মামলা থাকলেও গ্রেপ্তার নন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে সক্রিয় অর্ণব
শেরপুরের নকলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকলেও এখনো তিনি গ্রেপ্তার হননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই মামলার আসামি অর্ণব রায়কে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে আয়োজিত মিছিল ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেছেন মামলার বাদী। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নকলা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ণব রায় ১৫ নম্বর আসামি। মামলার বাদী শেরপুরের নকলা উপজেলার দুকুরিয়া পশ্চিম গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে সাকিবুল হাসান ওরফে মাসুম। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন,২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নকলা থানার পাইষ্কা বাইপাস মোড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্রচারণা চালান। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এ কার
শেরপুরের নকলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকলেও এখনো তিনি গ্রেপ্তার হননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই মামলার আসামি অর্ণব রায়কে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে আয়োজিত মিছিল ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেছেন মামলার বাদী। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নকলা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ণব রায় ১৫ নম্বর আসামি।
মামলার বাদী শেরপুরের নকলা উপজেলার দুকুরিয়া পশ্চিম গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে সাকিবুল হাসান ওরফে মাসুম। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন,২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নকলা থানার পাইষ্কা বাইপাস মোড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্রচারণা চালান। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে তিনি ও অন্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। পরে স্থানীয় ছাত্রসমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করে ৪ ফেব্রুয়ারি নকলা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
বাদীর দাবি, মামলার অধিকাংশ আসামি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় থাকলেও অর্ণব রায়কে এখনো নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের ব্যানারে আয়োজিত মিছিলেও তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার বাদী সাকিবুল হাসান ওরফে মাসুম বলেন, ‘আমার জানা মতে, অর্ণব রায়কে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
নকলা থানা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল সরকার বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকা কোনো আসামি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলে তা উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
নকলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ খোরশেদ আলম বলেন, ‘মামলার আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং তাকে আদালতের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অর্ণব রায়ের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, ‘যেহেতু এ মামলাটি আমি এই থানায় যোগদান করার আগের তাই মামলাটির বিস্তারিত দেখে অর্ণব রায়সহ সব আসামিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করব।’
What's Your Reaction?