মিটফোর্ডে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ, কর্মবিরতিতে ইন্টার্নরা
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তিনি হাসপাতালের একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় হিমেলের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন ছিলেন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার (২৪ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত দুইটার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী জানান, ‘দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের টিকিট কাটতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হিমেল বলেন যে ক
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তিনি হাসপাতালের একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় হিমেলের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন ছিলেন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার (২৪ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত দুইটার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী জানান, ‘দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের টিকিট কাটতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হিমেল বলেন যে কোনো টিকিট কাটতে হবে না, কারণ তিনি জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক। চিকিৎসকরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলে হিমেল এক চিকিৎসকের কলার ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পরে পাশে থাকা আরও দুই চিকিৎসক এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা ওই কক্ষের (৪২৯ নম্বর কক্ষ) দরজা বন্ধ করে সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।’
পরবর্তীতে মারধরের বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রতিরোধের মুখে এগিয়ে আসেন। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল নিজেকে বাঁচাতে হাসপাতালের একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাথরুম থেকে হিমেলকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৪ দফা দাবি ও কর্মবিরতি
এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৪টি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
১. প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হবে।
২. হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে (যা গত ১ মার্চ দাবি করা হলেও চার মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি)।
৩. ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৪. সার্জারি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগতরা এসে চিকিৎসকদের ওপর হামলা করবে, তা মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ সব বিভাগে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’
অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।’
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি।
এসইউজে/এমএএইচ/
What's Your Reaction?