মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যটন, গভীর সমুদ্রের মৎস্য আহরণ (ডিপ সি ফিশিং) ও ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবাহতে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করা এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও পর্যটকদের জন্য বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ১৩ আগস্ট সাবাহ রাজ্যের গভর্নর তুন দাতুক সেরি পাঙ্গলিমা (ড.) মুসা বিন হাজি আমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কোটা কিনাবালুর সরকারি বাসভবন ইস্তানা সেরি কিনাবালুতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগস্ট সাবাহ রাজ্যের গভর্নর তুন দাতুক সেরি পাঙ্গলিমা (ড.) মুসা বিন হাজি আমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী/ছবি-সংগৃহীত বৈঠকে বাংলাদেশ ও সাবাহর মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির সময়োপযোগী উদ্যো
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যটন, গভীর সমুদ্রের মৎস্য আহরণ (ডিপ সি ফিশিং) ও ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একই সঙ্গে সাবাহতে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করা এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও পর্যটকদের জন্য বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ১৩ আগস্ট সাবাহ রাজ্যের গভর্নর তুন দাতুক সেরি পাঙ্গলিমা (ড.) মুসা বিন হাজি আমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কোটা কিনাবালুর সরকারি বাসভবন ইস্তানা সেরি কিনাবালুতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আগস্ট সাবাহ রাজ্যের গভর্নর তুন দাতুক সেরি পাঙ্গলিমা (ড.) মুসা বিন হাজি আমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী/ছবি-সংগৃহীত
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সাবাহর মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির সময়োপযোগী উদ্যোগ, যৌথ বিনিময় ও উদ্যোগ, কৃষি সহযোগিতা, শিক্ষা ও একাডেমিক বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যটন, ডিপ সি ফিশিং এবং ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাত গুরুত্ব পায়।

একটি লেন্সে বন্দি শত অনুভূতি
হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও সাবাহর ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে সাবাহ রাজ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন হাইকমিশনার। বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও পর্যটকদের সাবাহ ভ্রমণ আরও সহজ করার জন্য গভর্নরের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এছাড়া সাবাহ রাজ্যে বাংলাদেশের একটি অনারারি কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গভর্নরের পরামর্শ ও সহযোগিতা চান হাইকমিশনার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনারারি কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠিত হলে সাবাহতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ব্যবসায়ী, পর্যটক ও অন্যান্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
১৪ আগস্ট সাবাহ রাজ্য সরকারের সচিব ওয়াইবি দাতুক জাইনুদ্দিন বিন আমানের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন/ছবি-সংগৃহীত
বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে স্মারক উপহার বিনিময় করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাবাহর গভর্নরের জন্য নিয়ে যাওয়া উপহারসামগ্রী তার হাতে তুলে দেন হাইকমিশনার।
এ সময় হাইকমিশনের দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এবং প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৪ আগস্ট সাবাহ রাজ্য সরকারের সচিব ওয়াইবি দাতুক জাইনুদ্দিন বিন আমান এর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কোটা কিনাবালুর সাবাহ রাজ্য সরকারের সচিবালয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাবাহ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও সাবাহ রাজ্য সরকারের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
১৪ আগস্ট সাবাহ রাজ্য সরকারের সচিব ওয়াইবি দাতুক জাইনুদ্দিন বিন আমানের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন/ছবি-সংগৃহীত
সাবাহ মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্য। অর্থনীতি, পর্যটন, কৃষি, মৎস্য ও মানবসম্পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সাবাহর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর এ উদ্যোগ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে পারস্পরিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, হাইকমিশনারের পরপর দুই দিনের এ বৈঠকের মাধ্যমে সাবাহ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার পথ আরও সুগম হবে।
এমআরএম
What's Your Reaction?