মুহসীন হল: আমার সোনার খাঁচার দিনগুলি
(পূর্ব প্রকাশের পর- দশম পর্ব) আমি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলাম। বোধ হয় ১৯৬৭ সালের আগস্ট মাসে তল্পিতল্পাসহ কক্ষ বুঝে নিয়ে হলে প্রবেশ করি। চার শতাধিক ছাত্রের জন্য নির্মিত ছয়তলা এই হলের আমরাই ছিলাম ‘গর্বিত প্রথম ব্যাচ’—যেন পিতামাতার প্রথম সন্তান। হলটির উত্তর পাশে দণ্ডায়মান, জমজ ভাইয়ের মতো দেখতে একই নকশা ও আকৃতির জিন্নাহ হল (বর্তমান সূর্য সেন হল)। রুম থেকে বেরিয়ে পশ্চিম পাশের ব্যালকনি থেকে রেললাইন আর তৎসংলগ্ন বস্তি চোখে পড়ত; যেন বিদ্যমান সমাজ-বিভাজনের এক নীরব প্রতিচ্ছবি। তখনও প্রায় চুনকামের গন্ধ যায়নি। এই প্রথম লিফটের ব্যবস্থা দেখে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল। হলের প্রভোস্ট ছিলেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ড. ইন্নাস আলী—সর্বদা স্যুট পরিহিত, চেইন স্মোকার, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। বেশ কয়েকজন হাউজ টিউটরের মধ্যে মনে আছে দীর্ঘদেহী, ভরাট কণ্ঠের গিয়াসউদ্দিন আহমেদ (শহীদ বুদ্ধিজীবী) এবং এ. টি. এম. জহুরুল হকের কথা। ঝাপসা স্মৃতিতে ভেসে ওঠেন বেঁটে-খাটো এমরান স্যারও। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে গিয়াসউদ্দিন স্যারকে ধরে নিয়ে যারা হত্যা করেছিল, তাদের একজন ছিল এই হলেরই ছাত্র এবং
(পূর্ব প্রকাশের পর- দশম পর্ব)
আমি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলাম। বোধ হয় ১৯৬৭ সালের আগস্ট মাসে তল্পিতল্পাসহ কক্ষ বুঝে নিয়ে হলে প্রবেশ করি। চার শতাধিক ছাত্রের জন্য নির্মিত ছয়তলা এই হলের আমরাই ছিলাম ‘গর্বিত প্রথম ব্যাচ’—যেন পিতামাতার প্রথম সন্তান। হলটির উত্তর পাশে দণ্ডায়মান, জমজ ভাইয়ের মতো দেখতে একই নকশা ও আকৃতির জিন্নাহ হল (বর্তমান সূর্য সেন হল)। রুম থেকে বেরিয়ে পশ্চিম পাশের ব্যালকনি থেকে রেললাইন আর তৎসংলগ্ন বস্তি চোখে পড়ত; যেন বিদ্যমান সমাজ-বিভাজনের এক নীরব প্রতিচ্ছবি। তখনও প্রায় চুনকামের গন্ধ যায়নি। এই প্রথম লিফটের ব্যবস্থা দেখে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল।
হলের প্রভোস্ট ছিলেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ড. ইন্নাস আলী—সর্বদা স্যুট পরিহিত, চেইন স্মোকার, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। বেশ কয়েকজন হাউজ টিউটরের মধ্যে মনে আছে দীর্ঘদেহী, ভরাট কণ্ঠের গিয়াসউদ্দিন আহমেদ (শহীদ বুদ্ধিজীবী) এবং এ. টি. এম. জহুরুল হকের কথা। ঝাপসা স্মৃতিতে ভেসে ওঠেন বেঁটে-খাটো এমরান স্যারও। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে গিয়াসউদ্দিন স্যারকে ধরে নিয়ে যারা হত্যা করেছিল, তাদের একজন ছিল এই হলেরই ছাত্র এবং আমাদের অর্থনীতি বিভাগের সহপাঠী। মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে সেই কুলাঙ্গার এখন লন্ডনে পলাতক।
এমরান স্যার ছাত্রদের লুঙ্গি পরে নিচে নামা পছন্দ করতেন না। তাঁর যুক্তি ছিল, হলের পিয়নরাও তো লুঙ্গি পরে; তাই ছাত্র ও পিয়নের মধ্যে পার্থক্য করতে তাঁর অসুবিধা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ছাত্রই তাঁর সেই ইচ্ছাকে পাশ কাটিয়ে লুঙ্গি পরেই ডাইনিং হলে ঢুকত। একটি বিশেষ জেলার কিছু ছাত্র আবার অনেক আগেই মূল দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত—কখন দরজা খুলবে সেই অপেক্ষায়। তখনকার দিনে হলের খাবার বলতে ছিল একটি বাটিতে ছোট্ট এক টুকরো মাছ বা মাংস, আর এক মন পানিতে যেন এক ছটাক ডাল! পানি আর ডাল যেন পরস্পরের বিকল্প—একটা খেলে অন্যটা না খেলেও চলে।
মুহসীন হলের উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের সিঙ্গেল সিট সংরক্ষিত ছিল মেধাবী ছাত্রদের জন্য। মাঝখানের উত্তর-দক্ষিণমুখী উইংটি ছিল মাঝারি মানের ছাত্রদের জন্য; প্রতি কক্ষে দুজন করে থাকত। প্রথমে আমি ৫৩৬ নম্বর কক্ষে উঠি। পরে ‘প্রমোশন’ পেয়ে দক্ষিণ ব্লকের ৩১৭ নম্বর সিঙ্গেল রুমে সিট পাই। পাঁচতলায় থাকাকালে জানালার ধারের খাটেই আমার বিছানা পাতা ছিল। সামান্য আওয়াজ পেলেই নিচে তাকিয়ে দেখতাম কী ঘটেছে। মশকরা করে বলা হতো, পাঁচতলায় অন্তত মশা কামড়াবে না; কারণ অতটা ওপরে ওঠার আয়ু নাকি মশার নেই। মশা বড়জোর পাঁচ-সাত দিন বাঁচে!
মুহসীন হলের নিচতলায় নামাজের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও হলের ভেতরের সবুজ-শ্যামল লনের ওপর টিনের একটি ছোট মসজিদ দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে নামাজ পড়া হতো না; কিন্তু ‘মসজিদ ভাঙা যাবে না’—এই অজুহাতে সেটি তখনও বহাল ছিল। পরবর্তীকালে শুনেছি, সেই ‘ফতোয়া’ নাকচ করে মসজিদটি সরিয়ে নেওয়া হয়। হলের দক্ষিণে ছিল টেনিস কোর্টসহ খেলার মাঠ। রাস্তার ওপাশে ছিল প্রভোস্টের বাসভবন এবং টিচার্স ক্লাব।
১৯৬৭ সালে মুহসিন হলে আবাসিক বা অনাবাসিক হিসেবে যারা প্রথম পদার্পণ করেছিল, তাদের অনেকেই পরবর্তীকালে জাতীয় পর্যায়ে স্বনামখ্যাত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। সাহিত্যজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হুমায়ূন আহমেদ, নির্মলেন্দু গুণ, মুহাম্মদ নুরুল হুদা, সাজ্জাদ কাদির এবং সম্ভবত হেলাল হাফিজ তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
অতি সুখের ছিল মুহসিন হলের জীবন—যাকে বলে, “আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম...”। ডাইনিং হলের মাসিক চার্জ ছিল ৩৫ টাকা। এর মধ্যে মাসের মাঝামাঝি একদিন থাকত উন্নত ভোজ, আর মাসের শেষে ‘ফিস্ট’। উৎসবের দিন হলে তো কথাই নেই। পনেরো দিনের প্রোটিনজনিত ঘাটতি যেন পনেরো দিন পরই পূরণ হয়ে যেত। আমি বৃত্তি পেতাম ৭৫ টাকা, আর আব্বা মানি-অর্ডারে পাঠাতেন আরও ৫০ টাকা। মাসের প্রথম কয়েক দিন স্টেডিয়ামের প্রভিন্সিয়াল রেস্তোরাঁয় বিরিয়ানি কিংবা বলাকা সিনেমা হলের প্রবেশপথের ডান পাশে নতুন চাইনিজ রেস্তোরাঁয় স্যুপ ও ফ্রাইড রাইস খেতাম। পকেটে টান পড়লে চলে যেতাম কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কর্মরত দুলাভাই নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার কাছে। জানতাম, ফেরার সময় তিনি হাতে কিছু না কিছু ধরিয়ে দেবেন, আর তিনি তা দিতেনও।
মুহসীন হল শুধু একটি আবাসিক হল ছিল না; সেটি ছিল আমাদের জীবনের এক অনন্য পাঠশালা। সেখানে যেমন বন্ধুত্বের গভীরতা ছিল, তেমনি ছিল হাসি-ঠাট্টা, দুষ্টুমি, সংগ্রাম, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের বীজ বপনের দিনগুলো। মানুষ গড়ার সেই পরিবেশ, সহপাঠীদের সান্নিধ্য, শিক্ষকদের স্নেহ, রাতের আড্ডা, বইয়ের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো কিংবা এক কাপ চায়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে তর্ক—সব মিলিয়ে মুহসীন হল আজও আমার স্মৃতির সোনার খাঁচা হয়ে আছে।
প্রথম দিকে বৃত্তির টাকা তুলতে যেতে হতো জগন্নাথ হলের কাছে প্রশাসনিক ভবনে। খুব সম্ভবত ১৯৬৮ সালের একদিন ফুলার রোড ধরে যাওয়ার সময় দেখি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পেছনে ‘এতটুকু আশা’ ছবির শুটিং চলছে। সেখানে প্রখ্যাত সুরকার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খবরের কাগজ বিক্রি করতে দেখা যায়। পেছনে বাজছিল মনিরুজ্জামানের লেখা, সত্য সাহার সুরে আব্দুল জব্বারের গাওয়া সেই বিখ্যাত গান—
“তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়?
দুঃখের দহনে, করুণ রোদনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়...”
জীবনে প্রথমবার সিনেমার পর্দায় আবির্ভূত হওয়ার প্রবল বাসনায় আমি দৌড়ে গিয়ে দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। শুটিং শেষে যাকে পেলাম, তাকেই আমার এই ‘অর্জনের’ গল্প শোনালাম। কিন্তু সবাই আমাকে হতাশ করে দিয়ে বলল, দূরবীন দিয়েও নাকি আমাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি!
মুহসিন হলে বছরে অন্তত একটি দিন অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে উদযাপিত হতো। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রত্যুষে খালি পায়ে, ব্যানার হাতে মিছিল নিয়ে আমরা গাইতাম—
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি...”
গান গাইতে গাইতে শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিতাম। কখনো ঘন কুয়াশার ভেতর, গায়ে চাদর জড়িয়ে। চারদিক থেকে ভেসে আসত সেই শোকাবহ সুর। পুরো পরিবেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকত এক অপার্থিব পবিত্রতা। সেই অনুভূতি ও দৃশ্য আজও হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
সে সময় নিয়ম ছিল, ক্রীড়াকেন্দ্রে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না, কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তাই সকাল বা বিকেলে হেঁটে মেডিক্যাল কলেজ-সংলগ্ন ক্রীড়াকেন্দ্রে গিয়ে উপস্থিতি দেখানো ছিল প্রায় বাধ্যতামূলক। হাজিরা নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন, যতদূর মনে পড়ে, হ্যাংলা-পাতলা গড়নের লম্বা ক্ষিতীশদা। পরে শুনেছি, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তিনি নিহত হয়েছিলেন।
একদিন তিনি বললেন, “এত দূর হেঁটে আসো, ব্যায়াম করলে অসুবিধা কী?”
বন্ধু সহিদুল্লাহর সঙ্গে সেই যে নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করলাম, আজও—হয়তো হালকা আকারে—সেটি চালিয়ে যাচ্ছি। তবে ওই বন্ধুর পরামর্শে বড় বড় বডিবিল্ডারদের সালাম ঠুকতে ঠুকতে একসময় জীবন জেরবার হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আবার সেই সালাম দেওয়ার নিয়মকানুনও সহিদুল্লাহই শিখিয়েছিল—ব্যায়াম করার সময় সালাম দিলে ঘুষি খাওয়ার সম্ভাবনা, আর অন্য সময় সালাম দিলে সবাই খুশি!
স্মৃতির আরশিতে ভেসে ওঠে, প্রায় প্রতিদিন বিকেলেই আমাদের গন্তব্য ছিল নিউ মার্কেটের বইয়ের দোকানগুলো। আজিমপুরের দিকের এক নম্বর গেট পেরিয়ে বাঁদিকে গেলেই সারি সারি প্রায় পঞ্চাশটি বইয়ের দোকান—আইডিয়েল লাইব্রেরি, মল্লিক ব্রাদার্স, বইঘর...। বই কেনার চেয়ে খোঁজাখুঁজির অজুহাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই কত বই পড়েছি, তার কোনো হিসাব নেই।
তবে নিউ মার্কেটের ভেতরের ‘নভেলটি’ দোকানের পেস্ট্রি, প্যাটিস, আইসক্রিম কিংবা ঠান্ডা কোক খেয়ে কলিজা ঠান্ডা রাখা ছিল অন্যতম আবশ্যকীয় কাজ। ভেতরের দিকে আরও কয়েকটি রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে খাবারের পাশাপাশি রোমান্টিক জুটিদের জন্য পর্দা-ঘেরা কেবিনের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।
গভীর রাতে পড়াশোনার ফাঁকে ঘুম তাড়াতে আমরা চা খেতে যেতাম টিচার্স ক্লাবের বিপরীতে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানে। সঙ্গে থাকত অর্থনীতি বিভাগের বন্ধু নুরুল ইসলাম খান। দীর্ঘদেহী, স্থূলকায়, সামনের দিকে স্ফীত ভুঁড়ি, নাকের নিচে ঘন কালো মোটা গোঁফ, বড় বড় চোখ—তার চেহারাই ছিল আলাদা। সে ছিল আমাদের ‘খবর-কোষ’। কোথায় কী ঘটছে, কখন ঘটছে, কেন ঘটছে—দেশি-বিদেশি সব খবর যেন তার নখদর্পণে। দুই আঙুলে নয়, পুরো মুষ্টিবদ্ধ হাতে একটার পর একটা সিগারেট টানত, আর আড্ডায় হাজির হতো তথ্য-উপাত্তসমৃদ্ধ বিশ্লেষণ নিয়ে।
চারপাশে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে, চোখ ছানাবড়া করে, নিচু স্বরে বলত, “খুব সিক্রেট খবর...” তারপর শুরু করত তার তথ্যভাণ্ডার উজাড় করে দেওয়া। এমন শারীরিক গঠনের একজন মানুষকে দেখে সাধারণত সাহসী বলেই মনে হতো; কিন্তু বাস্তবে সে ছিল গড়পড়তা মানুষের চেয়েও অনেক বেশি ভীতু।
মাঝেমধ্যে লুঙ্গি বগলদাবা করে চুপি চুপি হল ছেড়ে বেরিয়ে যেত। সামনে দেখা হয়ে গেলে চোখ কপালে তুলে চারপাশে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলত, “আমার কাছে খবর আছে, আজ রাতে হলে আক্রমণ হতে পারে, কিংবা ইপিআর হলে রেইড করতে পারে। সাবধানে থাকিস।”
তবে একটি শর্ত ছিল—সে যে ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, এ কথা কাউকে বলা যাবে না। আর এটাও বলা যাবে না যে, সে তৎকালীন জনপ্রিয় নায়িকা চম্পার দেবর।
চা খেয়ে ফিরে এসে নুরু আবার একটানা দীর্ঘ ঘুম দিত। তার যুক্তি ছিল, চা খেলেই নাকি ঘুম তাকে আরও জোরে পেয়ে বসে। কয়েক বছর আগে আমাদের সেই প্রিয় নুরু অকালেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে। তার মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীর শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে মনে হয়, মুহসিন হল শুধু একটি আবাসিক হল ছিল না; সেটি ছিল আমাদের জীবনের এক অনন্য পাঠশালা। সেখানে যেমন বন্ধুত্বের গভীরতা ছিল, তেমনি ছিল হাসি-ঠাট্টা, দুষ্টুমি, সংগ্রাম, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের বীজ বপনের দিনগুলো। মানুষ গড়ার সেই পরিবেশ, সহপাঠীদের সান্নিধ্য, শিক্ষকদের স্নেহ, রাতের আড্ডা, বইয়ের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো কিংবা এক কাপ চায়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে তর্ক—সব মিলিয়ে মুহসিন হল আজও আমার স্মৃতির সোনার খাঁচা হয়ে আছে। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, ভবনও হয়তো বদলেছে; কিন্তু সেই দিনগুলোর উষ্ণতা, আন্তরিকতা আর নির্মল আনন্দ আজও স্মৃতির ভাঁজে অম্লান হয়ে রয়ে গেছে।
লেখক : অর্থনীতিবিদ, কলামিস্ট। সাবেক উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
এইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?