মুন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
কুমিল্লার মুন হাসপাতালে পেট ব্যথার এক রোগীর ভুল চিকিৎসায় মোবারক হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত মোবারক হোসেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের দক্ষিণখার এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। তবে চিকিৎসকের দাবি, প্রথম অস্ত্রোপচারের পর খাদ্যনালিতে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।স্বজনরা জানান, গত ২৫ জুলাই পেট ব্যথা নিয়ে মোবারক হোসেনকে মুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৮ জুলাই তার পিত্তথলীর অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরও পেটের ব্যথা না কমায় চিকিৎসকরা অন্ত্রে প্যাঁচ লাগার কথা জানান। পরে গত ১০ আগস্ট তার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়।দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর মোবারক হোসেনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে কেবিনে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা। তাদের দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দায়িত্বে থাকা একজন ডিউটি চিকিৎসকও পরে চলে যান। স্বজনদের হিসেবে, প্রথম অস্ত্রোপচার
কুমিল্লার মুন হাসপাতালে পেট ব্যথার এক রোগীর ভুল চিকিৎসায় মোবারক হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত মোবারক হোসেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের দক্ষিণখার এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। তবে চিকিৎসকের দাবি, প্রথম অস্ত্রোপচারের পর খাদ্যনালিতে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
স্বজনরা জানান, গত ২৫ জুলাই পেট ব্যথা নিয়ে মোবারক হোসেনকে মুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৮ জুলাই তার পিত্তথলীর অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরও পেটের ব্যথা না কমায় চিকিৎসকরা অন্ত্রে প্যাঁচ লাগার কথা জানান। পরে গত ১০ আগস্ট তার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর মোবারক হোসেনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে কেবিনে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা। তাদের দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দায়িত্বে থাকা একজন ডিউটি চিকিৎসকও পরে চলে যান। স্বজনদের হিসেবে, প্রথম অস্ত্রোপচারে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধামতি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর এক্স-রে ও সিভিসি পরীক্ষা করা হয়। রক্তে ইনফেকশন থাকার বিষয়টি জানার পরও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ইব্রাহিম খলিল বলেন, ১০ দিনের মধ্যে দুইবার অপারেশন করা হয়েছে। আমার মনে হয়, সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে কি না, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সার্জন ডা. সোহেল। তিনি বলেন, তিনি সুনামগঞ্জ থেকে এসে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মুন হাসপাতালে রোগী দেখেন। মোবারক হোসেনের প্রথমে পিত্তথলীর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রোগী আবার ব্যথার কথা জানালে ডা. আমিনুল ইসলাম পরীক্ষা করে খাদ্যনালিতে ইনফেকশন দেখতে পান। এরপর দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। মৃতের ছেলে সজিব অভিযোগ করেন, প্রথম অস্ত্রোপচারের পরও বাবার ব্যথা না কমলেও যথাযথভাবে রোগ নির্ণয় না করেই দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এর আগেও মুন হাসপাতালে প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অ্যাকলাস্টা ইনজেকশনের পরিবর্তে প্রায় ৬ হাজার টাকা মূল্যের জোলেনিক ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুন হাসপাতালের কনসালটেশন বিভাগের কার্যক্রম স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
What's Your Reaction?