মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের অধিক নাগরিককে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখের অধিক নাগরিককে মানবিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী এবং এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনষ্ট হয়ে থাকে। আমাদের সরকার টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২০ লাখ গ্রামীণ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশই নারী।’ তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) খাতে এক হাজার ৫১০ কোটি টাকা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিজিএফ ও কাবিখা কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের অধ

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের অধিক নাগরিককে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখের অধিক নাগরিককে মানবিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী এবং এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনষ্ট হয়ে থাকে। আমাদের সরকার টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২০ লাখ গ্রামীণ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশই নারী।’

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) খাতে এক হাজার ৫১০ কোটি টাকা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিজিএফ ও কাবিখা কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের অধিক খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখের অধিক নাগরিকের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আমির খসরু জানান, বর্তমানে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫০টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। নদীভাঙন ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় ৪৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সরকার দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ও খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ও মাটির ক্ষয়রোধকরণে চলতি অর্থবছরে কার্যক্রম নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারের প্রথম ছয় মাসে ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় দেড় হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও নালা খননের এবং রোপণকৃত চারার সংখ্যা এক লাখ নির্ধারণ করা রয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।

বড় ধরনের দুর্যোগে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের জন্য ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং নির্মাণ প্রকল্প নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের জন্য প্রায় ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার কেনা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির জন্য বেতার যোগাযোগ ১০০ ভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৭৮ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের একটি সমৃদ্ধ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, এখন দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে টোল-ফ্রি ১০৯০ নম্বরে ডায়াল করে মুহূর্তেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা যাচ্ছে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে দুর্যোগ পূর্বাভাস কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। নদীভাঙন পর্যবেক্ষণে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক মহড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও এর অভিঘাত প্রশমনে উল্লেখিত কর্মকাণ্ড জোরদার করাসহ সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও জানমাল রক্ষায় আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা ছিল।

কেআর/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow