মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখার ৪ কার্যকর অভ্যাস
বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক তীক্ষ্ণতা বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া অনিবার্য, এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি সঠিক নয়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে বয়সের প্রভাব মোকাবিলা করবে, সে বিষয়ে বড় ভূমিকা রাখে। আমরা কীভাবে চলাফেরা করি, কীভাবে চিন্তা করি এবং অন্যদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক রাখি, এই সবকিছুই মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সম্প্রতি বয়সের সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে একাধিক গবেষণায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সচেতন কিছু জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে বয়সজনিত কগনিটিভ ডিক্লাইন বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের গতি ধীর করা সম্ভব। বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা কি কমানো সম্ভব? ফিনল্যান্ডের FINGER ট্রায়াল এবং যুক্তরাষ্ট্রের SMARRT ট্রায়াল - এই দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের শুরু থেকেই যদি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করা যায়, তাহলে বয়স বাড়লেও মানসিক সক্ষমতা ভালো রাখা সম্ভব। গবেষণাগুলো বলছে, একক কোনো অভ্যাস নয়, বরং একাধিক অভ্যাস একসঙ্গে অনুসরণ করলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এক
বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক তীক্ষ্ণতা বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া অনিবার্য, এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি সঠিক নয়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে বয়সের প্রভাব মোকাবিলা করবে, সে বিষয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
আমরা কীভাবে চলাফেরা করি, কীভাবে চিন্তা করি এবং অন্যদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক রাখি, এই সবকিছুই মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সম্প্রতি বয়সের সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে একাধিক গবেষণায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সচেতন কিছু জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে বয়সজনিত কগনিটিভ ডিক্লাইন বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের গতি ধীর করা সম্ভব।
বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা কি কমানো সম্ভব?
ফিনল্যান্ডের FINGER ট্রায়াল এবং যুক্তরাষ্ট্রের SMARRT ট্রায়াল - এই দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের শুরু থেকেই যদি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করা যায়, তাহলে বয়স বাড়লেও মানসিক সক্ষমতা ভালো রাখা সম্ভব। গবেষণাগুলো বলছে, একক কোনো অভ্যাস নয়, বরং একাধিক অভ্যাস একসঙ্গে অনুসরণ করলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি অভ্যাস একা আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না। বরং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চর্চা, সামাজিক যোগাযোগ এবং হৃদ্স্বাস্থ্য; সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবই দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে।
নিচে বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা ধীর করতে সহায়ক চারটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস তুলে ধরা হলো।
নিয়মিত শরীরচর্চা
নিয়মিত হাঁটা, দৌড়, সাইক্লিং কিংবা হালকা ব্যায়াম শুধু শরীর ভালো রাখে না, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বজায় রাখতে সাহায্য করে। অ্যারোবিক এক্সারসাইজ ও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা
বই পড়া, ধাঁধা সমাধান, দাবা বা কৌশলভিত্তিক খেলা, নতুন কিছু শেখা - এ ধরনের কাজ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত মানসিক চর্চা করলে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং বয়সের সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা
একাকীত্ব মানসিক অবক্ষয়কে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী বা সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। গল্প করা, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা কিংবা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
হৃদ্স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য রক্ষা
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন - এসব সমস্যা শুধু হৃদ্যন্ত্রের জন্য নয়, মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর। তাই রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য জরুরি। সহজভাবে বলা যায়, যা হৃদ্যন্ত্রের জন্য ভালো, তা মস্তিষ্কের জন্যও ভালো।
বয়স বাড়া থামানো যাবে না, কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক দুর্বলতা দ্রুত বাড়বে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সচেতন জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা, সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের যত্ন নিলে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে সক্রিয় ও সুস্থ থাকা সম্ভব। ছোট ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতে বড় সুফল এনে দিতে পারে। আজ থেকেই জীবনধারায় ইতিবাচক অভ্যাস যোগ করলে বয়সের পরেও মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখা সম্ভব।
What's Your Reaction?