মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সামলাতে এশিয়া সফরে মোদী

1 day ago 3

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট বাণিজ্যিক চাপ মোকাবিলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চীন, জাপান এবং রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে ভারত তার মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে, জাপানের কাছ থেকে এই খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আশা করছে ভারত।

সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, এটি সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার এবং নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণের একটি দারুণ সুযোগ।

যদিও ভারত বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে ট্রাম্পের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক সমস্যার সমাধান করবে। অন্যদিকে জাপানের প্রধান বাণিজ্য আলোচক এরই মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি চুক্তির বিষয়ে মতানৈক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

মোদীর জাপান সফর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মিলে কোয়াড জোটের সদস্য। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে প্রতিহত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও ভারত জানিয়েছে, মোদী ও ইশিবা এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করবেন। এনএইচকে পাবলিক ব্রডকাস্টার জানিয়েছে, আগামী এক দশকে জাপানি কোম্পানিগুলো ভারতে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে সুজুকি মোটরস আগামী ৫-৬ বছরে ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শুক্র ও শনিবার (২৯ ও ৩০ আগস্ট) জাপান সফরের পর মোদী সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনে যাবেন। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হয়েছে। মোদী সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সফরের মধ্যে ভারত ও চীন ৫ বছর পর আবার সরাসরি ফ্লাইট চালু করার বিষয়ে আলোচনা করছে। এছাড়া, হিমালয়ের তিনটি সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় চালু করার মতো বাণিজ্য বাধাগুলো শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। ভারত চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে বিনিয়োগের কড়াকড়ি শিথিল করার কথা ভাবছে এবং চীনও সম্প্রতি সার, বিরল খনিজ এবং টানেল বোরিং মেশিনের মতো পণ্য ভারতে রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ভারতকে চীনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এতে ভারত বেইজিং-এর নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-এ যোগ দিতে পারে। নিউ ইয়র্কের সিরাকিউস ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক দেবাশীষ মিত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তাতে ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই এটি একটি লাভজনক লেনদেন হতে পারে।

তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর উইলিয়াম ইয়াং সতর্ক করে বলেছেন যে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ সীমিত। তিনি বলেন, আপাতত চীন ভারতের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্ক ঠিক করতে আগ্রহী হবে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো সমাধান না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা কম।

সূত্র: সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

Read Entire Article