মার্কিন হামলায় কেন এবার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাবে ইরান

ইরানের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন নৌবহর। এ বহর যত কাছাকাছি হচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও সহিংস সরকারবিরোধী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সরাসরি সংঘর্ষের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে  এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি নেতৃত্ব বর্তমানে দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট কিন্তু হুমকিমূলক অবস্থান। এর ফলে শুধু তেহরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আগের মতো ধীর ও হিসেবি নাও হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান সাধারণত বিলম্বিত ও সীমিত প্রতিক্রিয়ার কৌশল নিয়েছে। ২০২৫ সালের ২১-২২

মার্কিন হামলায় কেন এবার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাবে ইরান
ইরানের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন নৌবহর। এ বহর যত কাছাকাছি হচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও সহিংস সরকারবিরোধী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সরাসরি সংঘর্ষের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে  এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি নেতৃত্ব বর্তমানে দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট কিন্তু হুমকিমূলক অবস্থান। এর ফলে শুধু তেহরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আগের মতো ধীর ও হিসেবি নাও হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান সাধারণত বিলম্বিত ও সীমিত প্রতিক্রিয়ার কৌশল নিয়েছে। ২০২৫ সালের ২১-২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তখন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হামলার আগাম সতর্কতা দেওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে শক্তি প্রদর্শন করেও বড় যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এ সময়ে বাগদাদে কুদস ফোর্স প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেখানেও আগাম সতর্কতা দেওয়া হয় এবং প্রাণহানি এড়ানো যায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান এখন অন্যতম গুরুতর অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও দেশটির ভেতরের চিকিৎসাকর্মীদের তথ্যমতে, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ আহত বা আটক হয়েছেন। তবে ইন্টারনেট বন্ধ ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর দায় অস্বীকার করে একে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে। দেশটি ইসরায়েলকে অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তারাও এই আন্দোলনকে গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এসব দমন-পীড়নের যৌক্তিকতা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা কমেছে, তা পুরোপুরি থামেনি। সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বিভাজন এখনো গভীর আকারে রয়েছে। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি নিরাপত্তা বাহিনী কয়েকটি শহরের অংশবিশেষে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারায় বলেও খবর পাওয়া যায়। পরে ব্যাপক বলপ্রয়োগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই অভিজ্ঞতা ইরানি কর্তৃপক্ষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যদি সীমিত হামলা চালায়, তাহলে ওয়াশিংটন সামরিক সাফল্যের দাবি করতে পারলেও ইরানি সরকার তা অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন আরও বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে ব্যাপক গ্রেপ্তার, কঠোর সাজা এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি বাড়বে। অন্যদিকে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে হামলা চালিয়ে ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে দুর্বল করে ফেলে, তাহলে ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিবিসি  জানিয়েছে, এই কারণেই তেহরান থেকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর বার্তা আসছে। আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো ছোট-বড় হামলাকে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে দেখা হবে। এই অবস্থান উপসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে, বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। দ্রুত ইরানি প্রতিক্রিয়া ওই দেশগুলো ও ইসরায়েলকে সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow