মুখের ভাষা দিয়ে কি নিজেকে অসুস্থ করছেন? জানুন নোসিবো ইফেক্ট নিয়ে
আমরা প্রায়ই না ভেবেই বলি - `ভীষণ ক্লান্ত লাগছে’, `আমি সবসময় অসুস্থ থাকি’, `বয়স হয়ে গেছে’। এগুলো নিছক কথাবার্তা বলেই মনে হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এই কথাগুলো শরীরের ভেতরে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এই ঘটনাটির নাম নোসিবো ইফেক্ট। যেমন ইতিবাচক বিশ্বাস শরীরকে ভালো করতে সাহায্য করে (প্লাসিবো), তেমনি নেতিবাচক ভাষা ও প্রত্যাশা শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। নোসিবো ইফেক্ট আসলে কী? নোসিবো ইফেক্ট হলো এমন একটি মানসিক-জৈবিক প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো নেতিবাচক ধারণা বা ভয় শরীরে বাস্তব শারীরিক উপসর্গ তৈরি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেখা গেছে, কেউ যদি মনে করে কোনো ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে, অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই সেই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ভাষা কীভাবে শরীরকে প্রভাবিত করে? নেতিবাচক কথা বা আত্মপরিচয়ের লেবেল - যেমন `আমি অসুস্থ মানুষ’ - মস্তিষ্কে স্ট্রেস রেসপন্স সক্রিয় করে। এর ফলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। দীর্ঘ সময় এসব হরমোন বেশি থাকলে— >> রোগপ্রতিরোধী কোষের কার্যকারিতা কমে যায় >>শরীর সবসময় ফাইট অর ফ্লাইট মোডে থাকে >> বিশ্রাম ও কোষ মেরামতের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় >> ফলে সামা
আমরা প্রায়ই না ভেবেই বলি - `ভীষণ ক্লান্ত লাগছে’, `আমি সবসময় অসুস্থ থাকি’, `বয়স হয়ে গেছে’। এগুলো নিছক কথাবার্তা বলেই মনে হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এই কথাগুলো শরীরের ভেতরে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনাটির নাম নোসিবো ইফেক্ট। যেমন ইতিবাচক বিশ্বাস শরীরকে ভালো করতে সাহায্য করে (প্লাসিবো), তেমনি নেতিবাচক ভাষা ও প্রত্যাশা শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
নোসিবো ইফেক্ট আসলে কী?
নোসিবো ইফেক্ট হলো এমন একটি মানসিক-জৈবিক প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো নেতিবাচক ধারণা বা ভয় শরীরে বাস্তব শারীরিক উপসর্গ তৈরি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেখা গেছে, কেউ যদি মনে করে কোনো ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে, অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই সেই উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ভাষা কীভাবে শরীরকে প্রভাবিত করে?
নেতিবাচক কথা বা আত্মপরিচয়ের লেবেল - যেমন `আমি অসুস্থ মানুষ’ - মস্তিষ্কে স্ট্রেস রেসপন্স সক্রিয় করে। এর ফলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়।
দীর্ঘ সময় এসব হরমোন বেশি থাকলে—
>> রোগপ্রতিরোধী কোষের কার্যকারিতা কমে যায়
>>শরীর সবসময় ফাইট অর ফ্লাইট মোডে থাকে
>> বিশ্রাম ও কোষ মেরামতের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়
>> ফলে সামান্য সমস্যাও বড় মনে হয়, অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
মস্তিষ্ক ও শরীরের সম্পর্ক
মস্তিষ্ক ও শরীর আলাদা কোনো সিস্টেম নয়। ভাষা, চিন্তা ও আবেগ সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, গঠনমূলক ভাষা ব্যবহার করলে হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি উন্নত হয়, স্ট্রেস কমে এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সমস্যাটা কোথায় হয়?
আমাদের বড় ভুল হলো - ভাষাকে শুধু আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দেখা। আমরা বুঝতে পারি না, দিনের পর দিন নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করে আমরা নিজের নার্ভাস সিস্টেমকে ক্রমাগত সতর্ক অবস্থায় রাখছি।
ফলে ওষুধ কাজ করলেও পুরোপুরি উপকার পাওয়া যায় না। শরীরকে সারাতে চাইছি, কিন্তু মন দিয়ে প্রতিনিয়ত অসুস্থতার বার্তা পাঠাচ্ছি।
তাহলে করণীয় কী?
বিজ্ঞান বলছে, নিউরোপ্লাস্টিসিটির মাধ্যমে মস্তিষ্ক শেখে ও বদলায়। অর্থাৎ ভাষার ধরণ বদলালেও শরীরের প্রতিক্রিয়া বদলাতে পারে।
>> ‘আমি অসুস্থ’ না বলে বলুন – ‘আমি সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছি’।
>> সকালে ঘুম থেকে উঠে অভিযোগ দিয়ে দিন শুরু করবেন না। ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে দিন শুরু করুন।
>> নিজের চারপাশে আশাবাদী পরিবেশ তৈরি করুন।
এগুলো কোনো জাদু নয়। বরং শরীরকে অপ্রয়োজনীয় স্ট্রেস থেকে বাঁচানোর একটি বাস্তব উপায়।
নোসিবো ইফেক্ট আমাদের বলে - স্বাস্থ্য শুধু ওষুধ বা পরীক্ষার রিপোর্ট নয়। আমরা কীভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলছি, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা রোগ তৈরি করে না, কিন্তু ভুল ভাষা রোগকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল; জার্নাল অব সাইকোসোম্যাটিক রিসার্চ
এএমপি/এএসএম
What's Your Reaction?