মাহদী হাসানকে গ্রেফতারের নেপথ্যের কারন জানা গেল!
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, "আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি।" এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি সারা দেশে 'টক অব দ্য টাউন'-এ পরিণত হয়। জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ তাকে গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আটক করে হবিগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসে। তাকে আটকের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশকে অনেকে স্বাগত জানান।এরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা আন্দোলনের ডাক দেন। তারা ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মসূচি আপডেট করতে থাকেন। সারারাত ধরে আন্দোলন চলে এবং সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে জামিন দেন আদালত। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে এ আদেশ দেওয়া হয়।এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এ সময় সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। মাহদী হাসা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, "আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি।" এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি সারা দেশে 'টক অব দ্য টাউন'-এ পরিণত হয়। জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ তাকে গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আটক করে হবিগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসে। তাকে আটকের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশকে অনেকে স্বাগত জানান।
এরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা আন্দোলনের ডাক দেন। তারা ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মসূচি আপডেট করতে থাকেন। সারারাত ধরে আন্দোলন চলে এবং সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে জামিন দেন আদালত। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এ সময় সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারে পুলিশি প্রতিবেদনে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়, তা হলো: হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মাহদী হাসান ও তার সঙ্গী নেতাকর্মীরা চলমান ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে আটককৃত ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান নয়নকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য থানায় হাজির হয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হুমকিধামকি দিতে থাকেন। সে সময় তিনি বলেন, হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছে ও এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মেরেছে।
উল্লেখ্য যে, গত ০২/০১/২০১৬ খ্রি. তারিখ রাত ১২টায় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি আভিযানিক দল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ৮নং সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার মামলা নং ০৪, তারিখ-১৭/০৯/২০২৪ খ্রি. ধারা-১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪৩৫/৩৮০/৪২৭/১১৪ পেনাল কোড-এর সন্দেহভাজন হিসেবে জড়িত মর্মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে উল্লেখিত আসামিকে থানা হাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক সামির সাকির নাফি ও খাইরুল ঠাকুরসহ অন্যান্য আরও অনুমান ১৫-২০ জন নেতাকর্মী অফিসার ইনচার্জ, শায়েস্তাগঞ্জ থানার কক্ষে প্রবেশ করে আটককৃত ব্যক্তিকে ৫ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখভাগের সৈনিক পরিচয় প্রদান করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। উক্ত বিষয়টি মাহদী হাসানের সঙ্গে থাকা অন্যান্য নেতাকর্মীগণ তাদের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
উক্ত ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাহদী হাসান আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন, "আমার ভাইকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমরা এতোগুলো ছেলে কি ভাইসা আসছি নাকি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাইয়া দিয়েছিলাম" মর্মে দাবি করেন।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ সার্কেল-এর উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতা এনামুল হাসান নয়নকে তার পরিবারের হেফাজতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। উক্ত ঘটনায় সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে মাহদী হাসানকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। উক্ত ঘটনায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০৩/০১/২০১৬ খ্রি. ধারা-১৪৩/১৮৬/১৮৯/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
এরপর শনিবার (৩ জানুয়ারি) তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মাহদী হাসান প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, "আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি।" এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে বসে মাহদী নিজেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা দাবি করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এবং হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। পরে শনিবার (৩ জানুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি মাহদীকে পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তার প্রদত্ত বক্তব্য সংগঠনের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং জনপরিসরে সংগঠনের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে। চিঠিতে মাহদীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে সংগঠনের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এ সময় সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, মাহদী হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, এনামুল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এনামুল হাসানকে আটকের পর তার মুক্তির দাবিতে গত শুক্রবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে নয়নকে সম্মুখ সারির জুলাই যোদ্ধা দাবি করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মাহদী হাসান।
জামিনে বের হয়ে এ সময় মাহাদী হাসান বলেন, ‘সারা দেশের সকল সহযোদ্ধাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পুরো বাংলাদেশের আমার বিপ্লবী ভাইয়েরা যেসকল জুলাই যোদ্ধা দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষ যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি এ ঋণ কখনও শোধ করতে পারবো না। আপনাদের এ দায়বদ্ধতা সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাশা পূরণ করবো ইনশাআল্লাহ।’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের মাধ্যমে আমরা মাহাদীকে মুক্ত করে নিয়ে আসছি। সাংবাদিকসহ সবাই রাতভর কষ্ট করায় আমরা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
What's Your Reaction?