মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করার দাবি

নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই ‘মন্দের ভালো হিসাবে’ হলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। পরবর্তীতে কোথাও কোনো সংশোধন প্রয়োজন হলে তা সংশোধন করা যাবে বলেও মত দেন তারা। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান প্রমুখ। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আজকে সময় এসেছে এটাকে (অধ্যাদেশ) বাস্ত

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করার দাবি

নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই ‘মন্দের ভালো হিসাবে’ হলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। পরবর্তীতে কোথাও কোনো সংশোধন প্রয়োজন হলে তা সংশোধন করা যাবে বলেও মত দেন তারা।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান প্রমুখ।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আজকে সময় এসেছে এটাকে (অধ্যাদেশ) বাস্তবায়ন করা। সংসদে ও সংসদের বাইরে যারা আছেন এটার ব্যাপারে সবার জোরদার আওয়াজ তোলা দরকার। আজকের এই চেষ্টা তারই পরিচয়।

তিনি বলেন, গত তিন-চার দিন আগে মানবাধিকার কমিশনে যখন নাগরিক সমাজকে ডাকা হয়েছিল, আমি ওখানে ছিলাম। আজ আমাদের মঞ্চে যারা আছেন তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমরা বলেছি যে মন্দের ভালো হিসেবে এই অধ্যাদেশটি পাস হওয়া উচিত।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার শেষ সময়ে, শেষ দুই সপ্তাহের ভেতরে একটি অধ্যাদেশ করে, পরবর্তীতে আবার সেই অধ্যাদেশটি সংশোধনও করে এবং একটি মানবাধিকার কমিশন গঠন করে। সেই মানবাধিকার কমিশন এই মুহূর্তে বিরাজমান আছে।.. অধ্যাদেশটি ওই ১৩৩টির ভেতরে কিছু থাকবে, কিছু বাদ পড়বে, কিছু সংশোধন হবে, কোন তরিকাতে এটা থাকবে সেটার ব্যাপারে বক্তব্য আছে।

তিনি আরও বলেন, অধ্যাদেশটি পাস হলেও আরও অনেক দোষ-ত্রুটি থাকবে, কিন্তু এই এক মাসের ভেতরে এই দোষ-ত্রুটি সংশোধন করতে গেলে এটা আর পাস করা যাবে না।

মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, এই অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পাস করা জরুরি। পরবর্তীতে যদি কোনো জায়গায় আমরা মনে করি সংশোধন দরকার, সেটা পরবর্তীতে সংশোধন আসতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা মানবাধিকার কমিশন পূর্বের মতো চাচ্ছি না। নাগরিক সমাজ এবং সবার পক্ষ থেকে যে সুপারিশগুলো দেওয়া হয়েছে—সেগুলোর অনেকাংশে এখানে স্থান পেয়েছে, সেগুলোসহ যেন এটি পাস করা হয়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি এই অধ্যাদেশটি পাস করতে নিষেধ করিনি। তবে তা যেন এজ ইট ইজ না হয়। আমি একটা কথা বলতে চাই, এজ ইট ইজ পাস করার পক্ষে আমি না।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া প্রায় সবাই মানবাধিকার অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পাস করার দাবি জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করার দরকার নেই। তবে এই অধ্যাদেশটিকে আইন হিসেবে পাস করা উচিত।

ইএইচটি/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow