মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশিকে অপহরণ, পাইপ বেয়ে দূতাবাসে অভিযোগ

মিশরের রাজধানী কায়রো বিমানবন্দরের বাইরে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলামকে প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও কাগজপত্রসহ আটকে রাখা হয়। পরে তিনি কৌশলে পালিয়ে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর মিশরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজের এই প্রতিনিধিকে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে মিশর প্রবাসী নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারী মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগ রয়েছে বলে তাকে জানান। একই সঙ্গে দূতাবাস থেকে ভিসার প্রয়োজন নেই জানিয়ে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসায় কায়রো আসার পরামর্শ দেন এবং সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। শরিফুল জানান, নাসিমা আক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী

মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশিকে অপহরণ, পাইপ বেয়ে দূতাবাসে অভিযোগ

মিশরের রাজধানী কায়রো বিমানবন্দরের বাইরে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলামকে প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও কাগজপত্রসহ আটকে রাখা হয়। পরে তিনি কৌশলে পালিয়ে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর মিশরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজের এই প্রতিনিধিকে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে মিশর প্রবাসী নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারী মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগ রয়েছে বলে তাকে জানান। একই সঙ্গে দূতাবাস থেকে ভিসার প্রয়োজন নেই জানিয়ে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসায় কায়রো আসার পরামর্শ দেন এবং সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

শরিফুল জানান, নাসিমা আক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রথমে শ্রীলঙ্কায় যান এবং কয়েকদিন অবস্থানের পর ১৮ জুন কায়রো পৌঁছান। কায়রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে আসা অন্য বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাকে কিছু সময় আটকে রাখা হয়। পরে নাসিমা আক্তারের লোকজন ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে নিয়ে যান বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ পাঁচ বাংলাদেশি তাকে একটি গাড়িতে তুলে একটি কফি শপে নিয়ে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর কায়রো শহর ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবেশের পরই তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং মারধরের একপর্যায়ে তার লাগেজে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

শরিফুলের দাবি, পরদিন রাতে আরও দুই বাংলাদেশি এসে তাকে খাবার ও পানি দেন। কিছুক্ষণ পর তাকে অন্য একটি গাড়িতে করে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আবারও মারধর করা হয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বলা হয়।

তিনি জানান, দেশে তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে রাত প্রায় তিনটার দিকে জানালা দিয়ে বের হয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসেন এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর কৌশলে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে আশ্রয় নেন।

বর্তমানে মো. শরিফুল ইসলাম মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow