‘মাস্টার-কী’তে উধাও গাড়ি
১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি বাসার পার্কিং থেকে চুরি হয়ে যায়, আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা মূল্যের টয়োটা প্রিমিও মডেলের একটি প্রাইভেটকার। গাড়িটির মালিক গণপূর্ত বিভাগের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। চুরির ঘটনায় ১৭ এপ্রিল পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার পায় মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ। এরপর অভিযান চালিয়ে পূর্ব নাসিরাবাদ থেকে মো. ইব্রাহিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া গাড়িটি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান কালবেলাকে জানান, উদ্ধার করা গাড়িটি জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা বা এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু এই একটি ঘটনায় নয়, চট্টগ্রামে প্রাইভেটকার চুরির কয়েকটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পার্কিং থেকে নিয়ে যাচ্ছে দামি গাড়ি। মোটরসাইকেল অথবা প্রাইভেট কার রেখে যেতেই মুহূর্তেই গায়েব করে ফেলছে চক্রের সদস্যরা। চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পরও থামানো যাচ্ছে না গাড়ি চুরি। এসব কাজে তারা ‘মাস্টার-কী’ব্যবহার করছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি বাসার পার্কিং থেকে চুরি হয়ে যায়, আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা মূল্যের টয়োটা প্রিমিও মডেলের একটি প্রাইভেটকার। গাড়িটির মালিক গণপূর্ত বিভাগের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। চুরির ঘটনায় ১৭ এপ্রিল পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার পায় মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ।
এরপর অভিযান চালিয়ে পূর্ব নাসিরাবাদ থেকে মো. ইব্রাহিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া গাড়িটি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান কালবেলাকে জানান, উদ্ধার করা গাড়িটি জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা বা এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু এই একটি ঘটনায় নয়, চট্টগ্রামে প্রাইভেটকার চুরির কয়েকটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পার্কিং থেকে নিয়ে যাচ্ছে দামি গাড়ি। মোটরসাইকেল অথবা প্রাইভেট কার রেখে যেতেই মুহূর্তেই গায়েব করে ফেলছে চক্রের সদস্যরা। চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পরও থামানো যাচ্ছে না গাড়ি চুরি। এসব কাজে তারা ‘মাস্টার-কী’ব্যবহার করছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
পুলিশ বলছে, সড়কের পাশে পার্কিং করা মোটরসাইকেল অথবা প্রাইভেটকার চুরি হয়ে গেলে তথ্য দিয়ে সন্দেহভাজন সহযোগিতাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। তবে বাড়ি, অফিস ইত্যাদির পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল অথবা প্রাইভেটকার চুরি গেলে সেখানে দায়িত্বরতদের যোগসাজসেই চুরির ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, চুরি বা ছিনতাইয়ের পর মামলা না করলে পুলিশ অ্যাকশনে যায় না। ঘটনার পরপর অনেকেই দ্রুত থানায় গিয়ে জিডি কিংবা মামলা করেন না, সেক্ষেত্রে সেসব ঘটনা আড়ালেই পড়ে যায়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ কালবেলাকে বলেন, চুরি বা ছিনতাইয়ের পর মামলা কিংবা জিডি হোক বা না হোক, খবর পেলেই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সিএমপি সব থানা চুরি, ছিনতাই রোধে এবং ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে জিরো টলারেন্স ভূমিকায় আছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ২৩১ নম্বর বাড়ি ‘দি বিটিআই মেট্রোপোল’-এর নিচতলায় পার্কিং থেকে ৪০ লাখ টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ‘নিশান এক্সট্রেইল’ গাড়ি চুরি হয়। এ ঘটনায় নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর অভিযানে নামে পুলিশ। পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ডিসি পার্ক এলাকায় থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের এক সক্রিয় সদস্য মো. সাইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে পার্কিং থেকে ডা. কামরুদ্দিন চৌধুরীর প্রাইভেটকার চুরি হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানড্যান্সার রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে সাদা রঙের টয়োটা করোলা অ্যাসিস্টা মডেলের গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পেশাদার চোরে চক্রের মো. রাসেল (৩৫) ও মো. হোসাইন ওরফে আহম্মদ হোসাইন (৪৩) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বর্তমানে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চুরির ঘটনা বেশি ঘটে পার্কিং থেকে। সাধারণ পেশার অন্তরালে তারা চুরি করে। সন্দেহ এড়াতে তাদের চলাফেরা খুবই সাধারণ এবং তারা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের সাথে চলাফেরা বা সম্পর্ক গড়ে তোলে। চুরির ক্ষেত্রে তারা চুরির স্থান পর্যবেক্ষণ করে। বিশেষ করে পার্কিং সিসি ক্যামেরার আওতাধীন কি না। পার্কিংয়ে দায়িত্বরতদের গতিবিধি, ডিউটি পরিবর্তনের সময়, ঘুমানোর সময় ইত্যাদি তারা খেয়াল রাখে।
অভিযোগ আছে, সাধারণত গাড়ি চুরির পর থানায় জিডি করলে পুলিশের টনক নড়ে। তখন তারা গাড়ি উদ্ধার এবং চোরকে ধরতে অভিযান চালায়। ঢাকায় ধোলাই খালের মতো চট্টগ্রামের মুরাদপুরে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়ে থাকে। সড়কের ওপর গাড়ি কাটা সেখানে লক্ষণীয়। গাড়ি চোর চক্রের সাথে তাদের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক আছে কি না সে বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি দেখা যায় না। তা-ছাড়া পুলিশ ছিঁচকে চোর, ছিনতাইকারীদের ধরলেও গাড়ি চোর চক্রের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে থাকে।
What's Your Reaction?