মায়ের ২৫ বছর পর বেলস পার্কে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান

বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠ। এই মাঠেই দীর্ঘ ২৫ বছর আগে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যেই মঞ্চে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই একই মাঠ এবং একই মঞ্চে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান। তিনিও দীর্ঘ ২০ বছর পর বরিশালে আসছেন দলের প্রধান অর্থাৎ চেয়ারম্যান হয়ে। তবে বেলস পার্ক মাঠে এটিই তার প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ। তাই দীর্ঘ বছর পর তারেক রহমানের সফর ঘিরে শুধু বরিশাল নগরীতেই নয়, গোটা বিভাগজুড়েই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বুধবার সকাল ১১টায় জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর কথা থাকলেও প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখতে মঙ্গলবার বিকাল থেকেই নগরীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামতে শুরু করে। কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভাগের ৬টি জেলা এবং ৪২টি উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে বরিশাল নগরীতে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে শহরের প্রতিটি আবাসিক হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাসায়ও অবস্থ

মায়ের ২৫ বছর পর বেলস পার্কে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান

বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠ। এই মাঠেই দীর্ঘ ২৫ বছর আগে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যেই মঞ্চে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

সেই একই মাঠ এবং একই মঞ্চে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান। তিনিও দীর্ঘ ২০ বছর পর বরিশালে আসছেন দলের প্রধান অর্থাৎ চেয়ারম্যান হয়ে। তবে বেলস পার্ক মাঠে এটিই তার প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ।

তাই দীর্ঘ বছর পর তারেক রহমানের সফর ঘিরে শুধু বরিশাল নগরীতেই নয়, গোটা বিভাগজুড়েই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বুধবার সকাল ১১টায় জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর কথা থাকলেও প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখতে মঙ্গলবার বিকাল থেকেই নগরীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামতে শুরু করে। কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভাগের ৬টি জেলা এবং ৪২টি উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে বরিশাল নগরীতে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে শহরের প্রতিটি আবাসিক হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাসায়ও অবস্থান নিয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ জনসভার মাঠেই অবস্থান করেন।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে ধানের শীষ দিয়ে বানানো পোষাকসহ বিভিন্ন সাজে মাঠে ঘুরে বেড়ান বিএনপি এবং ধানের শীষের প্রেমিরা। তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে গোটা বরিশাল। এই জনসভা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলে সরবরাহ, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয়লেন মহাসড়ক বাস্তবায়ন এবং বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিবেন বলে আশাবাদী এই অঞ্চলের মানুষ।

এদিকে, শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সফল করতে বরিশাল নগরজুড়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব এবং পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকালে বেলস পার্কে জনসভাস্থল এবং মঞ্চ পরিদর্শন করেন তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রদানকারী এসএসএফ কর্মকর্তারা। তাছাড়া সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চাঁন বলেন, তারেক রহমানের বরিশাল সফল ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা। কেননা তিনি যেই মাঠে জনসভা এবং যেই মঞ্চেই বক্তব্য দিয়েছিলেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনী জনসভায় তিনি বেলস পার্কের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাছাড়া তারেক রহমান নিজেও দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে আসছেন। ২০০৬ সালে এসেছিলেন। তবে বেলস পার্কে তারুণ্যের সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। যে কারণে স্ব শরীরে তার বরিশাল সফল দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহণ করে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘বুধবার সকাল ১১টায় বেলস পার্ক মাঠে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। একই সময় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন তারেক রহমান। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার বরিশাল স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। তিনি বেলা ১২টায় জনসভার মঞ্চে থাকবেন। জনসভা শেষ করে দুপুর ১টায় হেলিকপ্টার যোগে ফরিদপুর যাবেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জনসভার স্থায়ী মঞ্চের সাথে কাঠের পাটাতন দিয়ে কিছুটা অংশ বর্ধিত করা হয়েছে। মঞ্চের সামনে কিছুটা দূরতে বাঁশ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে সীমনার বাহির পাশে। মাঠের মধ্যে ২০০ মাইক লাগানো হয়েছে। এছাড়া মঞ্চের সামনে সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। মাঠে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

জনসভায় অংশ নিতে আসা মানুষের মাঝে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য তিন দিকে বুথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব। মাঠের বাইরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow