মিডিয়ার ওপর ডিপ্লোম্যাসির নামে নীতিহীনতা চেপে বসেছে : পরওয়ার

বাংলাদেশের মিডিয়া হাউসগুলোর ওপর ‘ডিপ্লোম্যাসির নামে নীতিহীনতা চেপে বসেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।  রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  ‘তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কারে একটি জনমুখী ও সংস্কারমূলক রোডম্যাপ’—শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর মিডিয়া ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি।  গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘শুধুমাত্র দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে মিডিয়া আছে বলে আমার মনে হয় না।  প্রত্যেক মিডিয়ার পেছনে একটা পলিটিক্যাল ইনটেনশন আছে, না হয় করপোরেট কালো অবৈধ পুঁজি রক্ষার জন্য তারা মিডিয়ার জন্ম দিয়েছে। অথচ আমাদের যারা পূর্বসূরি, প্রাচীন সংবাদপত্র তাদের কোনো করপোরেট গ্রুপের বা কোনো ব্যবসায়ীক স্বার্থ ছিল না।’ এ ক্ষেত্রে মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত দৈনিক আজাদের উদহরণ তুলে ধরেন তিনি।   ঐকমত্য কমিশনে তথ্য ও সম্প্রচার সংস্কার নিয়ে মোট ৬২টি প্রস্তাব আলোচনা হয়েছিল উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে

মিডিয়ার ওপর ডিপ্লোম্যাসির নামে নীতিহীনতা চেপে বসেছে : পরওয়ার

বাংলাদেশের মিডিয়া হাউসগুলোর ওপর ‘ডিপ্লোম্যাসির নামে নীতিহীনতা চেপে বসেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

‘তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কারে একটি জনমুখী ও সংস্কারমূলক রোডম্যাপ’—শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর মিডিয়া ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি। 

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘শুধুমাত্র দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে মিডিয়া আছে বলে আমার মনে হয় না।  প্রত্যেক মিডিয়ার পেছনে একটা পলিটিক্যাল ইনটেনশন আছে, না হয় করপোরেট কালো অবৈধ পুঁজি রক্ষার জন্য তারা মিডিয়ার জন্ম দিয়েছে। অথচ আমাদের যারা পূর্বসূরি, প্রাচীন সংবাদপত্র তাদের কোনো করপোরেট গ্রুপের বা কোনো ব্যবসায়ীক স্বার্থ ছিল না।’ এ ক্ষেত্রে মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত দৈনিক আজাদের উদহরণ তুলে ধরেন তিনি।  

ঐকমত্য কমিশনে তথ্য ও সম্প্রচার সংস্কার নিয়ে মোট ৬২টি প্রস্তাব আলোচনা হয়েছিল উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে জনগণের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা, তথ্য অধিকার আইন ও সম্প্রচার নীতিমালার উন্নয়ন এবং অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।  নির্বাচনি ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার আর আলোর মুখ দেখেনি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার্যকর সম্পাদকীয় নীতি, জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকায় ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার, ভুয়া কনটেন্ট তৈরি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। কিন্তু এর দায় নেওয়ার মতো কোনো কাঠামো নেই। ’

তার ভাষায়, ‘প্রচলিত গণমাধ্যমে অন্তত একটি সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই লিখে দেওয়া হচ্ছে, কোনো সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ নেই।  শতাব্দীজুড়ে চলমান নৈতিক সংকটের প্রভাব এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পড়েছে।’

গণভোট ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার এখন তা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পরওয়ার।  বলেন, ‘জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে যদি বড় রাজনৈতিক দলগুলো সরে যায়, তাহলে জনগণ কাদের ওপর আস্থা রাখবে?’

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সাবেক সম্পাদক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম হৃদয়।  আরও বক্তব্য দেন একুশে টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হারুনুর রশিদ, গ্রীন ওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর ও আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow