মায়ের সামনে ছেলের মাথায় গরম পানি ঢেলে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মায়ের চোখের সামনে মো. তারেক ঢালী (১৭) নামে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধরের পর তার মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত তারেক বর্তমানে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সফিক প্রধান (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণপাড়া প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে সফিক প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর গ্রামের জাকির হোসেন ঢালীর ছেলে তারেক ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার ছোট ভাই মো. রাসেল (১৩)ও তার সঙ্গে কাজ করে। ছুটিতে বাড়িতে থাকাকালে মঙ্গলবার ভোরে পাশের প্রধানীয়া বাড়ির আল-আমীন, সফিক, তানিম ও মোতালেব প্রধান তাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তারেকের মা খুকী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “১২ বছর আগে তার বাবা মারা গেছেন। খেয়ে না খেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। ঘটনার দিন মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে আমার ছেলেকে ঘুম থ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মায়ের চোখের সামনে মো. তারেক ঢালী (১৭) নামে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধরের পর তার মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত তারেক বর্তমানে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সফিক প্রধান (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণপাড়া প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে সফিক প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর গ্রামের জাকির হোসেন ঢালীর ছেলে তারেক ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার ছোট ভাই মো. রাসেল (১৩)ও তার সঙ্গে কাজ করে। ছুটিতে বাড়িতে থাকাকালে মঙ্গলবার ভোরে পাশের প্রধানীয়া বাড়ির আল-আমীন, সফিক, তানিম ও মোতালেব প্রধান তাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
তারেকের মা খুকী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “১২ বছর আগে তার বাবা মারা গেছেন। খেয়ে না খেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। ঘটনার দিন মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে আমার ছেলেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় তারা। কেন নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। সফিক, আল-আমীন, তানিম ও মোতালেব প্রধান তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “সেখানে মোবাইল ফোন চুরির কথা বলে সন্দেহের বশে ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পেটানো হয়। এরপর তার মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে মারধর করা হয়। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ আমার ছেলেকে তাদের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।”
খুকী বেগম বলেন, পরে স্থানীয় সোবহান ঢালী, মো. রাকিব প্রধান, শরীফুল ইসলাম ও নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বিকেলে তারেককে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অর্থাভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে কষ্ট হচ্ছে জানিয়ে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, “দুই ভাই ঢাকায় শহীদুল্লাহ হলের ক্যান্টিনে কাজ করে। ছেলেটাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। যারা তাকে এভাবে মেরেছে, আমরা তাদের শাস্তি চাই। ওসি এসে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।”
এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সফিক প্রধানকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
What's Your Reaction?