুক্তরাষ্ট্রের সাফাই গাইছে যেসব দেশ

‘বিতর্কিত সামরিক অভিযানের’ মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বইছে সমালোচনার ঝড়, আবার অনেক দেশ একে স্বৈরাচারের পতন ও ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি ওয়াশিংটনের পক্ষ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাদুরোকে মাদক পাচার, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া দেশ ও সংস্থাগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত লাতিন আমেরিকার কিছু দেশ ও ইউরোপীয় মিত্ররাই ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিচ্ছে। সরাসরি পক্ষ নিয়েছে যারা: ১. ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, মাদুরোর মতো একজন মাদক কারবারি ও স্বৈরশাসকের পতন বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য জরুরি ছিল। ২. আর্জেন্টিনা: লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সবচেয়ে সোচ্চারভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি এই অভিযানকে ভ

মাদুরোকে বন্দি: যুক্তরাষ্ট্রের সাফাই গাইছে যেসব দেশ

‘বিতর্কিত সামরিক অভিযানের’ মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বইছে সমালোচনার ঝড়, আবার অনেক দেশ একে স্বৈরাচারের পতন ও ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি ওয়াশিংটনের পক্ষ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাদুরোকে মাদক পাচার, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া দেশ ও সংস্থাগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত লাতিন আমেরিকার কিছু দেশ ও ইউরোপীয় মিত্ররাই ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিচ্ছে।

সরাসরি পক্ষ নিয়েছে যারা:

১. ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, মাদুরোর মতো একজন মাদক কারবারি ও স্বৈরশাসকের পতন বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য জরুরি ছিল।

২. আর্জেন্টিনা: লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সবচেয়ে সোচ্চারভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি এই অভিযানকে ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য ‘মুক্তির নতুন সূর্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ও মাদুরোকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

৩. আলবেনিয়া ও কসোভো: ইউরোপের এই দুই দেশ শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের একনিষ্ঠ সমর্থক। মাদুরো ইস্যুতেও তারা ওয়াশিংটনের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অবস্থানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

৪. কানাডা: কানাডা সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ না নিলেও মাদুরোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। অটোয়া জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে মার্কিন এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

কৌশলগত সমর্থন ও সহানুভূতি:

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স: ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা ক্যালাস সরাসরি অভিযানের প্রশংসা না করলেও বলেছেন, মাদুরোর কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা ছিল না। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও মাদুরোর পতনকে স্বাগত জানিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ এখন স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত।

অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস): লাতিন আমেরিকার এই আঞ্চলিক সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারকে অবৈধ বলে আসছিল। মাদুরো গ্রেফতারের পর সংস্থাটি ভেনেজুয়েলায় দ্রুত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী যারা:

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ ও ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া, চীন, ইরান, কিউবা ও উত্তর কোরিয়া। ব্রাজিল ও কলম্বিয়াও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে।

সূত্র: দ্য হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আল-জাজিরা, রয়টার্স, সিবিএস, দ্য গার্ডিয়ান

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow